অনিবন্ধিত হাসপাতাল-ক্লিনিক কত, জানা নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের

দেশে কতগুলো অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল-ক্লিনিক ও রোগ নিরূপণী কেন্দ্র রয়েছে, সে বিষয়ে কোনো তথ্য নেই স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 Sept 2020, 12:22 PM
Updated : 2 Sept 2020, 12:22 PM

হাইকোর্টে অধিদপ্তরের দেওয়া এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১২ হাজার৫৪৩ বেসরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন নবায়নেরজন্য আবেদন করেছে।

অধিদপ্তরেরপরিচালক (হাসপাতাল এবং ক্লিনিক) মো. ফরিদ হোসেন মিঞার দেওয়া এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনবুধবার বিচারপতি তারিক উল হাকিম ও বিচারপতি এসএম কুদ্দুস জামানের হাই কোর্ট বেঞ্চেউপস্থাপন করে রাষ্ট্রপক্ষ।

সেখানেবলা হয়েছে, নিবন্ধিত বেসরকারি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারেরতালিকা থাকলেও অনিবন্ধিত হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কোনো তালিকাস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কাছে নেই।

নিবন্ধিতবেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সংখ্যা জানতে চাইলে মো. ফরিদহোসেন মিঞা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই মুহূর্তে তো বলতে পারব না।প্রত্যেক অর্থ বছরে নবায়ন করতে হয়।”

সর্বশেষতথ্য তুলে ধরে তিনি বলেন, গত ৩১ আগস্ট পর্যন্ত ১২ হাজার ৫৪৩ বেসরকারি বেসরকারিহাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার নিবন্ধন নবায়নের জন্য আবেদন করেছে। এখন পর্যন্তসাড়ে ৪ হাজারের বেশি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়গনস্টিক সেন্টারকে লাইসেন্স দেওয়াহয়েছে।

এরমধ্যে ২০১৮-১৯ অর্থ বছরে লাইসেন্সের এবং লাইসেন্স নবায়নের আবেদনও আছে বলে জানানস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এই পরিচালক।

অনলাইনেইলাইসেন্স ও লাইসেন্স নবায়নের আবেদন করতে হয় জানিয়ে ফরিদ হোসেন বলেন, “অনলাইনআবেদনে আবেদনকারী যদি ঠিকমত তথ্যগুলো না দেয়, তখন সে আবেদনটি আর আগায় না।”

তিনিজানান, অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে ছয়টি ‘অপশন’র মধ্যে তিনটি পূরণ করতে হয়আবেদনকারীকে, তিনটি পূরণ করতে হয় অধিদপ্তরকে

“আবেদনকারীতথ্য ঠিকমতো আপলোড করলে লাইসেন্স বা লাইসেন্স নবায়য়ন ৯০ দিনের বেশি লাগে না,” বলেনতিনি।

জনস্বার্থেকরা এক রিট আবেদনের প্রাথমিক শুনানির পর গত ৩১ আগস্ট আদালত কোভিড ও নন-কোভিড হাসপাতালেরসংখ্যা জানতে চায়। একই সঙ্গে নিবন্ধিত-অনিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক,ডায়গনস্টিক সেন্টারের সংখ্যাও জানতে চায়।  

সেঅনুযায়ী স্বাস্থ্য অদিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল এবং ক্লিনিক) মো. ফরিদ হোসেনমিঞার দেওয়া এ প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাসগুপ্ত।

অমিতদাসগুপ্ত সাংবাদিকদের বলেন, “আমরা জানিয়েছি কোভিড এবং নন কোভিড হাসপাতালের তালিকাস্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে আছে।

“তবে১২ হাজার ৫৪৩টি বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিক সেন্টার তাদের লাইসেন্সনবায়নের জন্য আবেদন করেছে এবং এগুলো প্রক্রিয়াধীন আছে। কোনো কোনোটির ইতিমধ্যেসম্পন্ন হয়েছে। আর বেসরকারি যেসব হাসপাতাল, ক্লিনিক বা ডায়গনস্টিক সেন্টারেরলাইসেন্স নাই সেগুলোতে সরকারের অভিযান অব্যাহত আছে।’ 

স্বাস্থ্যঅধিদপ্তরের এ প্রতিবেদন উপস্থাপনের পর আদালত রিট আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ (আউটঅব লিস্ট) দিয়েছে বলে জানান অমিত দাসগুপ্ত।    

মানবাধিকারসংগঠন চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশনের পরিচালক ইশরাত হাসানের আইনজীবীআব্দুল হালিম গত ২৬ জুলাই রিট আবেদনটি দাখিল করেন।

রিটআবেদনে নিবন্ধিত বেসরকারি হাসপাতালের নাম, সংখ্যা, মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরেরওয়েসাইটে প্রকাশ, বেসরকারি হাসপাতালের স্বাস্থ্যসেবা কিংবা বাড়তি ফি আরোপের অভিযোগদেওয়ার পদ্ধতি স্থাপন, সে অভিযোগের বিষয়ে কী ব্যবস্থা নেওয়া হয়, সে তথ্য প্রকাশেরনির্দেশনা চাওয়া হয়।

এছাড়াযেসব হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে কোভিড-১৯ এর পরীক্ষা করা হয়, তার তালিকাপ্রকাশ এবং রিজেন্ট হাসপাতালে কোভিড-১৯ পরীক্ষার ভুয়া সনদের কারণে ক্ষতিগ্রস্তদেরতালিকা প্রকাশ ও ক্ষতিগ্রস্তদের ক্ষতিপূরণের নির্দেশনাও চাওয়া হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক