ডেঙ্গুতে এক মাসে রেকর্ড রোগী হাসপাতালে

চলতি মাসে এরইমধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা সাড়ে পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে কোনো এক মাসে মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্তের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 July 2019, 05:25 PM
Updated : 23 July 2019, 05:25 PM

এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্তের লক্ষণ ও উপসর্গ পাল্টে আরও মারাত্মক হয়েছে। কারও জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসকের কাছে যাওয়া, ডেঙ্গু ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া এবং এমনকি রোগ সারার পরেও সজাগ থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা।   

সোমবার পর্যন্ত শুধু জুলাইয়ে পাঁচ হাজার ৬৩৭ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার তথ্য দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এর আগে এক মাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয় গত বছর সেপ্টেম্বরে, তিন হাজার ৮৭ জন।

সরকারের রোগ নিয়ন্ত্রণ সংস্থা আইডিসিআর-এর সাবেক পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান বলেন, এ বছর ডেঙ্গুর ধরন পাল্টানোয় হাসপাতালে ভর্তির হার খুব বেশি।

“সে কারণেই সরকারি হিসাবে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বেশি হতে পারে।”

তবে আক্রান্তের সংখ্যা গণনার চেয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাপনা ও মশা নিয়ন্ত্রণের ওপর জোর দেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

“ডেঙ্গু এখন ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই আমাদের যা করা উচিত, তাতেই গুরুত্ব দেওয়া দরকার।”

এবার ডেঙ্গুতে মস্তিষ্ক, হৃদযন্ত্র, লিভার ও কিডনিসহ বিভিন্ন অঙ্গ আক্রান্ত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, “সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে রোগীর শারীরিক অবস্থার পরিবর্তন রেকর্ড করা এবং কতদিনে প্লাটিলেট কমছে সেই তথ্য সংগ্রহ করা। এছাড়া হার্টে ট্রোপোনিনের মাত্রা এবং রক্তে এসজিপিটি ও ক্রিয়েটিনিনের মাত্রা কী হচ্ছে সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে।

“আমাদের এসব তথ্য সংরক্ষণ করতে হবে। তারপর চিকিৎসা গাইডলাইন বদলে সেভাবে চিকিৎসকদের প্রশিক্ষণ দিতে হবে। আমাদের খুব দ্রুত সময়ের মধ্যে এগুলো করতে হবে। ব্যবস্থাপনার দিক থেকে এটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।”

মশা নিয়ন্ত্রণের জন্য আক্রান্ত এলাকাগুলো চিহ্নিত করার পরামর্শ দেন অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান।

“ঢাকার সব এলাকা ডেঙ্গু আক্রান্ত নয়। এসব এলাকায় (আক্রান্ত এলাকাগুলোতে) আমাদের পদক্ষেপ বাড়াতে হবে। এটার ওপর সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে। একে অপরকে দোষারোপ না করে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে।

সাধারণত অগাস্ট ও সেপ্টেম্বরে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ে। তবে এবার মে থেকেই শুরু হয়েছে, জুনে আক্রান্ত হয়েছে এক হাজার ৮১৪ জন।

মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু বাংলাদেশে প্রথম দেখা দেয় ২০০০ সালে, সে সময় এই রোগে মারা যান ৯৩ জন। তিন বছর পর থেকে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর হার কমতে থাকে এবং কয়েক বছর এতে মৃত্যু শূন্যের কোটায় নেমে আসে।

তবে গত বছর আবার ব্যাপকভাবে দেখা দেয় ডেঙ্গু, ১০ হাজার মানুষ আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি ২৬ জনের মৃত্যু হয় সরকারি হিসাবে। আর এ বছর সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাত হাজার ৭৬৬ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন।

ডেঙ্গুতে এখন পর্যন্ত পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে বলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার তথ্য। তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের অনুসন্ধানে ডেঙ্গুতে অন্তত ২০ জনের মৃত্যুর বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস ইজিপ্টি মশা সাধারণত পরিষ্কার পানিতে জন্মায়। বাড়ির ভেতরেও বিভিন্ন উৎসে এডিস মশা জন্মায়। এছাড়া বিভিন্ন নির্মাণাধীন ভবনের জলাধার, লিফটের নিচে জমে থাকা পানি, ফুলের টব, টায়ার-টিউবসহ যেসব জায়গায় পানি জমে, সেগুলোই এডিস মশার বংশ বিস্তারের অনুকূল পরিবেশ তৈরি করে।