স্বাস্থ্যের ডিজিকে বৈঠকে না পেয়ে ক্ষোভ সংসদীয় কমিটির

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবুল বাশার মোহাম্মদ খুরশীদ আলম বৈঠকে উপস্থিত না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছে সংসদের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 20 June 2021, 12:59 PM
Updated : 20 June 2021, 12:59 PM

রোববার সংসদ ভবনে কমিটির এই বৈঠকে করোনাভাইরাস মহামারীকালে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের টিকাসহ নানা কেনাকাটা নিয়ে আলোচনা হয়।

সংসদীয় কমিটির এক সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “আজকে অনেক বিষয় নিয়ে আলোচনা ছিল। কিন্তু ডিজি বৈঠকে আসেননি।

“কমিটির সভাপতি এ নিয়ে ডিজির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রণালয়কে পরামর্শ দিয়েছেন। যদি ব্যবস্থা নেওয়া না হয়, তবে বিষয়টি সংসদে অধিবেশনে উত্থাপন করা হতে পারে।”

কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “স্বাস্থ্যের ডিজি বৈঠকে না আসায় ক্ষোভ প্রকাশ করা হয়েছে। বিষয়টি কমিটির সভাপতি বিস্তারিত বলতে পারবেন।”

কমিটির সভাপতি, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলার জন্য যোগাযোগ করা হলে কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. খুরশীদ আলম

কেন অনুপস্থিত ছিলেন, সে বিষয়ে খুরশীদ আলমের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

শেখ ফজলুল করিম সেলিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে কমিটির সদস্য স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক, আ ফ ম রুহুল হক, আব্দুল আজিজ, সৈয়দা জাকিয়া নুর, রাহগির আলমাহি এরশাদ (শাদ এরশাদ) এবং মো. আমিরুল আলম মিলন অংশ নেন।

বৈঠকে কোভিড-১৯ মহামারী শুরুর পর এ পর্যন্ত কত টাকার মাস্ক ও কিট কেনা হয়েছে, টিকা সঙ্কট মোকাবেলায় কী কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, টিকা কোন প্রক্রিয়ায় কেনা হচ্ছে, কোভিড-১৯ মোকাবেলায় আইসিইউ ও অক্সিজেনের বর্তমান অবস্থা ও সম্ভাব্য সঙ্কট থেকে উত্তরণ নিয়ে আলোচনা করা হয়।

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে মারা যাওয়া চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যকর্মীদের জন্য প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত প্রণোদনা এখনও না পৌঁছানোয় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন সংসদীয় কমিটির সদস্যরা।

কমিটির সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, “অনেকে আমাদের কাছে অভিযোগ করেছে যে, তারা প্রণোদনা পাননি। অনেক ধরনের জটিলতা তৈরি হচ্ছে।

“এই মানুষগুলো মারা গেছে। তাদের পরিবার নিঃস্ব। তারা যদি প্রণোদনসা ঠিকমত না পায় পরিবার কষ্টে থাকছে। আমরা মন্ত্রণালয়কে বলেছি দ্রুত এই প্রণোদনা যাতে সংশ্লিষ্টদের পরিবারের কাছে পৌঁছায়।”

বৈঠকে অংশ নেওয়া সংসদ সচিবালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, কমিটির কাছে অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে এ বিষয়টি আলোচনা হয়। মন্ত্রণালয় নানারকম আমলাতান্ত্রিক জটিলতার কথা তুলেছে। কমিটি বলেছে, এসব জটিলতা দূর করাই মন্ত্রণালয়ের কাজ।

সরকারিভাবে টিকা উৎপাদনের চিন্তা

কমিটির বৈঠকের কার্যপত্র থেকে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে যুক্তরাজ্যের ইউনিভার্সিটি অব শেফিল্ডের গবেষক সানজান কে দাস স্বাস্থ্য সচিবের কাছে সরকারি পর্যায়ে টিকা উৎপাদনের লক্ষ্যে অবকাঠামো তৈরি করতে একটি প্রস্তাব পাঠান। সানজান দাসের টিকা তৈরির প্রযুক্তির আরএনডি ও প্রিক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়েছে বলে কার্যপত্রে বলা হয়েছে। সরকারি প্রতিষ্ঠান এসেনশিয়াল ড্রাগসের বিদ্যামান কিছু অবকাঠামো এবং নতুন কিছু যন্ত্রপানি কিনলে টিকা উৎপাদন সম্ভব বলে কার্যপত্রে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টির কারিগরি দিক পর্যালোচনার ব্যাপারে মন্ত্রণালয় বিবেচনা করছে।

সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, বৈঠকে দেশের সকল জনগনকে টিকার আওতায় নিয়ে আসার লক্ষ্যে টিকা উৎপাদন প্রক্রিয়ায় দ্রুত প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

কমিটির গত বৈঠকে করোনাভাইরাসের টিকা তৈরির জন্য দেশীয় প্রতিষ্ঠানকে ‘উৎসাহ’ দেওয়ার সুপারিশ করা হয়।

ওই সুপারিশের পরিপ্রেক্ষিতে মন্ত্রণালয় জানায়, তিনটি দেশীয় প্রতিষ্ঠানের টিকা তৈরির সক্ষমতা যাচাই করা হয়েছে। এগুলো হলো- ইনসেপ্টা লিমিটেড, পপুলার ফার্মাসিউটিক্যালস, হেলথ কেয়ার ফার্মাসিউটিক্যালস। এর মধ্যে ইনসেপ্টার কোভিড-১৯ ভ্যাকসিন রেডি টু ফিল ও মাস্টার সিড উভয় প্রক্রিয়ার সক্ষমতা রয়েছে। পপুলারের মাস্টার সিড হতে উৎপাদনের সক্ষমতা নেই। হেলথ কেয়ার টিকা এখনও কোনো টিকা উৎপাদনে যায়নি।

এদিকে বৈঠকে তথ্য বিভ্রান্তি এড়াতে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত যাবতীয় তথ্য প্রদান ও পর্যালোচনা শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে দেওয়ার লক্ষ্যে অন্যান্য মন্ত্রণালয়কে সহযোগিতা করার অনুরোধ করা হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক