অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম মারা গেছেন

বর্ষীয়ান অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম মারা গেছেন। ৭৭ বছর বয়সী অভিনেতার মস্তিস্কের রক্ত প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায় তিনি মৃত্যুবরণ করেন বলে জানিয়েছেন তার একমাত্র ছেলে মোবাশ্বেরুল ইসলাম শাহী।

জয়ন্ত সাহাবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 March 2015, 11:02 AM
Updated : 24 March 2015, 01:51 PM

মোবাশ্বের গ্লিটজকে বলেন, “প্রতিদিনের মতো সকালে ঘুম থেকে ওঠার পর তাকে বেশ স্বাচ্ছন্দ্য এবং সুস্থ দেখা গেছে। বাসার সবার সঙ্গে সকালের নাস্তা করেছেন। আমাকে অফিসের উদ্দেশ্যে বিদায় জানিয়েছেন। এরপর আমি অফিসে পৌঁছানোর কিছু আগে জানতে পারি তিনি আর নেই।”

অভিনেতা সিরাজুল ইসলাম দীর্ঘ দিন ধরেই বার্ধক্যজনিত সমস্যায় ভুগছিলেন। রোগ নিরাময়ের জন্য পশ্চিমবঙ্গের কলকাতায় যাতায়াত করতেন নিয়মিত। এছাড়া তিনি দুবার স্ট্রোক করেন। 

মোবাশ্বের জানান, গুলশানের আবাসিক এলাকা নিকেতনের কেন্দ্রীয় মসজিদে বাদ আছর জানাজা শেষে সিরাজুল ইসলামকে কবরস্থ করা হবে বনানী কবরস্থানে।

একই এলাকায় ছেলের সঙ্গে বসবাস করতেন সিরাজুল ইসলাম। শেষ কয়েকটি দিন স্ত্রী, ছেলে, ছেলে বউ এবং নাতনিদের নিয়েই সময় কাটত তার।

তিনি অভিনয় থেকে অবসর নেন ২০১০ সালের দিকে। এরপরও তার অভিনীত বেশ কয়েকটি নাটক, টেলিফিল্ম প্রচারিত হয়েছে। 

থিয়েটারের গন্ডি পেরিয়ে মূলত সিনেমায় অভিনয়ে মনোযোগী হয়েছিলেন সিরাজুল ইসলাম। প্রায় তিনশ সিনেমায় অভিনয় করেছেন তিনি। তার অভিনীত প্রথম সিনেমা মহীউদ্দিন পরিচালিত ‘রাজা এলো শহরে’। এছাড়াও অভিনয় করেছেন-- ‘নাচঘর’, ‘রূপবান’, ‘উজালা’, ‘নয়নতারা’, ‘চাওয়া পাওয়া’, ‘ময়নামতি’, ‘দর্পচূর্ণ’, ‘বিনিময়’ ইত্যাদিতে। 

চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘চন্দ্রনাথ’ সিনেমায় অভিনয়ের জন্য ১৯৮৫ সালে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পান সিরাজুল ইসলাম।

টিভি নাটকেও এক সময় অভিনয় করেছেন নিয়মিত। তার অভিনীতি টেলিফিল্ম ‘অসমাপ্ত কবিতার গল্প’ প্রচারিত হয় গত বছর। 

১৯৩৮ সালে পশ্চিমবঙ্গে হুগলি জেলায় জন্মান সিরাজুল ইসলাম। জন্মের কিছুকাল পরেই দেশ বিভাগের কারণে ঢাকায় আসেন। তার বাবা সরকারি চাকরি করতেন। ফরাসগঞ্জে এরপর বসবাস করতে শুরু করেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন ঢাকার ঐতিহ্যবাহী কে এল জুবিলি হাই স্কুল অ্যান্ড কলেজে।
তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক