বিচ্ছেদ ঠেকাতে

সম্পর্কের মধ্যে কত রকমের কঠিন বাঁকই না আসে! দুজনে মিলে চেষ্টা করলে কঠিন বাঁকেও অটুট থাকে সম্পর্ক।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 March 2016, 11:34 AM
Updated : 18 July 2016, 10:03 AM

বিভিন্ন টানাপোড়নে ছিঁড়ে যায় দুজনের মধ্যেকার সুন্দর সম্পর্ক। অথচ একদিন কত ভালোবাসা নিয়েই না দুজনে ঘর বেঁধেছিল!

তালাক বা বিচ্ছেদ এড়াতে সম্পর্কবিষয়ক একটি ওয়েবসাইটে বেশ কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়। যেগুলো অনুসরণে দাম্পত্যজীবন হতে পারে মাখনের মতো মসৃণ।

সঙ্গী যেভাবে চায় সেভাবেই ভালোবাসুন: দুজন মানুষ যতই একসঙ্গে থাকুক তারা কখনও এক নয়। তাদের চাওয়া, পাওয়া, স্বপ্ন কোনো কিছুই এক নয়। তাই একে অপরের প্রতি প্রত্যাশা রাখলেও সেটা যেন চাপ হয়ে না ওঠে এটা লক্ষ্য করা খুব দরকার। তাই একজনের জন্মদিনে অন্যজন উপহার দেওয়ার সময় সেই উপহারটিই বাছতে হবে যেটা সে পেতে চাচ্ছে। এমন কিছু নয় যা তার কাছ থেকে অন্যজন আদায় করতে চাচ্ছেন। যখন কাউকে কিছু চাপিয়ে দেওয়া হয়, তখন চাপটা প্রত্যাশা পূরণের পথে একটা বাধাও হয়ে যায়। বরং পছন্দ মতো কাজ করলেই এর বিনিময়ে নিজের পছন্দের প্রতি সম্মান পাওয়া যায়।

তুচ্ছ বিষয় থাকুক তুচ্ছ: অনেক সময়ই নিজেদের মধ্যে টানাপোড়নে আছে এমন দম্পতিদের সঙ্গে কথা বললে শোনা যায় একজন বলছে, ও যদি এটা না করে তবে আমি ওটা করব/করব না বা এটা যদি হয় তবে ওটা করব/করব না।

দোষারোপের প্রক্রিয়াটা চলমান। এর গভীরে গেলে দেখা যাবে ভিতরে আসলে কিছুই নেই, খুব তুচ্ছ কোনো বিষয় নিয়ে একজন আরেক জনের উপর শর্ত আরোপ করে বসে আছে।

হতে পারে কারও সঙ্গী কাপড় গুছিয়ে রাখতে পারে না। অন্যজন প্রতিনিয়ত এই দোষ না ধরে তাকে সাহায্য করতে পারেন। দোষ ধরা একটা ব্যাধি যেটা অন্য সবগুনের কথা বেমালুম ভুলিয়ে দেয়। হয়ত এখনই সঙ্গী এক কাপ দারুণ চা নিয়ে হাতে দিয়েছে। সেটা হাতে নিয়েই বলা হচ্ছে যে সে কাপড় গুছাতে পারে না অথবা অন্য কিছু। যে কষ্ট করে চা নিয়ে আসলো সে চায়ের প্রশংসা আশা করেছিল উল্টা দোষ শুনলে তার কখনও ভালো লাগবে না।

তুচ্ছ কিছু বিষয় এড়িয়ে সুন্দর কিছু নিয়ে এগিয়ে গেলেই সম্পর্ক ভালো থাকবে।

সাপ্তাহিক লক্ষ্য পূরণ: শুনতে অদ্ভুত লাগলেও অফিসের মতো যদি সম্পর্কেও ছোট ছোট লক্ষ্য তৈরি করে সেগুলো সফল করার পেছনে দৌড়ালে সম্পর্ক অনেক ভালো থাকে। ছোট লক্ষ্যগুলো হতে পারে ঘরের কোনও কাজ, সংসারে নতুন কোনো জিনিস কেনা অথবা ছুটির জন্য টাকা জমানো।

এটা একটা ভীষণ ভালো পদ্ধতি যেখানে দুজন মিলে আলাপ করে সমস্যার মূলে পৌঁছানো যায়। সেটার সম্ভাবনা খুঁটিয়ে দেখা যায় এবং অবশেষে সেটা সমাধানের পথ বের করে সেটা সমাধান করা যায়।

বিশেষজ্ঞরা বলেন এটা সম্পর্ককে একটা চ্যালেঞ্জ দেয় যেটা একসঙ্গে পূরণ করতে পেরে তারা যে শুধু শিহরিত হয় তাই নয়, একজন আরেকজনের সঙ্গে আলাপ করার সুযোগ পায় এবং পরস্পরকে বোঝার একে অন্যের প্রতি সহানুভূতিশীল হওয়ার সুযোগও পায়।

এক সঙ্গে কিছু করুন: সবসময় নিজেদের মধ্যে সম্পর্কের মাত্রা বাড়াতে আর শিখতে চেষ্টা করতে হবে।

পুরো বিষয়টা শুধু একসঙ্গে মুভি দেখা বা রাতের খাওয়ার একসঙ্গে করার মধ্যে রাখলে একঘেঁয়েমি চলে আসতে পারে। এর চেয়ে দুজনে মিলে করা যায় এমন কোনো কাজ করলে বন্ধনটা আরও দৃঢ় হয়।

যেমন- হতে পারে দুজন কোনো বিষয়ে একসঙ্গে পড়াশুনা বা কোনো বিষয়ে কোর্স করা শুরু করলেন। বা কোনো খেলায় অংশ নিলে, একসঙ্গে পাহাড় চড়লেন।

অথবা সঙ্গী কোনো কাজে জড়ালে তাকে সাহায্য করলেও সম্পর্কের উন্নয়ন হবে।

ছবি: রয়টার্স।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক