চাক বেরির অজানা দশ

জন লেনন তাকে মনে করতেন রক সংগীতের সমার্থক; বব মার্লে তাকে বলেন ‘রক সংগীতের শেক্সপিয়ার’। ‘জনি বি গুড’, ‘রোল ওভার বিটোফেন’, ‘সুইট লিটল সিক্সটিন’-এর মতো গানের জনক চাক বেরি চলে গেলেন সাত দশকের বর্ণাঢ্য এক ক্যারিয়ার শেষে।

গ্লিটজ ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 March 2017, 06:58 AM
Updated : 19 March 2017, 07:45 AM

তার বর্ণময় জীবনের অজানা দশ তথ্য নিয়ে এই প্রতিবেদন।

১. সংগীতে ক্যারিয়ার গড়ার আগে বিভিন্ন পেশায় বারবার নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করেছেন চাক বেরি। কাঠমিস্ত্রি, ফ্রিল্যান্স আলোকচিত্রী, কেশ-সজ্জাকর এমনকি ঝাড়ুদার হিসেবেও কাজ করেছেন তিনি।

২. বহু জনপ্রিয় রক অ্যান্ড রোল গানের জনক হলেও টপচার্টের শীর্ষে বেরি’র গান একবারই স্থান পেয়েছিল আর তা হলো ‘মাই ডিং-আ-লিং’। গানটি অবশ্য বেরি লিখেছিলেন অনেক আগে, কিন্তু শুরুতে গানটি কোনো রেডিওস্টেশন বাজাতে চাইতো না এতে অশ্লীল কৌতুক থাকায়!

৩. চাক বেরি’র ‘জনি বি গুড’ গানটি ছিল তার নিজের জীবনেরই আলেখ্য। ১৯৭২ সালে রোলিংস্টোন ম্যাগাজিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছিলেন গানের একটি চরণ ছিল ‘দ্যাট লিটল কালার্ড বয় কুড প্লে’। পরে ‘কালার্ড বয়’ বদলে তিনি করেন ‘কান্ট্রি বয়’, যাতে রেডিও স্টেশনগুলোতে বর্ণবাদের শিকার না হয় তার গানটি।

৪. তার ৬০ তম জন্মদিনের কনসার্টটি মঞ্চস্থ হয়েছিল সেন্ট লুইসের ফক্স থিয়েটারে। এই একই থিয়েটারে শিশু চাক বেরিকে তার বাবার সঙ্গে ‘দ্য টেইল অফ টু সিটিজ’ দেখতে দেওয়া হয়নি, কারণ তারা ছিলেন কৃষ্ণাঙ্গ!

৫. সেন্ট লুইসে ২০১১ সালে উদ্বোধন করা হয় চাক বেরির ৮ ফুট লম্বা এক ব্রোঞ্জ ভাস্কর্য। কিন্তু বেরি’র অতীত জীবনের অপরাধমূলক কর্মাকাণ্ডের জন্য ভাস্কর্যটি উদ্বোধনের বিরোধীতা করে শহরের অনেক লোক।

৬. কৈশোরেই স্কুলের কনসার্টে নিয়মিত বাজানো শুরু করেছিলেন চাক বেরি। কিন্তু একটি ডাকাতির মামলায় দোষী সাব্যস্ত হয়ে তিন বছর তাকে সংশোধনাগারে কাটাতে হয়।

পরে আরও কয়েকবার তাকে বিচারের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ১৯৬২ সালে এক কিশোরীকে ‘অবৈধ উদ্দেশ্যে’ এক রাজ্য থেকে অন্য রাজ্যে নেওয়ার অভিযোগে তার দুই বছর সাজা হয়। কর ফাঁকির অভিযোগে ১৯৭৯ সালে তাকে জেলে কাটাতে হয় ১০০ দিন। ১৯৮৮ সালে এক নারীকে ঘুষি মেরে মামলার মুখে পড়লেও পরে তিনি রফায় আসেন।

৭. এরিক ক্ল্যাপটন একবার চাক বেরি সম্পর্কে বলেছিলেন, “যদি কেউ রক অ্যান্ড রোল কিংবা দ্রত লয়ের যেকোনো কিছু বাজানোর চেষ্টা করে, শেষপর্যন্ত সেটা চাক বেরি’র মতো হবে!”

৮. বিটলস, রোলিং স্টোনস, বিচ বয়েজ-এর মতো ব্যান্ডগুলো কনসার্টে নিজেদের গানের পাশাপাশি চাক বেরির গান বাজাতো। এমনকি এলভিস প্রিসলিও ক্যারিয়ারে বহুবার চাক বেরির গান গেয়েছেন।

৯. অ্যরোস্মিথ-এর গিটারিস্ট জো পেরি বিখ্যাত ব্যান্ডগুলোর চাক বেরির গান গাওয়া নিয়ে বলেছিলেন, “মানুষ সবসময়ই চাক বেরির গান বাজাবে। যখন ব্যান্ডগুলো তাদের হোমওয়ার্ক করে, সবসময়ই তারা চাক বেরি’র গান শোনে। তুমি যদি রক অ্যান্ড রোল শিখতে চাও, এর সম্পর্কে জানতে চাও, তোমাকে চাক বেরি শুনতে হবে।”

১০. বেরি’র সমসাময়িক আরেক রক কিংবদন্তি জেরি লি লুইস তাকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে বলছিলেন, “একবার বেরির সঙ্গে ঝগড়া হলো। সে আমার পিছনে লাথি দিয়ে বললো, সেই রক অ্যান্ড রোলের রাজা! সে বলেছিল এটা এবং পরে সে এটা প্রমাণও করে ছাড়ে। এখন আর আমি তার সঙ্গে তর্ক করি না!”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক