তলস্তয়ের শিশুকাহিনী: অজানা অনুভূতির সন্ধান

বই: শিশুকাহিনী, লেখক: লেভ তলস্তয়, বঙ্গানুবাদক: ননী ভৌমিক, পৃষ্ঠাসংখ্যা: ৪৬, প্রকাশনা: প্রগতি প্রকাশন, বর্তমানে দ্যু প্রকাশন থেকে পুনঃমুদ্রিত

শাফায়েত হোসেন রুবেলবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 July 2021, 07:12 AM
Updated : 6 July 2021, 07:12 AM

বিশ্বসাহিত্যে স্বর্ণাক্ষরে লেখা একটি নাম লেভ তলস্তয় (১৮২৮-১৯১০)। সাহিত্যকর্মে নোবেল প্রাপ্তির জন্যও একাধিকবার প্রস্তাবিত হয়েছিলেন এ রুশ লেখক। বড়দের পাশাপাশি শিশু-কিশোরদের জন্য তিনি রচনা করেছেন কিছু অমর সাহিত্য।

‘শিশুকাহিনী’ তেমনই একটি অমূল্য শিশুতোষ গল্পগ্রন্থ। বইটিকে মোট তেরোটি মজার মজার ক্ষুদ্রকায় গল্প দিয়ে সাজিয়েছেন তলস্তয়। গল্পগুলো হলো: বেড়ালছানা, খুকি আর ব্যাঙের ছাতা, আঁটি, পাখি, মিথ্যাবাদী, দুই সঙ্গী, রাজহাঁস, হাতি, চড়ুই আর দোয়েল, ঈগল, হাঙর, ঝাঁপ, সিংহ আর কুকুর। আর এ গল্পগুলোকে মজার মজার ছবি দিয়ে সাজিয়েছেন চিত্রকর অ্যালেক্সি পাখোমভ, যা গল্পগুলোকা শিশু-কিশোরদের কাছে অধিকতর প্রাণবন্ত করে তুলেছে। বইটি শিশুদের জন্য যুতসই শব্দচয়নে বাংলায় অনুবাদ করেছেন ননী ভৌমিক।

লেভ তলস্তয় খোকাখুকু, পশুপাখি সবার গল্পগুলো বলেছেন একেবারে একটানে, প্রাণবন্ত-প্রাঞ্জল ভঙ্গীতে। সব গল্প একরকম নয়। অজানা সব অনুভূতির সন্ধান আছে একেকটি গল্পে। কী যেন বলতে চেয়েছেন প্রতিটি গল্পে, কিন্তু শুধুই ছেঁকে নেওয়া গল্পটা ছাড়া যেন একটি বাড়তি লাইনও তার বলার ইচ্ছে নেই। প্রতিটি গল্পই যেন ফ্রেমে বাঁধানো এক টুকরো ছবি, ফ্রেমের বাইরে তিনি কিচ্ছু রাখেননি নিজে। আমাদেরই পড়ে পড়ে ভেবে নিতে হবে বাড়তিটুকু।

গল্পগুলো বর্ণনায় কোনো ধরণের জটিলতা অবলম্বন করেননি তলস্তয়। ছোট ছোট বাক্যে অল্প কথায় গল্পগুলো এতো সহজবোধ্য ও প্রাঞ্জল ভাষায় তিনি লিখেছেন যে পড়লে মনে হয় তার কাছে বসে তার মুখ থেকেই শুনছি গল্পগুলো। মোটকথা, শিশুরা যাতে অস্বস্তিতে পড়ে কিংবা বুঝতে অসুবিধা হয়- এমন কোনো ভাষা তিনি প্রয়োগ করেননি বইটিতে। গল্পগুলো সহজ-সরল হলেও কেউ যদি বিশেষ করে প্রাপ্তবয়স্করা একটু মনোযোগ দিয়ে পড়েন তাহলে বুঝবেন যে প্রতিটি গল্পই যেন কোনো বার্তা বহন করছে। প্রতিটি গল্পেই একটি নিগূঢ় অর্থ অন্তর্নিহিত রয়েছে।

বইয়ের ভেতরের একটি অলঙ্করণ

যেমন: সংক্ষেপে ‘রাজহাঁস’ গল্পটি হলো- এক ঝাঁক রাজহাঁস রাতে সমুদ্রের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। একটি হাঁস ক্লান্ত হয়ে ঝাঁক থেকে পড়ে গেল সমুদ্রে। সকাল হলে হাঁসটি আবার সমুদ্র থেকে উঠে উড়তে লাগলো তার গন্তব্যে। আপাতদৃষ্টিতে গল্পটিকে তেমন অর্থবহ মনে না হলেও গল্পটি নিয়ে একটু সূক্ষ্ম চিন্তা করলেই বোঝা যায় যে এটি একটি বিশেষ বার্তা বহন করছে। তা হলো- জীবনের লক্ষ্যে পৌঁছানোর পথে বাধা-বিঘ্ন থাকবেই। তাই বলে হাল ছাড়লে চলবে না। চেষ্টা চালিয়ে যেতে হবে। পাঠকভেদে এ বার্তা ভিন্নও হতে পারে।

তাছাড়া ‘মিথ্যাবাদী’ আর ‘দুই সঙ্গী’- এ দুটি গল্পের অন্তর্নিহিত ভাব তো আমাদের সবারই কমবেশি জানা। অন্যান্য গল্পগুলোও একটু মনোযোগ সহকারে পড়লে সহজেই ধরা পড়বে তার ভেতরের ভাব বা বার্তা।

‘সিংহ আর কুকুর’ গল্পটা একটু ভিন্নরকম। সেখানে দেখা যায় একটা সিংহ প্রথমে একটা কুকুরকে খুব ভালোবাসে। কিন্তু শেষমেশ ভিন্ন আরেকটি কুকুরকে নাগালে পেয়ে সে টুকরো টুকরো করে ফেলে। এ গল্পটি নিয়েও সূক্ষ্ম চিন্তা করলে হয়তো পাওয়া যাবে কোনো বিশেষ ইঙ্গিত। বইটি শিশুমনে আনন্দ সঞ্চারের পাশাপাশি বড় পাঠকদের মনকেও আলোড়িত করতে সক্ষম।

লেখক: শিক্ষার্থী, দ্বাদশ শ্রেণি, কাদিরদী কলেজ, বোয়ালমারী, ফরিদপুর

কিডস পাতায় বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক