১২ বছরে ফল উৎপাদন বেড়েছে ২২%, দরকার ‘আরও’

কৃষি মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক বলেছেন, গত কয়েক বছরে বাংলাদেশ ফল উৎপাদনে বিশ্বে ‘সফলতার উদাহরণ’ হয়ে উঠতে পেরেছে; কিন্তু দেশের মানুষের চাহিদার তুলনায় তা এখনও অনেক কম।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 13 June 2022, 06:20 AM
Updated : 13 June 2022, 06:43 AM

১৬ জুন 'জাতীয় ফল মেলা' সামনে রেখে সোমবার মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে দেশের ফল উৎপাদনের সার্বিক চিত্র তুলে ধরেন তিনি।

মন্ত্রী বলেন, এ মুহূর্তে বিশ্বে ফলের উৎপাদন বৃদ্ধির সর্বোচ্চ হারের রেকর্ড বাংলাদেশের। জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থার (এফএও) হিসাবে বছরে সাড়ে ১১ শতাংশ হারে বাড়ছে ফল উৎপাদন।

কাঁঠাল উৎপাদনে এখন বাংলাদেশ বিশ্বে দ্বিতীয়, আমে সপ্তম, পেয়ারা উৎপাদনে অষ্টম, পেঁপে উৎপাদনে চতুর্দশ অবস্থানে রয়েছে। মৌসুমি ফল উৎপাদনে বিশ্বের শীর্ষ ১০ দেশের তালিকায় নাম লিখিয়েছে বাংলাদেশ।

নিত্যনতুন ফল চাষের দিক থেকেও বাংলাদেশ সফলতা পেয়েছে জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, ২০ বছর আগে আম আর কাঁঠাল ছিল দেশের প্রধান ফল। এখন বাংলাদেশে ৭২ প্রজাতির ফলের চাষ হচ্ছে, যা আগে ৫৬ প্রজাতির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল।

কিন্তু এই উৎপাদনও দেশের প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়। দৈনিক যেখানে মাথাপিছু ২০০ গ্রাম ফলের চাহিদা রয়েছে, সেখানে যোগান রয়েছে ৮৫ গ্রামের।

তবে ফল উৎপাদন বাড়ায় বাংলাদেশের মানুষের মাথাপিছু দানা জাতীয় শস্য গ্রহণের পরিমাণ কমেছে এবং মাথাপিছু ফল গ্রহণের পরিমাণ বেড়েছে। ২০০৬ সালে মাথাপিছু ফল গ্রহণের হার যেখানে ৫৫ গ্রাম ছিল, তা ২০১৮সালে ৮৫ গ্রাম হয়েছে।

মন্ত্রী বলেন, ২০০৮-০৯ সালে দেশে ফলের উৎপাদন ছিল প্রায় ১ কোটি টন, আর এখন প্রায় ১ কোটি ২২ লাখ টন ফলের উৎপাদন হচ্ছে। গত ১২ বছরে ফলের উৎপাদন বেড়েছে ২২ শতাংশ।

“বর্তমান সরকার এখন সকল মানুষের জন্য নিরাপদ ও পুষ্টিসমৃদ্ধ খাদ্য নিশ্চিত করতে কাজ করছে। এক্ষেত্রে ফল ও ফলদ বৃক্ষের গুরুত্ব অপরিসীম।”

রাজ্জাক বলেন, মানুষের দৈনন্দিন খাদ্য তালিকায় পরিমিত পরিমাণে ফল দেশের খাদ্য ও পুষ্টি নিরাপত্তা অর্জনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে। সেজন্য ফল উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি পরিবেশসম্মত নিরাপদ ফল উৎপাদনেও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

“একমাত্র নিরাপদ ফলই আমাদের পুষ্টির ঘাটতি পূরণ করতে পারবে। ইতোমধ্যে এদেশের বিজ্ঞানীরা দেশে চাষোপযোগী ৩০টি বিভিন্ন প্রজাতি ফলের ৬৫টি উন্নত জাত উদ্ভাবন করেছেন।”

দেশি ফলের পাশাপাশি বিদেশি ফলের চাষ আস্তে আস্তে বাড়ছে জানিয়ে তিনি বলেন, দেশের পাহাড়ি অঞ্চল ও উত্তরাঞ্চলের অনেক জায়গায় কাজুবাদাম ও কফি চাষের সম্প্রচারণ হচ্ছে।

রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউট চত্বরে ১৬ থেকে ১৮ জুন প্রতিদিন সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা ফল মেলা বসবে। মেলার এবারের প্রতিপাদ্য 'বছরব্যাপী ফল চাষে, অর্থ পুষ্টি দুই-ই আসে'।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক