শিশুদের জন্য মুখরোচক খাবার

সাত মাস থেকে তিন বছরের শিশুর খাবারের সহজ রেসিপি।

লাইফস্টাইল ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Nov 2015, 10:21 AM
Updated : 2 August 2016, 10:59 AM

দিয়েছেন আনিসা হোসেন।

মুরগির খিচুড়ি

উপকরণ

মুরগির স্টক তৈরি: মুরগি মাংস ৪,৫ টুকরা। বড় পেঁয়াজ কয়েক টুকরা বড় করে কাটা। গাজর কয়েক টুকরা বড় করে কাটা। আলু কয়েক টুকরা বড় করে কাটা। চিকেন স্টক কিউব ১টি। আদা কাটা এক টুকরা। লবণ একটু৷

হাঁড়িতে ছয় কাপ পরিমাণ পানি দিয়ে মুরগির সঙ্গে বাকি সব উপকরণ মিশিয়ে এক ঘণ্টা জ্বাল দিন৷ যাতে মাংসের হাড় থেকে সব রস বের হয়ে যায়৷ পানি শুকিয়ে অর্ধেক হলে নামিয়ে চালনিতে ছেঁকে পানিটুকু নিতে হবে৷ মুরগির মাংসগুলো হাড় থেকে আলাদা করে হাত দিয়ে ছাড়িয়ে ছোট ছোট টুকরা করে রাখুন। এবং গাজর, আলুগুলো তুলে রাখুন৷

খিচুড়ি তৈরি: পোলাওয়ের চাল ১ কাপ। পেঁয়াজকুচি অল্প। ১ কোয়া রসুনকাটা। গরম মসলা, এলাচ, দারুচিনি। নারিকেল দুধ আধা কাপ। লবণ প্রয়োজন মতো। তেল বা ঘি ৪ টেবিল-চামচ।

মুরগির খিচুড়ি।

পদ্ধতি:
হাঁড়িতে তেল দিয়ে কাটা পেঁয়াজ, রসুন গরম মসলা কিছুক্ষণ ভেজে নিন। ধুয়ে রাখা চাল যোগ করে দিয়ে কয়েক মিনিট সব ভাজুন। আগে রান্না করা চিকেন স্টক চালের সঙ্গে দিয়ে দিন এবং রান্না করা মাংসগুলো গাজর, আলু এবং পরিমাণ মতো লবণ দিয়ে নেড়ে দিন।

তিন থেকে চার বার ফুটে আসলে ঢেকে দিন এবং চুলার মাঝারি আঁচ রেখে রান্না করুন৷ খিচুড়ি মাঝে মাঝে নেড়ে দেবেন৷ খিচুড়ির চাল সিদ্ধ হয়ে ঘন হয়ে আসলে নারিকেল দুধ দিয়ে আবার কিছুক্ষন রান্না করুন।

রান্না হলে নামিয়ে নিন খিচুড়ি৷ খিচুড়িতে যে মুরগির মাংস ছিল তা রান্নার সময় একেবারে গলে মিশে যাবে৷ এতে শিশুর মুখে বাঁধবেনা৷

নোট- ছয় মাসের পর থেকে একবারে চার/পাঁচ বছর বয়সি শিশুদেরও এই খিচুড়ি খাওয়াতে পারেন৷ তবে এক বছরের নিচে বয়স হলে নারিকেল দুধ দেবেন না এবং খিচুড়িটা একেবারে গলিয়ে নেবেন৷ চাইলে সিদ্ধ মুরগির মাংস একবার বেটে দিতে পারেন। এতে শিশুদের খাবারটা গিলতে সমস্যা হবে না।

এছাড়া চিকেন স্টক কিউব যদি না দিতে চান, কোনো অসুবিধা নাই৷

বানানা ওটস

উপকরণ: ওটস ১/৩ কাপ। দুধ ১ কাপ। সাগর কলা একটি। টাটকা বাদামগুঁড়া ১ টেবিল-চামচ। যে কোনো সিরিয়াল (কর্ন ফ্ল্যাক্স) গুঁড়া করা ২ টেবিল-চামচ। চিনি ১ টেবিল-চামচ।

পদ্ধতি: হাঁড়িতে দুধের সঙ্গে ওটস, চিনি দিয়ে নাড়তে থাকুন। ফুটে উঠলে গুঁড়া করা বাদাম আর সিরিয়াল দিয়ে নাড়তে থাকুন।

আলাদা একটি বাটিতে কলা, কাঁটাচামচ দিয়ে চটকিয়ে নিন৷ এবার চুলা থেকে হাঁড়ি নামিয়ে চটকানো কলা রান্না করা ওটসের সঙ্গে দিয়ে নেড়ে মিশিয়ে নিন৷ খেয়াল রাখুন যাতে কোনো দানা দানা না থাকে৷

বানানা ওটস।

কলা বাদ দিয়ে আপেলও দিতে পারেন৷ তবে আপেল দিয়ে করলে প্রথমে একটু পানি দিয়ে সিদ্ধ করে চালনিতে চেলে আপেল পিউরি করে নিতে হবে৷ যখন বাদাম এবং সিরিয়ালগুঁড়া দেবেন তখন আপেল পিউরিটা মিশিয়ে দিয়ে রান্না করবেন৷

নোট- তিন মাস বয়সের শিশুর এই খাবার সকালের নাস্তা হিসাবে খাওয়াতে পারেন। তবে ছয় মাস থেকে এক বছরের শিশুর জন্য রান্না করার সময় বাদাম এবং সিরিয়াল দেবেন না। শুধু ওটস, কলা, দুধ এবং চিনি দিয়ে বানিয়ে খাওয়াবেন৷

সমন্বয়ে: ইশরাত মৌরি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক