বাবার আনন্দে আমি খুবই খুশি : অর্জুন কাপুর

কয়েক বছর আগেও হয়তোবা ভাবা যায়নি, ১৪০ কেজি ওজনের, জীবন সম্পর্কে হতাশ একটি ছেলে- অর্জুন কাপুরই একদিন হয়ে উঠবেন বলিউডের ‘সুপাহিট’ অভিনেতা।

জেনিফার বিডিনিউজটোয়েন্টিফোরডটকমবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 21 May 2013, 04:32 AM
Updated : 1 July 2013, 01:28 AM

কয়েক বছর আগেও হয়তোবা ভাবা যায়নি, ১৪০ কেজি ওজনের, জীবন সম্পর্কে হতাশ একটি ছেলে- অর্জুন কাপুরই একদিন হয়ে উঠবেন বলিউডের ‘সুপাহিট’ অভিনেতা। সেই অসম্ভবকে সম্ভব করেই আজ বনি কাপুরের এই সুপুত্র ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছেন একজন পেশাদার অভিনেতা হিসেবে। অবশ্য তিনি নিজেই জানতেন না যে একদিন বলিউডই হবে তার ঠিকানা। আর আজ মেদ ঝরিয়ে নিজের দেহকে তিনি এমন করেছেন যেন বলিউডের এই জমকালো দুনিয়াই ছিল তার গন্তব্য। প্রথম সিনেমা ‘ইশাকজাদে’ সুপারহিট হবার পর এবার তিনি সাফল্যের পথে হাঁটছেন করণ জোহরের ‘টু স্টেটস’, ইয়াশ রাজ ফিল্মসের ‘আওরঙ্গজেব’ এবং ‘গুন্ডে’ এর মত সিনেমা সঙ্গে নিয়ে। ভারতের শীর্ষস্থানীয় ম্যাগাজিন ‘ফিল্মফেয়ার’ থেকে তুলে ধরা সাক্ষাৎকারে অর্জুন কাপুর বলেছেন তার জীবনের একান্ত কিছু কথা।
 

আপনি গত কয়েকদিন ধরে কী নিয়ে ব্যস্ত আছেন?

আসলে এখন সবকিছুই ‘প্রথমবারের’ মতো করছি আমি। আমি প্রথমবারের মতো রানওয়েতে হেঁটেছি একজন মডেল হিসেবে, প্রথমবার ‘আওরঙ্গজেব’ সিনেমায় আমি মারামারির দৃশ্যে অভিনয় করেছি, প্রথমবারের মতো আমার ব্যস্ততার কারণে তারিখ নিয়ে সমস্যা হচ্ছে। আমি সম্প্রতি আমার প্রথম গাড়িটি কিনেছি। এই ব্যস্ততা বেশ ভালই লাগছে আমার, ব্যস্ততার পর যখন ঘুমাই কিংবা ছুটি কাটাতে যাই খুবই ভালো লাগে।

একজন সহকারী পরিচালক থেকে অভিনেতা হবার পর আপনার জীবনে নিশ্চয়ই অনেকখানি পরিবর্তন এসেছে?

আগে আমি এসব নিয়মকানুন সম্পর্কে জানতাম না। আমার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মানুষদের ব্যাপারে খেয়াল রাখতে হতো, আজ আমি নিজেই একজন গুরুত্বপূর্ণ মানুষ। তবে আমি এই বিষয়টিকে যেনতেন ভাবে নিতে চাইনা। ক্যামেরার সামনে বসে সাক্ষাৎকার দেয়ার ব্যাপারটা অনেক মজার, তবে আমি এটাও জানি যে ক্যামেরার পেছনে কাজ করতে কেমন লাগে। তাই আমি বিষয়টিকে যথেষ্ট মূল্য দেই। সবকিছুই স্বপ্নের মত লাগছে এখন আমার। আমি জানিনা ভবিষ্যতে কি হবে, আমি শুধু বর্তমানকে অনুভব করতে চাই।

স্থুল শরীর থেকে সুঠাম দেহের-এই যাত্রাটি কিভাবে সম্পন্ন হল?

এর জন্য আসল কৃতিত্ব সালমান ভাইয়ের (সালমান খান)। আমি আমার স্থুল শরীর নিয়ে ভালোই ছিলাম কারণ, অভিনেতা নয়, আমি হতে চাইতাম পরিচালক। তাই আমি ‘কাল হো না হো’ সিনেমার সেটে গেলাম এবং আমার বাবা বনি কাপুরের সঙ্গে কিছু কাজ করলাম, এরপর আমি নিখিল আদভানির সঙ্গে সহকারী পরিচালক হিসেবে ‘সালামে ইশক’ সিনেমায় কাজ করতে শুরু করলাম। এরইমধ্যে একদিন সালমান ভাইয়ের সঙ্গে পরিচিত হলাম। তিনি আমাকে একপাশে ডেকে নিয়ে বললেন, ‘আমার মনে হয় তোমার অভিনেতাই হওয়া উচিৎ। যদি না হও, সারাজীবন পস্তাবে। তোমার বাবা তোমাকে অবশ্যই সমর্থন করবেন, তুমি যে সিদ্ধান্তই নাও না কেন। আমিও তোমাকে সাহায্য করবো, তুমি জিমে চলে এসো।’
আমি ভাবলাম অন্তত ওজনটা কমিয়ে দেখি। ওজন কমানোর প্রক্রিয়াটি চলেছিল পুরো তিন বছর। আমি সকাল ৭ টায় তার ঘরে গিয়ে পৌঁছাতাম এবং মধ্যরাত পর্যন্ত তার সঙ্গে থাকতাম। আমি সাইকেল চালিয়ে তার সঙ্গে সিনেমার সেটেও যেতাম।
 

কোনটা বেশি কঠিন ছিল, ওজন কমানো নাকি অভিনেতা হওয়া?

ওজন কমানোর পর আমার আত্মবিশ্বাস অনেকখানি বেড়ে গেলো। আমি অভিনয় শিখতে শুরু করলাম। তিন মাস পরে আমি কিশোর নমিতজীর ক্লাসে অংশ নেই। এসব কিছুই আমাকে অনেক সাহায্য করেছে অভিনয়ের ক্ষেত্রে। তারপর একদিন আমার ‘ইয়াশ রাজ ফিল্মস’ এর কাস্টিং ডাইরেক্টর শানুর সঙ্গে দেখা হয়, তিনি আমাকে বলেন একাগ্রতার সঙ্গে অভিনয় শেখা চালিয়ে যেতে, কারণ ইয়াশ চোপড়ার এই কোম্পানি বরাবরই নতুনদের অভিষেক করায়। এদিকে তখন রনবীরের ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’এর শুটিং চলছিলো। শানু আমাকে অডিশন দিতে বললেন। আমার অডিশন খুবই ভালো হল। এরপর আদিত্য চোপড়া আমাকে ডাকলেন। আদি আমাকে বললেন আমি খুব সুন্দর কেউ নই,তবে এটা কোনো ব্যাপার নয়। কারণ আমার ভেতরের অভিনয় প্রতিভা তার চোখে ধরা পড়েছিলো।


‘ইশাকজাদে’র জন্য কিভাবে প্রস্তুতি নিয়েছিলেন?

আমার চরিত্রটির জন্য যথেষ্ট পরিমানে অনুশীলনের প্রয়োজন ছিল, সেই সঙ্গে ভারতের প্রত্যন্ত অঞ্চলের জীবনযাত্রা সম্পর্কে জ্ঞান থাকাটাও দরকার ছিল। চরিত্রটির জন্য জানা প্রয়োজন ছিল, ভারতের ছোট শহরের মানুষজনদের; যাদের শিক্ষার ব্যাপরে খুব বেশি আগ্রহ নেই, যারা নিয়মকানুন খুব একটা মানে না- তাদের জীবন কেমন হয়। হাবিব স্যার (পরিচালক হাবিব ফয়সাল) আমাকে এই ৪০ দিনের সফরে অনেক কিছুই শিখিয়েছেন। একটা পর্যায়ে তিনি আমাকে এটাও বলেছিলেন যে আমি অভিনয় করতে পারিনা এবং আমাকে এক কঠিন ট্রেনিংয়ের মধ্যে ঠেলে দিয়েছিলেন। সেই কদিন আমি দিব্যেন্দু ভট্টাচার্যের অধীনে থেকে অভিনয়ের প্রশিক্ষণ নেই, যিনি ‘দেব ডি’ সিনেমায় চুনিলালের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। তবে শেষমেশ আমি ঐ যাত্রা টিকে যাই।

আপনি কি কখনোই ভাবেননি আপনার বাবা আপনাকে চলচ্চিত্রে অভিষেক করাতে পারবে?

অবশ্যই! তবে একজন প্রযোজক হিসেবে আপনি কখনোই আপনার ব্যবসার ক্ষেত্রে আবেগপ্রবণ হতে পারবেন না। ‘আমি আমার পুত্রের জন্য সবকিছু করবো’- ভেবে অনেকেই এই ভুলটি অনেকবার করেছেন। আসলে আপনার যেটা করা উচিত তা হল সিনেমাটির জন্য কি করা যায় তা ভাবা। বিবেচনা করে দেখুন, আপনার পুত্র সিনেমাটির জন্য সঠিক কিনা।

আমার বাবাও আমার জন্য একটি সঠিক কাহিনী খুঁজছিলেন, আর ঠিক তখনই আমার পরিচয় হয় শানুর সঙ্গে। আমি সঠিক সুযোগটি পেয়ে যাই। আমার বাবা এতে সবচাইতে বেশি খুশি হয়েছিলেন, আর আমার মা (প্রয়াত মোনা কাপুর) ছিলেন খুবই উত্তেজিত। আদিত্য চোপড়ার ব্যানারে অভিষেক হবার ব্যাপারটি আসলেই অনেক বড়। আজ আমি বাবার জন্য একটি সম্পদ,আমাকে নিয়ে কাজ করতে এখন আর তার ব্যবসার কথা ভাবতে হবে না। বরং তিনি ভালো একটি সিনেমা তৈরির দিকে নজর দিতে পারবেন।

আপনি কি এতটা সাফল্য আশা করেছিলেন? সমালোচকেরা কিন্তু বেশ ভালই সমালোচনা করেছিলো সিনেমাটির।

এটি একটি ছোট শহরকেন্দ্রীক ফিল্ম এবং ওখানকার মানুষেরা এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে। একটি ডেব্যু ফিল্ম হিসেবে ৪৬ কোটি রুপির ব্যবসা করার কথা এর আগে কখনও শোনা যায়নি। সিনেমাটি পুরো ভারতে ভালো ব্যবসা করেছে, তাই একে কেউ বাজে সিনেমা বলতে পারবে না। আমি বেশ গর্বের সঙ্গেই আমার প্রথম সিনেমার দিকে ফিরে তাকাতে পারবো।

যখন প্রথমবারের মত সিনেমাটি বড় পর্দায় দেখছিলেন, আপনার অনুভূতি কেমন ছিল?

আমি এটি ইয়াশজি (ইয়াশ চোপড়া) এবং প্যাম আন্টির (পামেলা চোপড়া) সঙ্গে বসে দেখেছিলাম। যেসব মহিলা সিনেমাটি দেখেছেন তারা প্রত্যেকেই সিনেমাটির প্রথম অংশে আমাকে ঘৃণা করেছেন। সিনেমাটির শেষ অংশ দেখে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে গিয়েছিলাম; আমি নিজে কাঁদিনি তবে আমার মাকে খুব মনে পড়েছিল সেদিন। আমি পরিনিতিকে অনেকক্ষণ জড়িয়ে ধরে রেখেছিলাম, আমি জড়িয়ে ধরেছিলাম হাবিব স্যারকে এবং আদিকে ধন্যবাদ দিয়েছিলাম আমাকে কাজের সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। তবে দ্বিতীয়বার দেখার পর আমি শুধু আমার ভুলগুলো খুঁজেছি।

আপনি রনবীর সিংয়েরর সঙ্গে ‘গুন্ডে’ সিনেমায় কাজ করতে যাচ্ছেন। তবে কি আপনারাও হবেন নতুন ইমরান-রনবীর জুটি?

আমরা দুজনই ‘ইয়াশ রাজ ফিল্মস’ এর তৈরি। আমরা দুজনই ভিন্নধর্মী চরিত্রে অভিনয় করেছি। আমরা আসলে বিপরীতধর্মী দুজন মানুষ। আমি শান্ত, আর সে উত্তেজিত। আমি তাকে নাচতে দেখেছি এবং তার সঙ্গে তাল মেলাতে চেয়েছি তবে পারিনি। আমরা ‘গুন্ডে’ সিনেমায় অভিনয়ের দরুণ অনেকটা সময় একসঙ্গে কাটাচ্ছি। ‘ইশাকজাদে’ সিনেমাটি তৈরির সময় সে আমাকে যথেষ্ট সমর্থন দিয়েছিলো। আমি বলবো না আমরা আগে বন্ধু ছিলাম তবে আমরা বেশ ভালো সময় কাটিয়েছি। আমরা ঝগড়া করছি এমন খবরকে উড়িয়ে দিয়ে এখন আমরা একসঙ্গে ঘুরে বেড়াই।

আপনারা না কি সহজে মেলামেশা করেন না?

আমার সিনেমাটির মুক্তি পাবার পর, আমি একটি পার্টির আয়োজন করি যেখানে আনুশকা এবং রনবীর দু’জনেই অংশ নেন। আমরা যদি মেলামেশা নাই করতাম তবে তারা কি আমার পার্টিতে আসতেন? সেই রাতে আমরা একসঙ্গে নেচেছিলাম, আমরা খুবই মজা করেছিলাম। কিছু সংবাদমাধ্যমের আসলে দ্রুত পয়সা কামানোর দরকার, তাই তারা এসব খবর ছড়ায়। আমাদের কেউ কিছুই জিজ্ঞেস করেনি। ঐ খবরটি পুরোপুরি মিথ্যা ছিল।
 
তবে শোনা গিয়েছে রনবীর এবং আনুশকার বিচ্ছেদের পর আপনি আনুশকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছেন?

আমি আনুশকার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হবার চেষ্টা করেছি? অদ্ভুত কথা! আমি তার বন্ধু। আমি জানিনা তাদের মধ্যে কি হয়েছিলো যখন তারা প্রেম করছিল কিংবা না করছিল। মিডিয়াতে লেখালেখি হয়েছে যে আমাদের দু'জনকে একসঙ্গে দেখা গিয়েছে। তখন আমাদের সঙ্গে হাবিব স্যার এবং ‘ব্যান্ড বাজা বারাত’ সিনেমার সম্পাদক নম্রতাও ছিলেন। আদি আমাদের সঙ্গে দেখা করেছিলেন। কিন্তু বাকি সবাইকে বাদ দিয়ে শুধু আমাদের দু'জনকে নিয়েই লেখা হল।

আপনার সিনেমাটি মুক্তি পাবার আগে আপনি আপনার মাকে হারিয়েছেন। কিভাবে সামলেছিলেন নিজেকে?

আমি বিষয়টির সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর চেষ্টা প্রতিদিনই করছি। এমনকি তার মৃত্যুর আগে যখন আমি শুটিং করছিলাম তখনও আমি অনেক চেষ্টা করছিলাম সবকিছু মানিয়ে চলার, তবে আমার মা কখনোই আমাকে কোন ঝামেলায় পড়তে দেননি। তিনি ঘরে একা ছিলেন যখন আমি শুটিং করতে যেতাম। তিনি কেমোথেরাপি নিতে গিয়েছিলেন এবং সুস্থ হয়ে তিনি লক্ষনৌতেও গিয়েছিলেন আমার শুটিং দেখতে। তারপর ফেব্রুয়ারি মাসের ২০ তারিখে তিনি আবার অসুস্থ হয়ে পড়লেন। তিনি ওখানে হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লেন এবং আমরা তাকে হাসপাতালে নিয়ে গেলাম। তখন তিনি সুস্থ হয়ে উঠলেও কয়েকদিন পরে আবারও তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হল। চিকিৎসকেরা আমাকে বলল তার হাতে বেশি সময় নেই। তারা পাকস্থলি থেকে ক্যান্সারের কোষগুলো ধ্বংস করতে পারলেও ক্যান্সার এখন ছড়িয়ে গিয়েছে মেরুদণ্ডের হাড়ে এবং সেখান থেকে মস্তিষ্কে। আর মস্তিষ্কের ক্যান্সারের কোন প্রতিকার নেই। মাত্র ৪৮ বছর বয়সে তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। তিনি আমার জীবনের সবচাইতে বর্ণিল সময়গুলো দেখে যেতে পারলেন না, যার জন্য তিনি এতটা কষ্ট করেছিলেন। আমি তাকে খুবই মিস করি তবে আমি জানি এখন তিনি ভালো জায়গায় আছেন। আমি আশা করি এমন করে কাউকে যেন তার পিতা-মাতার মৃত্যু দেখতে না হয়। বাড়িতে আমার রুমের সামনেই মায়ের রুম, আজ যখন আমি রুমে ঢুকি কিংবা বেরোই, আমি রুমটাকে খালি পাই। এটাই জীবন।

আপনার বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী শ্রীদেবীর সঙ্গে আপনার সম্পর্ক কেমন?

আমাদের সম্পর্ক আরও উন্নত হচ্ছে একথা বলা ঠিক হবে কিনা আমি জানিনা। কারণ প্রতিদিনই একটি নতুন দিন। আমি এটা মেনে নিয়েছি যে তিনি আমার বাবার সঙ্গে থাকেন। শ্রীদেবীর সঙ্গে আমার সম্পর্ক আন্তরিক। আমার মা আমাকে শিখিয়েছেন কখনোই কাউকে অসম্মান না করতে। আমি আন্তরিক হবার চেষ্টা করি। আমি আমার জীবনে অনেক খারাপ সময়ের মধ্য দিয়ে গিয়েছি তাই এটা আমার জন্য একটু কষ্টকর, তবুও আমি চেষ্টা করি আমার বাবার স্ত্রী হিসেবে তাকে যথাযথ মর্যাদা দিতে। আমার মা আমাদের তার সঙ্গে আন্তরিক হতে কখনোই বাধা দেননি। তাই আমি মাকে অনেক ভালোবাসি, তিনি কোনদিন আমাদের খারাপভাবে প্রভাবিত করেননি। আজ আমরা আন্তরিক হতে পারছি শুধুমাত্র মায়ের কারণেই।

আপনি কি তাদের কন্যা জাহ্নবি এবং খুশির সঙ্গে মেলামেশা করেন?
 
হয়তো মাসে একবার। আমি ওখানে যাই আমার বাবার সঙ্গে দেখা করতে। যদি তারা ওখানে থাকে আমি তাদের সঙ্গেও দেখা করি। একটা সময় পরে আপনি আর ভণিতা করতে পারবেন না। আমি তাদের সর্বাঙ্গীন সুখ এবং শান্তি কামনা করি। আমি আমার বাবাকে বলি আমাদের পরিবারটিকে সুখি পরিবার বানানোর জন্য জোর করে চেষ্টা করার দরকার নেই, আমরা সবাই নিজেদের মত ভালোই আছি। তারা নিষ্পাপ শিশু, আমার পরিবার তাদের নিয়ে খুশি। আমি তাদের সঙ্গে গভীরভাবে মেলামেশা করতে পারিনা কারণ আমি তাদের বয়সি নই।

আপনার সেই সময়গুলোর কথা মনে আছে যখন আপনার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ হয়?

ব্যাপারটি সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে আলোচিত হয়েছিলো। বিচ্ছেদটি আমাদের জন্য কষ্টদায়ক ছিল, কারণ আমরা তখন অনেক ছোট ছিলাম। আমার বয়স ছিল ১০ বছর, আমি বিষয়টিকে খারাপভাবে নেইনি কারণ তাহলে আমি আমার বাবাকে ঘৃণা করা শুরু করতাম। এখন যা আছে তা হল শুধুই ভালোবাসা। আমার বোন অংশুলা একটু বেশিই কষ্ট পেয়েছিল কারণ সে আরও বেশি ছোট ছিল। এখন আর জিজ্ঞেস করার মতো সময় নেই যে এসব কেন হল। এখন সবাইকে ভালো থাকতে দেয়াই শ্রেয়। এমনকি এসব নিয়ে কথা বলাও এখন শ্রীদেবীর জন্য অসম্মানজনক, কারণ ইন্ডাস্ট্রিতে তিনি একজন সিনিয়র অভিনেত্রী। তাছাড়া এই বয়সে এসে আমার বাবার এইসব কথা প্রাপ্য নয়।

একজন শিশু হিসেবে বিষয়টা নিশ্চয়ই আপনার জন্য খুব কঠিন ছিল?

আমার মা আমদের জন্য এটি সহজ করে দিয়েছিলেন। তিনি তার সমস্যাগুলো আমাদের সামনে বলেননি কখনোই। আমরা যেন আমাদের দাদা-দাদির সঙ্গে স্বাভাবিকভাবে বেড়ে উঠতে পারি তাই তিনি আমাদের দাদা-দাদির সঙ্গে তাদের বাড়িতেই বসবাস করেছেন যখন আমার বাবা ওখানে ছিলেন না। কিন্তু দশ বছর পরে তিনি ওখান থেকে চলে গিয়েছিলেন, কারণ তখন তার পক্ষে এটা কষ্টকর হয়ে পড়েছিল। অবশ্যই পরিবারের সবাই এমনকি আমার বাবাও তার সঙ্গে বেশ ভালো ব্যাবহার করতেন। তবে বিষয়টি অন্যরকম হয়ে গিয়েছিলো। শেষ পর্যন্ত আমার মা তার স্বাধীনতাকে বেছে নেন এবং বের হয়ে যান। আমার পরিবারের সঙ্গে আমার সম্পর্ক খুবই মজবুত। মায়ের জন্য ঐ সময়টা কতখানি কষ্টকর ছিল তিনি তা কোনদিনও বুঝতে দেননি আমাদের। পরবর্তীতে অবশ্য এসবের প্রভাব আমার ওপর পড়েছিলো।

কী প্রভাব?

তাদের বিচ্ছেদ অবশ্যই আমাকে প্রভাবিত করেছিলো কারণ আমি মোটা হতে শুরু করেছিলাম। আমি অসুস্থ হবার ভান করে রুমে লুকিয়ে থাকতাম। আমার মা আমাকে বোঝানোর চেষ্টা করতেন তবে তিনি তার নিজের সমস্যাতেই জর্জরিত ছিলেন। তিনি আমাকে স্কুল ফাঁকি দিতে বাধা দেননি। কারণ বাচ্চারা এসে আমাকে জিজ্ঞেস করত তোমার নতুন মা কেমন? আমার মা আমাকে আশ্বাস দিতেন কিছুই বদলায়নি। আমাদের বাবা হয়তো আমাদের সঙ্গে থাকেন না তবে সবকিছুই আগের মত আছে। আমি তার সঙ্গে বেড়াতে যেতে পারবো, আমি তার সঙ্গে বেড়াতে গিয়েছিলামও। এরপর আমি তার অফিসে যেতাম তার সিনেমার সেটে গিয়ে তার সঙ্গে দেখা করতাম। এজন্যই মনে হয় আমার ইন্ডাস্ট্রিতে আসার ইচ্ছা ছিল- বাবার সঙ্গে সম্পর্ক আরও মজবুত করার জন্যে।

আপনার সিনেমা দেখে আপনার বাবার অভিব্যক্তি কি ছিল?

আমার প্রথম সিনেমার সাফল্য দেখে তিনি খুব আনন্দিত । তিনি আরও পুনরুজ্জীবিত হয়ে উঠেছেন। তিনি যেন পুরনো স্মৃতিতে ফিরে গেছেন এর মাধ্যমে। প্রথমে অনিল চাচ্চু (অনিল কাপুর) এবং এবার আমি। কথায় বলে একজন বাবার পরিচয় হওয়া উচিত ছেলের পরিচয়ে। আমি যদি এটা অনুসরণ করে চলতে পারি, আমি জানি তিনি আরও খুশি হবেন। তিনি আমাকে নিয়ে আরও সিনেমা করতে চান এখন। আমি খুবই খুশি তার জীবনে আনন্দ আনতে পেরে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক