দৈনন্দিন ক্ষতিকর অভ্যাস

স্বাস্থ্য নিয়ে যথেষ্ট সচেতনতা অবলম্বন করার পরও দৈনন্দিন জীবনযাত্রায় কিছু ভুল বা বদভ্যাস থেকেই যায়। ঠিক কোন অভ্যাস স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে সেটাও চিহ্নিত করা সহজ কাজ নয়।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 May 2016, 10:43 AM
Updated : 24 May 2016, 10:45 AM

স্বাস্থ্যবিষয়ক এক ওয়েবসাইট জানিয়েছে অতি সাধারণ এমনকিছু বদভ্যাস যা গোপনে স্বাস্থ্যহানী করছে প্রতিনিয়ত।

ঘুম থেকে উঠেই গোসল: সকালেচোখ খুলেই তোয়ালে বা গামছা কাঁধে নিয়ে গোসলে যাওয়ার অভ্যাস ত্যাগ করতে হবে।হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানী এমি কাডি তার ‘প্রেজেন্সে: ব্রিংগিং ইয়োরবোলডেস্ট সেল্ফ টু ইয়োর বিগেস্ট চ্যালেঞ্জ’ বইতে  জানান, ঘুম থেকে উঠে মাত্র দুইমিনিট আড়মোড়া ভাঙার মাধ্যমে শরীরে পাবেন বাড়তি স্ফুর্তি।

প্রতিদিন শ্যাম্পু: চুল যতবড় আর ঘনই হোক না কেনো, একদিনেই নোংরা হয়ে যায় না। তাই একটা দিন চুলকে শ্যাম্পুথেকে মুক্তি দিন। প্রতিদিন শ্যাম্পু করলে মাথার ত্বকের প্রাকৃতিক তেল ধুয়ে যায়। আরযে তেলকে প্রয়োজনীয় বলা হয় তা নিঃসন্দেহে চুলের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।

কলা বাদামি হলেইফেলে দেওয়া: কলার রং বাদামি হওয়া মানেতা পঁচে যাওয়া নয়। বরং এটাই খাওয়া জন্য সর্বাপেক্ষা উপযুক্ত। লিভস্ট্রং ডটকমসাইটটির মতে, হলুদ, সবুজ কিংবা কাঁচাকলার চাইতে বাদামি রংয়ের কলা বেশি মিষ্টি, সুস্বাদুএবং পুষ্টিগুণ সমৃদ্ধ।

কাজের তালিকা: প্রতিদিনেরগুরুত্বপূর্ণ কাজগুলোর তালিকাটি বেশিরভাগ সময় সুবিধার চাইতে অসুবিধাই বেশি সৃষ্টিকরে, এমনটাই দাবি সময় ব্যবস্থাপনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ কেভিন ক্রুজের।

ডেইলিমেইলকে এই বিষেশজ্ঞ বলেন, “এর কারণ হল তালিকার মাত্র প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ বাস্তবেরুপ নেয়। ফলে বাকি কাজগুলো শুধু তালিকাতেই থেকে যায়। পাশাপাশি একটা কাজ শেষ করে‘টিক মার্ক’ করা মানসিক চাপ বাড়ায়। তাই তালিকা ছুড়ে ফেলে কিছুক্ষণ শান্ত মাথায়চিন্তা করে গুরুত্ব অনুযায়ি কাজ ভাগ করে নিন।”

অপ্রয়োজনীয় কেনাকাটা: অন্যেরহাতে কিছু একটা দেখে আপনার মনে হল, ইসস আমারও যদি থাকত। শপিং সেন্টারে কিংবাঅনলাইনে সেই পণ্যটাই একদিন পেয়ে গেলেন, তৎক্ষনাত কেনার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেললেন। থামুন,ভেবে দেখুন, ওই পণ্য কি আপনার আসলেই প্রয়োজন?

বেশিরভাগসময়ই দেখবেন প্রয়োজন নয়, বরং তা সাময়িক একটা ভালোলাগা ছিল। তাই অপ্রয়োজনীয় খরচ নাকরে প্রয়োজনীয় খরচের জন্য অর্থ সঞ্চয় করা বুদ্ধিমানের কাজ।

অনলাইনে কৌতুক: বন্ধু কিংবা সহকর্মীর সঙ্গে একটুখানি কৌতুক করারউদ্দেশ্য নিয়ে সরল মনে অনলাইনে একটি টেক্সট করলেন। লেখাটা অপরপক্ষের কাছে পৌছালেও আপনারওই রসবোধটা প্রকাশ হল না। ফলে হিতে বিপরীত হয়ে সম্পর্ক নষ্ট হল।

ফোর্বস ডটকমের মতে, অনলাইনে কারও কথাকে ভুল বোঝাঅত্যন্ত সহজ একটি বিষয়, কারণ আপনার কথার সঠিক অর্থ বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য আপনার অতিপ্রয়োজনীয় ভাবের প্রকাশ সেখানে নেই। তাই অনলাইনে কিংবা এসএমএস-এ কথা পরিষ্কারভাবে লিখতেহবে।

সব কাজে তাড়াহুড়া: তাড়াহুড়ারকাজ কখনও ভালো হয় না। আবার এক কাজ শেষ না করেই অন্য কাজে হাত দিলে কোনো কাজই ভালোমতো হয় না। তাই যখন যা করবেন তা মনোযোগ দিয়ে করতে হবে। এক্ষেত্রে আপনার অলস বন্ধুকেঅনুসরণ করতে পারেন। অলস ব্যক্তিরা মানসিক চাপ না নিয়ে শান্তভাবে কাজ করে। ফলেদেরিতে হলেও কাজ ভালো হয়।

ছবি:রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক