মারিও বার্গাস জোসার গল্প: স্কুলদিনের প্রথম প্রেম

বই: ফজিও ইয়ে লা লুনা/ চাঁদের দেশে ফজিও, লেখক: মারিও বার্গাস জোসা, অলঙ্করণ: মার্তা চিচত জুইজ, প্রকাশক: আলফাগুয়ারা ইনিফানটিল-মেক্সিকো, প্রকাশকাল: ২০১০, শিশু-কিশোরদের জন্য এটিই লেখকের প্রথম বই। 

মাজহার সরকারমাজহার সরকার
Published : 1 Feb 2019, 06:34 AM
Updated : 13 Sept 2022, 07:25 AM

দক্ষিণ আমেরিকার একটি দেশ পেরু, তার রাজধানী লিমা। সেই লিমা শহরের এক স্কুলে পড়াশোনা করে ফজিও।

ফজিও যে স্কুলের ছাত্র সেই স্কুলে পড়ে অসম্ভব সুন্দরী এক মেয়ে, তার নাম নেরিদা। একসঙ্গে পড়াশোনা করে ফজিও আর নেরিদা।

একদিন ফজিও পড়লো ভারি মিষ্টি এক বিপদে। বিপদ আবার মিষ্টি হয় নাকি! কখনও কখনও হয় হয়তো। ফজিওর বিপদটা ছিলো তেমনই মিষ্টি। এখন তার বিপদটা কী জানতে চাও? তাহলে শোনো।

ফজিও তার সুন্দরী ক্লাসমেট নেরিদার প্রেমে পড়ে গেছে। এখন এই ভালোবাসার কথা সে কীভাবে নেরিদাকে বলবে?

আচ্ছা যাই হোক, ফজিও কিন্তু মোটেও ভীতু টাইপের ছেলে নয়, মেয়েদের সঙ্গে কথা বলতে তার একটুও হাত-পা কাঁপে না, সে যতো সুন্দরীই হোক না কেনো।

একদিন দুদিনের চেষ্টায় একদিন ফজিও ঠিকই নেরিদার সামনে গেলো। নেরিদা তখন স্কুলের মাঠে বেঞ্চিতে বসে তার বান্ধবীদের সঙ্গে গল্প করছিলো।

নেরিদা তার কাছে গিয়ে হরহর করে সব বলে দিলো। জানিয়ে দিলো তার ভালোবাসার কথা।

কিন্তু যেমন তেমন নয় সেসব কথা, তোমরা হয়তো ভাবছো ফজিও নেরিদার সামনে রোবটের মতো দাঁড়িয়ে বলেছে, ‘নেরিদা, আমি তোমাকে ভালোবাসি’, আর তা শুনে নেরিদার চোখ দুটো রাগে ফেটে পড়েছে। না। ঘটনা মোটেও এতো সাধারণ নয়। ফজিও যে কথাটা বললো তা শুনে তোমরাও হয়তো লজ্জা পাবে। শোনো তাহলে কী বলেছে ফজিও।

ফজিও বলেছে, ‘নেরিদা, আমি তোমার গালে একটা চুমু খেতে চাই’।

এ কথা শুনে নেরিদা মোটেও ঘাবড়ে যায়নি। সেও টপাটপ পাল্টা উত্তর দিয়েছে, ‘আচ্ছা যাও, এক শর্তে আমাকে তুমি চুমো খেতে পারো’।

কী সেই শর্ত? ফজিও জিজ্ঞেস করলো। নেরিদা বললো, ‘আকাশের ওই চাঁদটা আমাকে পেড়ে দিতে হবে’।

হা খোদা! আকাশের চাঁদ কখনও পেড়ে আনা সম্ভব? আমগাছে উঠে আম পাড়া যায়, জামগাছের জাম, লিচু পাড়া যায়, এমনকি ডাবও পাড়া যায়। কিন্তু চাঁদ এতো উঁচুতে থাকে, তাকে কী করে পৃথিবীতে পেড়ে আনা সম্ভব!

এদিকে লিমার আকাশ সব সময়ই মেঘাচ্ছন্ন থাকে, রাতের বেলায়ও চাঁদটা স্পষ্ট দেখা যায় না। আমরা যখন ভাবছি এটা কোনোভাবেই সম্ভব নয়, ফজিও ততক্ষণে অনেক ভাবনা শুরু করে দিলো। হাল ছাড়ার পাত্র সে নয়। বাড়ি এসে সে আরও ভাবনা-চিন্তা করতে লাগলো। ভাবতে ভাবতে সে হেঁটে চলে গেলো বাগানের ভেতর। বাগানে গিয়েই তার মাথায় এলো দারুণ এক বুদ্ধি। কী বুদ্ধি! শোনো তাহলে।

পরদিন স্কুলে গিয়ে নেরিদাকে ফজিও জানালো তার শর্তে সে রাজি। কিন্তু এর জন্য একদিন রাতে ফজিওকে নেরিদার বাড়িতে নিতে হবে। নেরিদা রাজি হয়ে গেলো, তার বাড়িতে যেতে আমন্ত্রণ জানালো ফজিওকে।

সেদিন রাতে নেরিদার বাবা-মা দুজনই এক আত্মীয়ের বাসায় বেড়াতে গিয়েছিলেন, তাই বাসা ছিলো ফাঁকা। ফজিও ও নেরিদা বাগানে গেলো। খোলা আকাশের নিচে একটা বড় গামলায় পানি ঢালতে শুরু করলো ফজিও, আর নেরিদাকে কাছে ডেকে নিয়ে সেই পানির দিকে তাকাতে বললো।

দেখে তো নেরিদা অবাক, ওমা! গামলার জলে টলটল করছে চাঁদ। খুশিতে নিজের গালটা ফজিওর দিকে বাড়িয়ে দিলো নেরিদা, আর ফজিও তার পাওনা চুমুটা খেয়ে নিলো, চুকুস করে শব্দ হলো একটা, আমরা সে শব্দ শুনতে পেলাম।

কিডজ ম্যাগাজিনে বড়দের সঙ্গে শিশু-কিশোররাও লিখতে পারো। নিজের লেখা ছড়া-কবিতা, ছোটগল্প, ভ্রমণকাহিনি, মজার অভিজ্ঞতা, আঁকা ছবি, সম্প্রতি পড়া কোনো বই, বিজ্ঞান, চলচ্চিত্র, খেলাধুলা ও নিজ স্কুল-কলেজের সাংস্কৃতিক খবর যতো ইচ্ছে পাঠাও। ঠিকানা kidz@bdnews24.com। সঙ্গে নিজের নাম-ঠিকানা ও ছবি দিতে ভুলো না!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক