টিকটিকির টিক্ টিক্

এক গ্রামে গল্টু নামের এক ছেলে ছিল। সে অনেকটাই অলস প্রকৃতির। 

প্রিতময় সেনবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 July 2022, 10:17 AM
Updated : 2 July 2022, 10:21 AM

পরিশ্রম না করেই সফলতা ছুঁতে চায় গল্টু। গ্রামের মধ্যে তাদের একটা ছোট বাড়ি ছিল৷ মা, বাবা আর ভাইকে নিয়ে তার পরিবার। তার মা খুবই কুসংস্কারাচ্ছন্ন।

তাদের বাড়িটি ছিল বেশ পুরনো। অনেকদিন মেরামত করা হয়নি। গল্টুর বাবা ছিল সেই গ্রামের একজন দিনমজুর। দিনে এনে দিনে খায়। তাদের বাড়িটি মেরামত করতে গেলে যা খরচ হবে, তা তাদের সাধ্যের বাইরে। যার কারণে বাড়ি মেরামতের চিন্তা করাও একপ্রকার বোকামি।

পুরনো হওয়ায় বিভিন্ন পোকামাকড়ের উৎপাত ঘটে তাদের বাড়িতে। তার মধ্যে ছিল টিকটিকি, যা কিছু সময় পরপর টিক্ টিক্ শব্দ করে। গল্টুর মা বিশ্বাস করেন, কোনো কথা বলার পর টিকটিকি যদি টিক্ টিক্ শব্দ করে তাহলে ওটা সত্যিই ঠিক।

গল্টু এবার নবম শ্রেণিতে উঠেছে। পড়াশোনায় কিছুটা ভালো হলেও অলসতার কারণে সে পড়তে বসতে চায় না। পড়তে বসলেই নাকি তার ঘুম আসে। তাও পরিবারের কথা ভেবে, তার মায়ের কথা ভেবে সে পড়াশোনা চালিয়ে যায়। তার মনে জেদ আসে যে, পড়াশোনা ভালোভাবে করলে একদিন সে প্রতিষ্ঠিত হতে পারবে। তার পরিবারে সুখ-শান্তি এনে দিতে পারবে।

একদিন গল্টুর বন্ধুরা মিলে ঠিক করলো তারা সবাই পিকনিকে যাবে৷ গল্টু তার মাকে বলতে এলো, তার বন্ধুরা পিকনিকে যাচ্ছে। গল্টুও যেতে চায়, তাই কিছু টাকার প্রয়োজন।

গল্টুর মা বললো, এখনতো আমাদের এত সামর্থ্য নেই যে তোকে পিকনিকে যাওয়ার জন্য টাকা দেবো! তবে আমি বলছি, একদিন তুই অনেক বড় হবি, তুই টাকার উপর ঘুমাবি।

সঙ্গে সঙ্গে টিকটিকি টিক্ টিক্ শব্দ করলো এবং মা বিশ্বাস করতে লাগলো, এটা সত্যি হবে।

গল্টু এদিকে খুশিতে পড়াশোনাকে বিদায় জানিয়ে দিলো। সে ভাবতে লাগলো, আমিতো একদিন সত্যি সত্যিই বড় মানুষ হবো। তাহলে এই পড়াশোনা করে কী হবে!

কিছুদিন পর গল্টুর পরীক্ষা শুরু হলো এবং পরবর্তীতে ফলাফল প্রকাশ পেলো। তখন দেখা গেলো, গল্টু পরীক্ষায় সবার চেয়ে কম নম্বর পেয়েছে।

প্রিতময় সেন: একাদশ শ্রেণি, খাগড়াছড়ি সরকারি কলেজ

কিডজ পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com । সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক