ট্রাম্পের বিচারপতি মনোনয়নের প্রতিবাদে নারী বিক্ষোভ

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সুপ্রিম কোর্টে নতুন বিচারপতি এমি কনি ব্যারেটকে মনোনয়নের প্রতিবাদে ওয়াশিংটন ডিসির রাস্তায় বিক্ষোভ মিছিল করেছে হাজার হাজার নারী।

>>রয়টার্স
Published : 18 Oct 2020, 12:18 PM
Updated : 18 Oct 2020, 12:18 PM

শনিবার ওয়াশিংটন নগরীর শহরতলী থেকে সুপ্রিম কোর্ট অভিমুখে তারা পদযাত্রা করেছে।

সুপ্রিম কোর্টের প্রয়াত বিচারপতি রুথ বেডার গিন্সবারগ-কে শ্রদ্ধা জানানোর পাশাপাশি কনি ব্যারেটের বিরোধিতা করা এবং ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে ট্রাম্পকে পরাজিত করার ডাক দেয় বিক্ষোভকারীরা।

তাদের বেশির ভাগেরই মুখে ছিল মাস্ক। অনেকের পরনে ছিল বিচারপতি গিন্সবার্গের মতো কালো পোশাক এবং লেস কলার।

গত ১৮ সেপ্টম্বরে ওয়াশিংটন ডিসিতে মৃত্যু হয় বিচারপতি গিন্সবার্গের। তার মৃত্যুতে আদালতের খালি হওয়া বিচারপতির আসন পূরণ নিয়ে ডেমোক্র্যাট আর রিপাবলিকানদের রাজনৈতিক বিরোধের মধ্যে ট্রাম্প রক্ষণশীল বিচারক এমি কনি ব্যারেটকে মনোনয়ন দেন।

ব্যারেটের নিয়োগ মার্কিন সিনেটের ভোটে নিশ্চিত হলে তিনিই গিন্সবার্গের স্থলাভিষিক্ত হবেন। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তড়িঘড়ি এ পদ পূরণ করতে চাইছেন, আর ডেমোক্র্যাটরা এ প্রক্রিয়া পিছাতে চান।

সিনেটের বিচার বিভাগীয় কমিটি ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিত করতে ২২ অক্টোবর ভোটের দিন নির্ধারণ করেছে। রপাবলিকানদের এই তাড়াহুড়োর প্রতিবাদেই শনিবার নারীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন।

বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, নির্বাচন ঘনিয়ে আসার মুহূর্তে ব্যারেটের নিয়োগ নিশ্চিতের এই পদক্ষেপে তারা ক্ষুব্ধ। কারণ, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা যখন মেরিক গারল্যান্ডকে ২০১৬ সালের নির্বাচনের ৬ মাস আগে এভাবে বেছে নিয়েছিলেন, তখন রিপাবলিকানরা তাতে বাধ সেধেছিলেন; আর এখন তারা হুড়োহুড়ো করছেন।

বিক্ষোভকালে ওয়াশিংটনে ফ্রিডম প্লাজায় সমবেতদের উদ্দেশে বক্তব্য রাখেন ওমেন’স মার্চ এর নির্বাহী পরিচালক র‌্যাচেল ও’ল্যারি। তিনি আসন্ন নির্বাচনে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে ভোট দিতে নারীদের আহ্বান জানান।

২০১৭ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শপথ নেওয়ার সময়ও তার বিরুদ্ধে প্রথম ‘ওমেন্স মার্চ’ হয়েছিল ওয়াশিংটনে। সেই বিক্ষোভ থেকে অনুপ্রাণিত হয়েই এবারের এই নারী বিক্ষোভ।

র‌্যাচেল ও’ল্যারি বলেন, “যখনই আমরা এক হই, রাস্তায় নামি, ভোট দেই, তখনই যুক্তরাষ্ট্রে একক সবচেয়ে শক্তিশালী রাজনৈতিক শক্তি হয়ে ওঠে নারীরা। এমন কিছু নেই, এমন কোনও কিছুই নেই, যা দিয়ে ট্রাম্প আমাদেরকে থামিয়ে দিতে পারেন।”

নারীবাদী গ্রুপ আলট্রাভায়োলেটের পরিচালক স্পু বলেছেন, “প্রকৃত সত্য হল, আমরা শক্তিশালী। আর তারা ভীতু। তারা এখন রশির ওপর দিয়ে হাঁটছে। তারাও সেটা জানে। আমরা তাদেরকে ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিতে চলেছি।”

শিকাগোর কাছে ইলিনয়ের হিলস এলাকা থেকে প্রুডেন্স সুলিভান এবং ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিল থেকে তার বোন উড়ে গিয়ে যোগ দেন এই বিক্ষোভে।

সুলিভান বলেন, “আমরা কোভিডের কাছে হেরে গেছি। ব্লাক লাইভস ম্যাটার, বর্ণবাদ নিয়ে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে সংঘাত হচ্ছে।” সুলিভান ও তার স্বামী বলেছেন, ট্রাম্প যদি নির্বাচনে আবার জয়ী হন তাহলে তারা দেশের বাইরে চলে যাবেন।

দেশজুড়ে আরও বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ করার পরিকল্পনা রয়েছে বিক্ষোভকারীদের। ব্যারেট বিচারপতি পদে বসলে তিনি গর্ভপাতের মতো বিষয়গুলোতে কড়াকড়ি আরোপ করতে পারেন বলে শঙ্কিত অনেকেই।

এ সপ্তাহে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা, গর্ভপাত, জলবায়ু পরিবর্তন, ভোটের অধিকারসহ ওবামাকেয়ার নিয়ে সিনেট বিচারবিভাগীয় কমিটির শুনানিতে প্রশ্ন করা হলে এর কোনও সদুত্তরও দিতে পারেননি ব্যারেট।

তিনি সুপ্রিম কোর্টে বিচারপতি হলে ৬-৩ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করবে রক্ষণশীলরা, যা হবে রিপাবলিকানদের জন্য সুবিধাজনক।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক