বিনা প্রশ্নে ‘পাচার হওয়া অর্থের বৈধতা’ দেওয়ার প্রস্তাবে সংসদে ক্ষোভ

আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ বিনা প্রশ্নে ফেরত আনার সুযোগ রাখায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা।

সংসদ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 14 June 2022, 04:38 PM
Updated : 14 June 2022, 04:46 PM

গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার বাজেট প্রস্তাব করেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল।

বাজেটের বিশাল ব্যয় মেটাতে বিদেশ থাকা সম্পদের ‘দায়মুক্তি’ দিয়ে তা দেশে ফেরত আনার প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী। এর ফলে ১৫ থেকে ৭ শতাংশ কর দিয়ে বিদেশে থাকা স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি দেশে সরকারের খাতায় বৈধ আয়ের তালিকায় যুক্ত করা যাবে, সেই অর্থ দেশেও আনা যাবে। ওই আয়ের উৎসব জানতে চাওয়া হবে না।

প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় মঙ্গলবার জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান এ ধরনের সুযোগ রাখা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। বাজেটের প্রস্তাবিত এই বিধানকে ‘অনৈতিক’ আখ্যা দেন তারা।

বাজেটের বিভিন্ন দিকের সমালোচনা করে শামীম হায়দার পাটোয়ারী বলেন, “এই বাজেট বৃহৎ ব্যবসাবান্ধব বাজেট, এটি প্লাস্টিকবান্ধব বাজেট। এটি তামাক কোম্পানিবান্ধব।”

তিনি বলেন, “এই বাজেট সমস্যা সমাধানের বাজেট নয়, গণমুখী নয়। এই বাজেট মধ্যবিত্তের ওপর চাপ বাড়াবে। এটি অনৈতিক বাজেট, এখানে পাচার করা টাকা বিনা প্রশ্নে দেশে ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। তাই এটা অনৈতিক বাজেট।”

প্রস্তাবিত বাজেটকে ‘সতর্কতার বাজেট’ আখ্যা দিয়ে জাতীয় পার্টির শামীম হায়দার বলেন, “৯৮ হাজার কোটি টাকা বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করার কথা বলা হয়েছে। এটা সম্ভব হবে বলে মনে হয় না। এই বাজেটের ফলে ব্যাংক, কর্মসংস্থান ও ক্ষুদ্র ও মাঝারি ঋণ চাপে পড়বে।”

তিনি করমুক্ত আয়সীমা পাঁচ লাখ করা, এনবিআরের সক্ষমতা বাড়নো, কর সক্ষমতা বাড়ানো, প্রবাসী আয়ে প্রণোদনা পাঁচ শতাংশ করা, প্রবাসীদের পেনশন দেওয়ার ব্যবস্থা করা, দক্ষ জনবল তৈরিতে গুরুত্ব দেওয়ার প্রস্তাব করেন।

এর আগে বিএনপির সংসদ সদস্য জাহিদুর রহমান বলেন, “টাকা পাচারকারীদের অর্থ নিরাপদে ফিরিয়ে আনার জন্য এই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে। সুবিধাভোগী এবং কিছু সংখ্যক অসাধু ব্যবসায়ীকে অর্থ পাচারে সুযোগ দিতে এই বাজেট করা হয়েছে।”

তিনি বলেন, “অর্থ পাচারকারীদের শাস্তি না দিয়ে নামমাত্র কর দিয়ে পাচার করা টাকা ফিরিয়ে আনার সুযোগ দেওয়ার প্রস্তাব অনৈতিক। অবৈধ অর্থ ঢালাওভাবে বৈধ করার সুযোগ দেওয়া অর্থনৈতিক, রাজনৈতিক, নৈতিক কোন দিক থেকে সমর্থনযোগ্য নয়। নিত্যপণ্যের মূল্য কমানোর কার্যকরী কোনো কৌশল এই বাজেটে নেই।”

অর্থ পাচারকারীদের চিহ্নিত করা এবং তাদের অর্জিত সম্পদ বাজেয়াপ্ত করার দাবি জানান তিনি।

সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোস্তাফিজুর রহমান প্রশ্ন তোলেন, “কারা টাকা পাচার করেছে, কোথায় পাচার করেছে?” তিনি তাদের নাম জানতে চান।

মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “তিনি একজনের কথা জানেন, যার পাচার করা টাকা দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে, তিনি কোকো (আরাফাত রহমান)।”

আলোচনায় আরও অংশ নেন আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য রমেশচন্দ্র সেন, হাবিবে মিল্লাত, আব্দুস সোবহান, আরমা দত্ত, আনোয়ারুল আবেদিন খান, নাজিম উদ্দীন, সাইফুজ্জামান শিখর।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক