বিদেশি টিভির বিজ্ঞাপন ছাঁটবে কে?

বাংলাদেশের জন্য বিজ্ঞাপন ছাড়া অনুষ্ঠান বা ‘ক্লিন ফিড’ সরবরাহের ব্যবস্থা করতে ব্রডকাস্টারদের রাজি করাতে পারছেন না দেশের পরিবেশক বা কেবল অপারেটররা; আবার ফিড ‘ক্লিন’ করার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও তাদের নেই। এমন পরিস্থিতিতে সরকারের নির্দেশে ‘ক্লিন ফিড’ ছাড়া বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ রেখে অনিশ্চিত গন্তব্যের পথে হাঁটছে দেশের কেবল টিভি ইন্ডাস্ট্রি।

সাইমুম সাদ গ্লিটজ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Oct 2021, 11:41 AM
Updated : 4 Oct 2021, 03:24 AM

শুক্রবার থেকে সব মিলিয়ে ৬০টির মত বিদেশি টিভি চ্যানেল বাংলাদেশের দর্শকরা দেখতে পারছেন না। এর মধ্যে জি বাংলা, স্টার জলসা, সনি লাইভের মত জনপ্রিয় ভারতীয় চ্যানেল যেমন আছে, তেমনি বিবিসি, সিএনএনের মত নিউজ চ্যানেল এবং স্টার স্পোর্টস, টেন স্পোর্টসের মত খেলার চ্যানেলও রয়েছে।

সরকারি নির্দেশনায় বলা ছিল অনুষ্ঠানের ফাঁকে বিজ্ঞাপন প্রচার করে- এমন বিদেশি টেলিভিশন চ্যানেল বাংলাদেশে দেখানো যাবে না। কিন্তু পরিবেশক ও কেবল অপারেটররা এক কথায় প্রায় সব বিদেশি চ্যানেলই বন্ধ রেখেছেন।

ফলে কেবল অপারেটর বা ডিটিএইচ সংযোগের মাধ্যমে বিনোদনভিত্তিক, শিক্ষামূলক বা সংবাদভিত্তিক কোনো বিদেশি টেলিভিশনই এখন দেখা যাচ্ছে না বাংলাদেশে।  

পরিবেশক ও কেবল অপারেটররা বলছেন, দেশের মার্কেট ‘ছোট হওয়ায়’ ব্রডকাস্টাররা তাদের ‘ক্লিন ফিড’ দিচ্ছে না। আবার ডাউন লিংক পাওয়ার পর সেখান থেকে বিজ্ঞাপন বাদ দেওয়ার প্রযুক্তিগত সক্ষমতাও তাদের নেই। এ অবস্থায় তারা সরকারের কাছে আরও সময় চাইছেন।  

বাংলাদেশের টেলিভিশন মালিকরা ‘ক্লিন ফিড’ ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধের সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন। আর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী বলছেন, সরকার কোনো চ্যানেল বন্ধ করেনি। বিজ্ঞাপন ছাড়া (ক্লিন ফিড) বিদেশি টিভি চ্যানেল সম্প্রচারে কোনো বাধা নেই।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে, বাংলাদেশের দর্শকরা কি তাহলে বিদেশি টেলিভিশন দেখার সুযোগ পাবে না?

‘ক্লিন ফিড’ মিলবে কীভাবে

বাংলাদেশের কেবল টেলিভিশন নেটওয়ার্ক পরিচালনা আইনে বলা হয়েছে, বিদেশি কোনো চ্যানেলের মাধ্যমে বিজ্ঞাপন সম্প্রচার বা সঞ্চালন করা যাবে না। কিন্তু বাংলাদেশে বারারই বিজ্ঞাপনসহ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছিল বিদেশি টেলিভিশনগুলো।

‘ক্লিন ফিড’ ছাড়া বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধে মাস ছয়েক আগে একবার উদ্যোগী হয়েছিল সরকার। তবে সে সময় তা পিছিয়ে যায়। সবশেষ পরিবেশক ও কেবল অপারেটরদের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিল সরকার। এরপর ভ্রাম্যমাণ আদালত নামবে বলে হুঁশিয়ার করা হয়েছিল। এ অবস্থায় শুক্রবার সারা দেশে প্রায় সব বিদেশি চ্যানেলের সম্প্রচার বন্ধ করে দেওয়া হয়।  

বাংলাদেশ টেলিভিশনের সাবেক মহাপরিচালক হারুন-অর-রশিদ জানান, ‘ক্লিন ফিড’ পাওয়ার দুটি উপায় রয়েছে। বিশ্বের অনেক দেশে ব্রডকাস্টাররা (চ্যানেল কর্তৃপক্ষ) আপ লিংকের সময় দেশভেদে আলাদা আলদা ফিড (ক্লিন) সরবরাহ করেন; ব্রডকাস্টারদের তরফ থেকে ক্লিন ফিড পেলে পরিবেশকরা কাঁটছাঁট ছাড়াই প্রচার করতে পারেন।

আর ব্রডকাস্টারদের কাছ থেকে ‘ক্লিন ফিড’ না পেলে পরিবেশকরাও ডাউন লিংকের পর সেন্ট্রাল কন্ট্রোল রুমে বিজ্ঞাপন ছেঁটে তা প্রচার করতে পারেন।

কোনো বিদেশি চ্যানেল প্রচারের জন্য পরিবেশকদের প্রথমে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে হয়। দেশে সম্প্রচার কমিশন না থাকায় তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের তত্ত্বাবধানে সেই বিদেশি চ্যানেল ডাউন লিংক করে উপযোগিতা যাচাই করে বাংলাদেশ টেলিভিশন। বিটিভির মতামতের ভিত্তিতেই পরিবেশকদের বিদেশি চ্যানেল ডাউন লিংকের অনুমতি দেয় সরকার।

ব্রডকাস্টাররা বাংলাদেশে ‘ক্লিন ফিড’ দিচ্ছে না কেন?

হারুন বলছেন, সৌদি আরবসহ মধ্যপ্রাচের সব দেশে ভারতীয় ব্রডকাস্টাররা ‘ক্লিন ফিড’ সরবরাহ করে।

“মিডল ইস্টে ভারতের চ্যানেল চলছে, সেখানে ভারতের কোনো বিজ্ঞাপন নাই, তারা মিডল ইস্টের বিজ্ঞাপন প্রচার হয়। এমনকি আরবি ভাষায় ডাব করেও চালাচ্ছে। বাংলাদেশ এত বড় একটা মার্কেট; তারা (ব্রডকাস্টার) সেখানে হুবহু ফিড দেবে- এটা তো হতে পারে না।

“তারা সৌদি আরবের দর্শকদের জন্য আপ লিংক দেয়, তখন আরবি কনটেন্টকে প্রাধান্য দিয়ে তাদের ফিড দেয়। কিন্তু বাংলাদেশে ফিড দেওয়ার জন্য আলাদা করে বিজ্ঞাপন জুড়ে দেওয়া হয়; সেটা শুধু বাংলাদেশে দেখা যায়; কলকাতায়ও সেটা দেখবেন না। মানে সে বিজ্ঞাপনটা দিচ্ছে বাংলাদেশের দর্শকদের জন্য।“

ব্রডকাস্টাররা অন্য দেশে ক্লিন ফিড দিলে বাংলাদেশে দিচ্ছে না কেন- এমন প্রশ্নের জবাবে স্যাটেলাইট চ্যানেলের পরিবেশক প্রতিষ্ঠান ওয়ান অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ বি এম সাইফুল হোসেন সোহেল বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বাংলাদেশের ‘মার্কেটের আকারের’ কারণে ব্রডকাস্টাররা ‘ক্লিন ফিড’ দিতে চায় না।

ভারতের কালারস গ্রুপের কয়েকটি চ্যানেল বাংলাদেশে বিপণন করে ওয়ান অ্যালায়েন্স। এ কোম্পানির এমডি সোহেল কেবল অপারেটরদের সংগঠন কোয়াবের সাবেক সভাপতি।

তিনি বলেন, “বাংলাদেশে মার্কেটের যে সাইজ, সেই অনুযায়ী ব্রডকাস্টাররা খরচে কুলাতে পারছে না। ক্লিন ফিড দেওয়ার সেই খরচটা তারা বহন করতে চাইছে না। সৌদি আরব, আমেরিকা কিংবা ইংল্যান্ডে সার্ভিসটা নেওয়ার জন্য মাসে ২৫ ডলার পে করতে হয় গ্রাহকদের। আর আমরা দেড়শ’ দুশ টাকায় সার্ভিস দিচ্ছি।

“এই সেক্টরে ডিজিটালাইজেশন হলে সরকারের রেভিনিউয়ের সঙ্গে ব্রডকাস্টার আর আমাদের আয়ও বাড়বে। তখন হয়ত তারা মনোভাবে পরিবর্তন আনতে পারে।”

বাংলাদেশে সম্প্রচার বন্ধের বিষয়ে কালারস গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগের কথা জানিয়ে সোহেল বলেন, “তারা আমাকে বলেছেন, এখন চাইলেই ‘ক্লিন ফিড’ সরবরাহ করতে পারবে না। তাদের সময় দিতে হবে। সরকার সময় না দিলে আমরা সুইচ বন্ধ করে দেব। সক্ষমতা না থাকলে ব্যবসা গুটিয়ে আনা ছাড়া কোনো উপায় তো নেই’।”

পরিবেশকরা পারছেন না কেন?

বাংলাদেশ সরকারের কাছ থেকে ডাউন লিংকের অনুমতি নিয়ে চারটি পরিবেশক কোম্পানি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ৬০টির মত টেলিভিশন চ্যানেলের সম্প্রচার করছে।

এর মধ্যে জি নেটওয়ার্ক (জি টিভি, জি বাংলা, জি বাংলা সিনেমাসহ), সনি গ্রুপ (সনি টিভি, সনি লিভসহ), টেন স্পোর্টস, ডিসকোভারি গ্রুপের চ্যানেগুলোসহ সবচেয়ে বেশি চ্যানেলের পরিবেশক মিডিয়া কেয়ার লিমিটেড।

বেঙ্গল গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান নেশনওয়াইড মিডিয়া বাংলাদেশে সিএনএন, কার্টুন নেটওয়ার্কের পরিবেশক হিসেবে ব্যবসা করে আসছে। এ কোম্পানির কর্ণধার আফসার খায়ের মিঠু।

আরেক পরিবেশক কোম্পানি জাদু ভিশন স্টার জলসাসহ অন্যান্য চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে পরিবেশন করে। যাদু ভিশনের

মালিকানা ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রয়াত মেয়র আনিসুল হকের ছেলে নাভিদুল হকের।

কালারস নেটওয়ার্কের চ্যানেলগুলো বাংলাদেশে পরিবেশন করে ওয়ান অ্যালায়েন্স।

পরিবেশক কোম্পানিগুলো ডিস্ট্রিবিউটরদের কাছ থেকে বিদেশি চ্যানেল ‘ডাউন লিংক’ করার পর কেবল অপারেটরদের মাধ্যমে গ্রাহকের দোরগোড়ায় পৌঁছায়।

প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ব্রডকাস্টারা ‘ক্লিন ফিড’ না দিলে তা ‘ক্লিন’ করার দায়িত্ব বাংলাদেশি পরিবেশকদের উপর বর্তায়; কারণ তারাই চ্যানেলগুলো আমদানি করে। তাদের মাঝখানে আর কোনো ‘নিয়ন্ত্রণ’ নেই; কেবল অপারেটরা এখানে সরবরাহের মাধ্যম মাত্র।

শ্রীলঙ্কা, নেপাল, পাকিস্তানসহ বিশ্বের অনেক দেশেই পরিবেশকরা ফিড ‘ক্লিন’ করে সম্প্রচার করে। তাহলে বাংলাদেশে সম্ভব হচ্ছে না কেন?

এ প্রশ্নের জবাবে পরিবেশকরা বলছেন, প্রযুক্তিগত জটিলতার কারণে তারা চাইলেও ফিড ‘ক্লিন’ করতে পারছেন না। বাংলাদেশে এ খাত এখনও পুরোপুরি ডিজিটাল হয়নি; ডিজিটাল না হলে ফিড ক্লিন করার কাজটি সহজ নয়। আর রাতারাতি এর কোনো সমাধান পাওয়া যাবে না, সেজন্য সময় দরকার। 

সরকার বলছে, সময় দেওয়া হয়েছে

২০১৯ সালের এপ্রিলে বিজ্ঞাপন ছাড়া বিদেশি চ্যানেল সম্প্রচারের বিষয়ে একটি নোটিস দিয়েছিল সরকার। তখন ক্লিন ফিড প্রচারে ব্যর্থ হয়ে জি নেটওয়ার্কের পরিবেশক বাংলাদেশে সব চ্যানেল একদিনের জন্য বন্ধ রেখেছিল। পরে এক বৈঠক শেষে পরিবেশকরা বলেছিল, বিজ্ঞাপন ছাঁটার প্রযুক্তি না থাকায় চ্যানেল বন্ধ রাখতে তারা বাধ্য হয়েছিল।

পরে চ্যানেল খুলে দেওয়ারপর ক্লিন ফিড প্রচারের জন্য সেই বছরের জুলাই পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়েছিলেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রী হাছান মাহমুদ।

বিষয়টি নিয়ে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেশনওয়াইড মিডিয়ার কর্ণধার আফসার খায়ের মিঠু বলেছিলেন, বছর দুয়েকের মধ্যে ঢাকা ও চট্টগ্রামে ‘ক্লিন ফিড’ প্রচার করতে পারনবে তারা। পুরো দেশে ছড়িয়ে দিতে বছর পাঁচেকের মত লাগবে।

তিনি বলেছিলেন, পর্যাপ্ত প্রযুক্তিগত সুবিধা পেলে গ্রাহকদের ঘরে ঘরে সেটআপ বক্স বসিয়ে যে সিগন্যাল পাওয়া যাবে তার মাধ্যমে বিদেশি চ্যানেলে বিজ্ঞাপন বন্ধ করা যেতে পারে।

“এই কায়দায় বিজ্ঞাপন কেটে সেই সময়ে কিছু না কিছু সম্প্রচার করতে হবে। কারণ জায়গাটা তো খালি হয়ে যাবে। সেখানে অনুষ্ঠানের প্রমো দেওয়া যেতে পারে কিংবা সরকারি কোনো বিজ্ঞাপনও দেওয়া যেতে পারে।”

নেশনওয়াইড মিডিয়ার সে কাজের অগ্রগতি কতটা হল তা জানতে শনি ও রোববার আফসারকে ফোন করা হলেও সাড়া মেলেনি।

আরেক পরিবেশক কোম্পানি ওয়ান অ্যালায়েন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক সোহেল বলেন, ডিজিটালাইজেশনের ঘাটতি থেকেই গেছে। এর মধ্যে এসেছে করোনাভাইরাসের মহামারী। ফল তাদের কাজের কোনো অগ্রগতি হয়নি। ক্লিন ফিড বাস্তবায়নে তাদের আরও বছর দেড়েক সময় লাগতে পারে।

“দুই বছর আগে সরকার যেভাবে কথা বলেছে, আজকের দিনে সরকার সেই অবস্থায় নাই। আজকের যে অবস্থান, যেটা দুই বছর আগে ছিল না। এখানে ব্রডকাস্টারের সঙ্গে সরকারকেও কথা বলতে হবে। আমরা মাঝখানে একটি মিডিয়ামাত্র। তখন সরকার কঠোর হলে একদিনে বাস্তবায়ন হয়ে যেত।”

সরকারের কাছে পরিবেশক ও কেবল অপারেটরদের দাবি

সোহেল বলেন, বিদ্যুৎ বিলের ব্যবস্থা অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল করা হয়েছে; তাতে কাজ সহজ হয়েছে। তেমনি কেবল ইন্ডাস্ট্রি ডিজিটাল হলে সরকারের রেভিনিউ থেকে ডিস্ট্রিবিউটর ও কেবল অপারেটরদের আয়ও বাড়বে।

 “সরকারকে অনুরোধ করেছি, আপনারা একটা সময় ঘোষণা করেন যে, ওমুক তারিখের পর অ্যানালগ বন্ধ হয়ে যাবে। গ্রাহকদের জানান; বিভিন্ন চ্যানেলে নিয়ে প্রচার চালান।”

এই সেক্টরকে ডিজিটাল ঘোষণার পাশাপাশি ফিড ক্লিন করার জন্য যন্ত্রপাতি বিনাশুল্কে কিংবা স্বল্প শুল্কে আমদানির অনুমতি দিতে সরকারের কাছে অনুরোধ রেখেছেন পরিবেশক ও কেবল অপারেটররা।

বিটিভির সাবেক মহাপরিচালক হারুনও বলেছেন, দেশে ফিড নামানোর পর বিজ্ঞাপন কেটে সম্প্রচার করতে হলে সার্ভারেই মোটা টাকা রচ হবে পরিবেশকদের।

সেই ব্যয়ভার সামলাতে সরকারের কাছে ঋণও চান পরিবেশকরা।

সোহেল বলেন, “আজ পর্যন্ত কেবল অপারেটররা ব্যাংক থেকে কোনো লোন পায়নি। আমাদের লোন দেওয়া হোক, আর এটাকে শিল্প হিসেবে ঘোষণা করা হোক। ক্লিন ফিডের জন্য যন্ত্রাংশ বসাতে যদি গ্রাহক প্রতি ১৫ ডলারও খরচ হয়, তাহলে পুরো ইন্ডাস্ট্রি দাড় করাতে ১৫ থেকে ২০ কোটি ডলার প্রয়োজন, এর জন্য স্বল্প সুদে ঋণের ব্যবস্থা করা হোক।”

এ কাজে কী ধরনের প্রযুক্তি প্রয়োজন জানতে চাইল তিনি বলেন, “আমাদের ৫৭০টির মতো কন্ট্রোল রুম আছে, সেখানে ডিভাইসগুলো সরবরাহ করতে হবে। ক্লিন ফিড পেতে চিপ, ডিকোডার বক্স ও স্যাটেলাইট ট্রান্সপন্ডার দরকার। সুতরাং সেই জিনিসগুলো বাস্তবায়নে আমরা সরকারের কাছে সময় চাইছি।”

বাংলাদেশি টিভি চ্যানেল বিদেশে কীভাবে সম্প্রচার হয়?

২০১৯ সালের সেপ্টেম্বর থেকে দূরদর্শন ডি‌টিএইচ-ডিডি ফ্রি ডিশের মাধ্যমে ভারতে বাংলাদেশ টেলিভিশনের সম্প্রচার শুরু করা হয়।

সে সময় বিটিভির মহাপরিচালকের দায়িত্বে থাকা হারুন-অর-রশিদ বলেন, ভারতে মূলত বিটিভির ‘ক্লিন ফিড’ দেওয়া হয়। ইত্যাদিসহ দুয়েকটি অনুষ্ঠান বিজ্ঞাপনসহ প্রচার করা হলেও ডি‌টিএইচ-ডিডি ফ্রি ডিশের সার্ভারে সেই বিজ্ঞাপনগুলো বাদ দিয়ে তা ভারতে দেখানো হয়।

“আমরা যদি দিতে পারি তাহলে তারা কেন দিতে পারবে না? আমরা বিটিভিতে অলিম্পিক প্রচার করি। সবসময় ক্লিন ফিড পাই না। তখন এখানে আসার পর বিজ্ঞাপনটুকু বাদ দিয়ে চালাই। তাতে হয়ত ত্রিশ সেকেন্ড কিংবা এক মিনিট পরে চলে। এর বাইরে কিছু না।”

“বিটিভি ন্যাশনালে বিজ্ঞাপন পেলেও বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এ আমরা খুব একটা বিজ্ঞাপন পাই না। এখন ন্যাশনালের অনুষ্ঠান বিটিভি ওয়ার্ল্ড-এ চালানোর সময় সেই বিজ্ঞাপনটা বাদ দিয়ে জনসচেতনতামূলক প্রচার যুক্ত করে দিচ্ছি আমরা। এটা দুইভাবেই সম্ভব। তবে বাংলাদেশ থেকে করতে গেলে খরচের বিষয় আছে।”

যে উপায়েই বাংলাদেশের চ্যানেল বিদেশে সম্প্রচার করা হোক না কেন, কোনো দেশেই বাংলাদেশের বিজ্ঞাপন প্রচার হয় না বলে জানান হারুন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক