উল্টো পলিথিনে শুল্ক কমানোর প্রস্তাব

পরিবেশ রক্ষায় পলিথিন বন্ধের কথা সরকার বলে এলেও নতুন অর্থবছরের বাজেটে দেখা গেছে উল্টো চিত্র।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 9 June 2022, 02:24 PM
Updated : 9 June 2022, 02:56 PM

বৃহস্পতিবার অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে পলিথিনে সম্পূরক শুল্ক কমানোর প্রস্তাব করেছেন। তার এই প্রস্তাবে খুশি হয়েছেন পলিথিন ব্যবসায়ীরা।

সব ধরনের পলিব্যাগ, প্লাস্টিক ব্যাগ (ওভেন প্লাস্টিক ব্যাগসহ) ও মোড়ক সামগ্রীর উপর গত অর্থবছরে যে ৫ শতাংশ সম্পূরক শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, তা এবার প্রত্যাহারের প্রস্তাব করেছেন অর্থমন্ত্রী।

পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর পলিথিন বন্ধে বরাবরই বলে আসছেন সরকারের মন্ত্রীরা। হতাশা প্রকাশ করেছেন পরিবেশবাদীরা।

চলতি বছর ধরিত্রী দিবসের অনুষ্ঠানে তথ‌্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ পলিথিন ব্যবহার না করতে সবাইকে উৎসাহিত করেছিলেন।

পলিথিনের ব্যবহার কমিয়ে পাটের ব্যবহার বাড়াতে গত মার্চে এক অনুষ্ঠানে বলেছিলেন বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী।

এদিকে অর্থমন্ত্রী কর কমানোর প্রস্তাব দেওয়ায় তাকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন মোতালেব প্লাস্টিক শিট অ্যান্ড প্যাকেজিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক আবু মোতালেব।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গত বছর আমাদের উপর ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিলো সরকার। তারপর আমরা সবাই মিলে দাবি জানিয়েছিলাম। এবছর আমাদেরকে এ থেকে অব্যাহতি দিয়েছে।

“আমরা এবার খুব আশাবাদী, প্লাস্টিকের ব্যবহার তো বাড়ছেই, এটা এখন আরও বাড়বে। শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় আমরা প্লাস্টিক শিল্পকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।”

তার দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে এখন বছরে মাথাপিছু ২১-২৮ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়, কয়েক বছর আগে যা ছিল ৬-৭ কেজি।

“বর্তমানে ইউরোপে মাথাপিছু ১১০-১২০ কেজি প্লাস্টিক ব্যবহার করা হয়। আমরা ইনশাল্লাহ ওইখানে দ্রুতই পৌঁছে যাব।”

মোতালেব বলেন, আগে তাদের মোড়কের কাঁচামাল আমদানি করতে হত, এখন সব দেশেই তৈরি হয়।

প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলনের (বাপা) সহসভাপতি আব্দুল মতিন বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কী বলবো বলেন! আমরা সবাই জানি যে এই পলিথিন মাটির সাথে মিশে না। পৃথিবী যতদিন থাকবে এগুলাও ততদিন থাকবে। আমরা যখন বাপা শুরু করলাম, দ্বারে দ্বারে গেছি মানুষের যাতে তারা পলিথিন ব্যবহার না করে। অথচ আজ সরকার থেকে পলিথিন ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে।

“আজকে আবার এটাই প্রমাণিত হল, আমাদের দেশের দুইটা প্রধান রাজনৈতিক দল পলিথিন বন্ধ করতে সক্ষম না। রাজনীতিবিদরা পলিথিন বন্ধের কথা শুধু বক্তৃতায় বলে, কিন্তু বাস্তবে তারা এসব বিষয় কানে তোলেন না।”

পলিথিন নিয়ে এই প্রস্তাবকে প্রস্তাবিত বাজেটে ‘কালো দাগ’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের প্রধান অধ্যাপক আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ব্যবসায়ীরা তাদের দৃষ্টিভঙ্গি থেকে লাভ দেখছে। কিন্তু এই প্লাস্টিক তাদের জন্যও ক্ষতিকর, একটা সময় তারাও এটা বুঝবে।”

পলিথিনের ক্ষতিকর দিক তুলে ধরে তিনি বলেন, “পলিথিন ত্রিমাত্রিকভাবে আমাদের পরিবেশের ক্ষতি করে। মাটি, পানি, বায়ুকে সমানভাবে দূষণ করে। যেমন, এই পলিথিন মাছকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। সেই মাছ আমরা খাই আবার। এভাবে এই পলিথিন খাদ্য শৃঙ্খলের মাঝেও চলে আসছে।

“এটা ২০০১ সালে আইন করে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যে জিনিস একবার নিষিদ্ধ করা হয়েছে, সেই একই জিনিস আবার ২০২২ সালে ট্যাক্স কমানোর মাঝ দিয়ে উৎসাহিত করা তো ভালো কোনো বিষয় না। আশা করছি, সরকার রিভাইজড বাজেটে শুল্ক আগের মতো বাড়িয়ে দেবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক