ধূমপানমুক্ত সেন্ট মার্টিন চায় সংসদীয় কমিটি

দেশের একমাত্র প্রবাল দ্বীপ সেন্ট মার্টিনকে ধূমপানমুক্ত এলাকা ঘোষণা করতে সরকারকে সুপারিশ করেছে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।

সংসদ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2021, 03:48 PM
Updated : 29 Nov 2021, 03:51 PM

সোমবার সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত কমিটির বৈঠকে পরিবেশ মন্ত্রণালয়কে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দিতে বলা হয়েছে।

সংসদীয় কমিটির সভাপতি সাবের হোসেন চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, “আমাদের কক্সবাজার, কুয়াকাটা সৈকতের দূষণের একটা বড় কারণ সিগারেটের বাট।

“মাননীয় প্রধানমন্ত্রীরও তামাকপণ্য ব্যবহার কমানো নিয়ে প্রতিশ্রুতি আছে। এজন্য আমরা ধূমপানমুক্ত দ্বীপ করতে চাই। সেন্টমার্টিনে যারা যাবে, সেখানে ধূমপান করা যাবে না।”

সংসদীয় কমিটির সুপারিশের সঙ্গে পরিবেশ মন্ত্রণালয় ‘একমত’ হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে মন্ত্রণালয়।

সাবের হোসেনের সভাপতিত্বে এই বৈঠকে কমিটি সদস্য পরিবেশমন্ত্রী মো. শাহাব উদ্দিন ও উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার উপস্থিত ছিলেন।

এছাড়াও অংশ নেন কমিটির সদস্য তানভীর শাকিল জয়, মো. রেজাউল করিম বাবলু, খোদেজা নাসরিন আক্তার হোসেন ও শাহীন চাকলাদার।

বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণ-পূর্বে মিয়ানমার সীমান্তের কাছে সাগরের বুকে ৮ দশমিক ৩ বর্গকিলোমিটার আয়তনের প্রবালদ্বীপ সেন্ট মার্টিন। প্রশাসনিকভাবে এটি কক্সবাজার জেলার টেকনাফ উপজেলার একটি ইউনিয়ন। সেখানে গ্রাম আছে সব মিলিয়ে নয়টি। স্থায়ী বাসিন্দা প্রায় ১০ হাজার।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ সামুদ্রিক কাছিমের প্রজনন ক্ষেত্র। দ্বীপটিতে ৬৮ প্রজাতির প্রবাল, ১৫১ প্রজাতির শৈবাল, ১৯১ প্রজাতির মোলাস্ট বা কড়ি জাতীয় প্রাণী, ৪০ প্রজাতির কাঁকড়া, ২৩৪ প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ, পাঁচ প্রজাতির ডলফিন, চার প্রজাতির উভচর প্রাণী, ২৮ প্রজাতির সরীসৃপ, ১২০ প্রজাতির পাখি, ২০ প্রজাতির স্তন্যপায়ী প্রাণী, ১৭৫ প্রজাতির উদ্ভিদ, দুই প্রজাতির বাদুড়সহ নানা প্রজাতির প্রাণীর বসবাস ছিল এককালে।

এসব প্রজাতির অনেকগুলো এখন বিলুপ্তির পথে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেও ধীরে ধীরে হারিয়ে যাচ্ছে এসব জীববৈচিত্র্য।

জীববৈচিত্র্য রক্ষায় ১৯৯৯ সালে সেন্ট মার্টিন দ্বীপকে ‘পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা’ ঘোষণা করে সরকার।

সেন্ট মার্টিন দ্বীপ। ফাইল ছবি

সেন্ট মার্টিনে পর্যটক ধারণক্ষমতা নিয়ে নতুন করে সমীক্ষা করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে বলে জানান সাবের হোসেন।

“মন্ত্রণালয় আগে একটা জরিপ করেছিল। বলেছিল এক হাজার থেকে ১২৫০ জন যেতে পারে। সেটা এখনও ঠিক আছে কি না, ১২০০ লোকের চাপ নিতে পারে কি না, সেটাও দেখতে হবে।”

সংসদীয় কমিটির বৈঠকে বুনো হাতি হত্যা নিয়েও আলোচনা হয়।

কমিটি বলছে, বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে যেসব হাতি মারা গেছে সেখানে সব জায়গাতেই পল্লী বিদ্যুতের অবৈধ সংযোগ। এই সংযোগ দেওয়ার সঙ্গে যারা যুক্ত তাদের বিরুদ্ধে মামলা করতে হবে।

সাবের সাংবাদিকদের বলেন, “প্রায় পাঁচটা হাতি বিদ্যুতের কারণে মারা গেল। এটা নিয়ে মামলা হয়েছে। পল্লী বিদ্যুৎ থেকে যে সংযোগ দিয়েছে তার সবগুলি অবৈধ। তাদের বিরুদ্ধে মামলা করবে বন বিভাগ। এই জমিগুলোও দখল করা। যারা সংযোগ দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে মামলা হবে।”

সম্প্রতি চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারে তিনটি হাতি হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়।

সরকারি হিসাবে, দেশে এখন ২৫০ থেকে ৩০০ হাতি টিকে আছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, হাতির চলার পথ দখলমুক্ত করতে হবে, সেই সঙ্গে রক্ষা করতে হবে বনের স্বাস্থ্য। না হলে কেবল হাতি নয়, অনেক বন্যপ্রাণীর অস্তিত্বই আর টেকানো যাবে না।

সংসদীয় কমিটি হাতির আবাসস্থলে বিকল্প খাবার দেওয়ার সুপারিশ করেছে জানিয়ে সাবের বলেন, “আরেকটা জিনিস আমরা দেখলাম, আগে চারটা করিডোর ছিল উখিয়ার ওখানে। রোহিঙ্গারা আসার কারণে বন্ধ হয়ে গেছে। হাতি মুভ করে খাবারের জন্য। আমরা বলেছি, বিকল্পভাবে ওদের খাবারের ব্যবস্থাটা, বর্তমানে হাতি যেখানে আছে ওখানে করা যায় কি না। ওটা করলে তারা হয়ত ধান ক্ষেতে আসবে না। খাবারটা কীভাবে দেওয়া যেতে পারে সে বিষয়ে একটা কৌশল ঠিক করা হবে। পরের বৈঠকে বিষয়টি আমাদের জানাবে।”

হাতিকে না মেরে ফসলহানির ক্ষেত্রে যে ক্ষতিপূরণ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে, সে বিষয়ে সচেতনতা তৈরির কথাও বলেন তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক