যুদ্ধে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি: আরও বেশি চাপ সামলাতে কী করবে বাংলাদেশ?

নিয়মিত আমদানি অব্যাহত রাখার বিকল্প না থাকায় ইউক্রেইনের ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম হু হু করে বাড়তে থাকায় আরও বেশি চাপে পড়তে যাচ্ছে বাংলাদেশ।

রিয়াজুল বাশার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 Feb 2022, 07:43 PM
Updated : 25 Feb 2022, 08:16 PM

এমনিতেই আগের চেয়ে চড়া মূল্যে এলএনজি কেনার কারণে অতিরিক্ত মূল্য গুণতে হচছে। এখন যেভাবে তেলের দাম বৃদ্ধি চোখ রাঙাচ্ছে তাতে কোভিড মহামারী থেকে পুনরুদ্ধারের পথে থাকা অর্থনীতি আবার চোঁট খাবে কি না তা নিয়ে শঙ্কা দেখা দিয়েছে।

ঊর্ধ্বমুখী জ্বালানির আন্তর্জাতিক বাজারে উত্তাপ ছড়িয়েছে ইউক্রেইনকে ঘিরে রাশিয়ার যুদ্ধের দামামা। প্রতিবেশী দেশটির সীমান্তে সৈন্য সমাবেশের খবরের পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকে।

আর রাশিয়ান প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সামরিক অভিযান শুরুর নির্দেশের পর তা ১০০ ডলার ছাড়িয়ে আট বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছায়।

এখন এর চড়া মূল্য দিতে যাচ্ছে আমদানিনির্ভর বাংলাদেশসহ আরও অনেক দেশ। আন্তর্জাতিক বাজারে অচিরেই জ্বালানির মূল্য পরিস্থিতি কমার কোনো আশাও দেখছেন না তারা।

এমন প্রেক্ষাপটে হুট করে জ্বালানি ব্যয় আরও অনেক বেড়ে যাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, যা অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে বলে আশঙ্কা সরকারি নীতি নির্ধারক ও বিশেষজ্ঞসহ সংশ্লিষ্টদের।

তাদের মতে, জ্বালানির দাম বাড়লে তা আরও বেশ কিছু ক্ষেত্রে সরাসরি প্রভাব ফেলে; অনেক কিছুকে ঘিরে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। এ কারণে সরকার উচ্চমূল্যের জ্বালানির ব্যয় মেটাতে কোন পথে হাঁটবে তা নিয়ে ভাবনা তৈরি হয়েছে।

পরিবহন ও সেচের মতো কাজে দৈনন্দিন ব্যবহারের পাশাপাশি দেশে বিদ্যুৎ উৎপাদনের প্রধান জ্বালানির একটি এখন ডিজেল। প্রতিদিনের চাহিদা মেটাতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহে টান পড়ায় অনেক কেন্দ্রই এখন চলছে ডিজেলে।

এ কারণে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানির দাম নতুন করে বেড়ে যাওয়া চিন্তায় ফেলেছে নীতি নির্ধারকদের। চড়া এলএনজির বিশ্ববাজার এমনিতেই দুর্ভাবনায় রেখেছে তাদের। বিশ্লেষকদের পাশাপাশি শিল্পোদোক্তারাও চোখ রাখছেন পরিস্থিতির দিকে।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “শুধু তেলের দাম না, বিশ্ববাজারে গ্যাসের দামও বাড়ছে। তবুও আমাদের আমদানি করতে হবে।

“এই উচ্চমূল্যে আমদানি করে বিক্রি করতে হলে দুটো উপায় সামনে আছে। হয় ভর্তুকি দিতে হবে, না হলে জ্বালানির দাম বাড়াতে হবে।”

তিনি বলেন, “তেলের দাম বাড়লে, বিদ্যুতের দাম বাড়বে। বিদ্যুতের দাম বাড়লে উৎপাদন সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাতের পণ্যেরও মূল্যবৃদ্ধি পাবে।

“এখন কী করা যায় সেটাই আমরা ভাবছি। কোনও সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়নি।”

দেশে জ্বালানি তেল আমদানির দায়িত্বপ্রাপ্ত সংস্থা বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) কর্মকর্তাদের তথ্য মতে, বর্তমানে দেশে সংকট না হলেও উচ্চমূল্যেই পরিশোধিত বা অপরিশোধিত জ্বালানি তেল কেনার কোনও বিকল্প নেই সরকারের সামনে।

কেননা জ্বালানি নীতি অনুযায়ী বিপিসির কাছে যে তেল মজুদ থাকে তা দিয়ে এক মাসের বেশি সময় চালানো যায়। তাই নিয়মিত আমদানি বন্ধ রেখে ওই মজুদের ওপর ভরসা করে বসে থাকার উপায় নেই বলে জানাচ্ছেন কর্মকর্তারা।

প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদও আমদানি অব্যাহত রাখার কথাই বলেছেন।

তবে ইউরোপকে ঘিরে যুদ্ধাবস্থার কারণে তেঁতে ওঠা তেলের বাজার থেকে জ্বালানি সংগ্রহে আগের চেয়ে অতিরিক্ত অর্থ গুণতে বাধ্য হবে বাংলাদেশ। মূল্য সমন্বয় না করলে লোকসানের পরিমাণ বাড়বে।

এখন ডিজিলে প্রতিদিন প্রায় ১৩ কোটি টাকার মতো লোকসান দিচ্ছে বিপিসি। অন্যান্য জ্বালানিসহ এর পরিমাণ আরও বেশি বলে জানান সংস্থাটির পরিচালক (অর্থ) কাজী মুহাম্মদ মোজাম্মেল হক।

গত ২০২০-২১ অর্থবছরে বিপিসি বিভিন্ন ধরনের জ্বালানি তেল বিক্রি করেছে প্রায় ৬৩ লাখ মেট্ট্রিক টন, যার মধ্যে ৭৩ শতাংশই ডিজেল।

প্রতিমন্ত্রীর ধারণা এখন যেভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছে, সেই দামে তেল আমদানি করলে বিপিসির প্রতিদিনের লোকসান ২০ কোটিতে গিয়ে দাঁড়াবে।

তবে কোভিড মহামারীর দুর্দশা থেকে অর্থনীতি গতিশীল হওয়ার এই সময়কালে লোকসান বাড়লেও এখনই মূল্য সমন্বয়ের পথে না হাঁটার পরামর্শ এসেছে একজন জ্বালানি বিশেষজ্ঞের কাছ থেকে।

অব্যাহত থাকবে তেল কেনা?

কোভিড মহামারীর পর দ্বিতীয় ঢেউ শেষে বিশ্বজুড়ে অর্থনীতি গতিশীল হতে শুরু করলে জ্বালানি তেলের দামও বাড়তে থাকে। সেই প্রবণতা গত কয়েক মাসে ক্রমেই ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। এর মধ্যেই ইউক্রেইন ও রাশিয়ার টানাপড়েন তেলের বাজারকে তাঁতিয়ে দেয়।

আর রাশিয়ার সামরিক অভিযান শুরুর পর বিশ্ববাজারে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ২০১৪ সালের পর প্রথমবারের মতো ১০০ ডলার ছাড়ায়; এক পর্যায়ে বৃহস্পতিবার তা ১০৫ ডলারে পৌঁছে।

শুক্রবার সেই দর যদিও কিছুটা কমেছে। তবে তা কোন দিকে যাবে তা আরও কয়েকদিন বাদেই স্পষ্ট হবে। কেননা পশ্চিমের অর্থনীতি ও জ্বালানি খাতের বিশ্লেষকদের আশঙ্কা অন্যতম প্রধান তেল সরবরাহকারী দেশ রাশিয়ার ওপর বড় অর্থনীতির দেশগুলোর নিষেধাজ্ঞায় বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থা বিঘ্নিত হতে পারে।

রয়টার্সের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার দিনের প্রথমভাগে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম কিছুটা কমে ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের নিচে (৯৮.২৯ ডলার) নেমেছে। যদিও শুরুর দিকে তা বেড়ে ১০১.৯৯ ডলার হয়েছিল। আর মে মাসে সরবরাহ করা হবে এমন চালানের দাম দশমিক ৫ শতাংশ কমে ৯৪.৯১ ডলারে নামে।

বিশ্ববাজারের এমন হালচালের মধ্যে বিপিসির পরিচালক মোজাম্মেল হক বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বিশ্ববাজারের দাম যতই বাড়ুক আমাদের জ্বালানি তেল কিনতেই হবে। চাহিদা মেটাতে হলে তেল আমদানি না করে আমাদের কোনও উপায় নেই।”

দেশে গণপরিবহন ও সেচসহ টুকিটাকি কিছু কাজে এখন ডিজেলই প্রধান জ্বালানি। এর বাইরে বিদ্যুৎ উৎপাদনে এ জ্বালানি পণ্য ব্যাপক পরিমাণে ব্যবহার হচ্ছে।

এখন বোরো মৌসুমে সেচ পাম্পে এবং শুষ্ক মৌসুম চলে আসায় গরমে বিদ্যুতের দৈনিক চাহিদা বাড়ছে। এজন্য বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়তে থাকায় ডিজেলের চাহিদাও বাড়ছে। বিদ্যুৎবিহীন সেচ পাম্পেও ডিজেলের ব্যবহার বাড়ছে।

আবার অতিরিক্ত ব্যয়ের তেলভিত্তিক বিদ্যুতকেন্দ্রগুলোর ওপর নির্ভরশীলতার কারণে বিদ্যুৎ উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) হিসাবে, আমদানিসহ দেশের বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর উৎপাদন ক্ষমতা ২২ হাজার ৬৬ মেগাওয়াট। এরমধ্যে গ্যাসভিত্তিক ৫১ দশমিক ৩৫ শতাংশ এবং তেলভিত্তিক ৩৩ দশমিক ৩১ শতাংশ।

তবে গ্যাসের অপ্রতুলতার কারণে উচ্চমূল্যের তেলভিত্তিক কেন্দ্র থেকেই সরকারকে বেশি বিদ্যুৎ কিনতে হচ্ছে।

পিডিবির হিসাবে, বুধবার আমদানিসহ বিদ্যুৎ উৎপাদন হয়েছে, ২০৩ দশমিক ৩৮ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘন্টা। এরমধ্যে গ্যাসভিত্তিক কেন্দ্রগুলো থেকে ১০৫ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘন্টা উৎপাদনে জ্বালানি খরচ হয়েছে প্রায় ১১ কোটি টাকা।

আর তেলভিত্তিক ৬১ মিলিয়ন কিলোওয়াট ঘন্টা উৎপাদনে খরচ হয়েছে প্রায় সাড়ে ৪৩ কোটি টাকা।

ওইদিন গ্যাসের অভাবে ৪৬০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ উৎপাদন করা যায়নি বলে পিডিবির হিসাবে দেখা গেছে।

পেট্রোবাংলার হিসাবে, বুধবার ২৯১৬ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ করা হয়েছে। ওইদিন বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলোর ২২৫২ মিলিয়ন ঘনফুট চাহিদার বিপরীতে সরবরাহ করা হয়েছে মাত্র ৭৯৪ মিলিয়ন ঘনফুট।

গ্যাস সরবরাহ ও বিদ্যুৎ উৎপাদনের এমন পরিসংখ্যান বলছে, আমদানিনির্ভর ডিজেলের প্রতি নির্ভরতা বাড়ছে। 

কী করবে সরকার?

লোকসান কমাতে জ্বালানি তেলের মূল্য সমন্বয়ের জন্য গত বছর নভেম্বরে দেশের বাজারে ডিজেল ও কেরোসিনের দাম লিটারে ১৫ টাকা বা ২৩ শতাংশ বাড়ায় সরকার। দাম বাড়ানো নিয়ে সমালোচনা, আন্দোলনের মুখেও পড়তে হয়।

দাম বাড়ানোর তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়ে জ্বালানি সংশ্লিষ্ট উৎপাদন ও সেবা খাতগুলোতে। বাসভাড়া যেমন বেড়েছে, তেমনি বিদ্যুতের দাম বাড়ানোরও আলোচনা শুরু হয়েছে।

মাঝে বিশ্ববাজারে তেলের দাম কমে যাওয়ায় একসময় বিপুল অঙ্কের লোকসানে থাকা বিপিসি গত পাঁচ বছরেরও বেশি সময় মুনাফা করে আসছিল। তবে গত বছর আবার দাম বাড়তে থাকলে বড় লোকসানের মুখে পড়ে রাষ্টায়ত্ত সংস্থাটি।  

এরপর গত নভেম্বরে দাম বাড়ানোর পরও প্রতিদিন কয়েক কোটি টাকা লোকসান করছে।

এমন প্রেক্ষাপটে বিশ্ববাজারে আবারও অত্যাবশ্যকীয় এ পণ্যের দাম চড়া হতে থাকলে সরকারের করণীয় বিষয়ে জানতে চাওয়া হয়েছিল জ্বালানি নীতি বিশেষজ্ঞ ম. তামিমের কাছে।

ভর্তুকি কিংবা দেশের বাজারে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি বিষয়ে প্রশ্নে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে তিনি বলেন, “এটা একটা কঠিন চ্যালেঞ্জ। এক পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, তেলের দাম আগামী ছয় থেকে আট মাস পর্যন্ত ১০০ ডলারের ওপরেই থাকবে। আরেকরকম পূর্বাভাসে বলা হচ্ছে, এটা আবার নেমে আসবে।

”আমি মনে করি এখনই দাম না বাড়িয়ে যতদিন এটা সহনীয় পর্যায়ে না আসে ততদিন ভর্তিুকিতেই থাক। অথবা একটা সময় ঠিক করে দেওা যায় যে, এতদিন পর্যন্ত আমরা দেখব। এরমধ্যে কমে এলে আমরা আর দাম বাড়াবো না।”

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের এই উপদেষ্টা বলেন, “কিন্তু বিশ্ববাজারে যদি খুব বেশি বেড়ে যায়- তাহলে তো দাম বাড়াতেই হবে। সরকারের ভর্তুকি দেওয়ার ক্ষমতা কতটুকু তার ওপর নির্ভর করবে দাম বাড়ানোর।”

জ্বালানি তেলের দাম বাড়ানোর চ্যালেঞ্জের কথাও মনে করিয়ে দিয়ে তিনি বলেন, সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো প্রায় সব জিনিসপত্রেরই দাম বাড়বে। কিন্তু কিছু করার নেই। সব জায়গায়ই দাম বাড়ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউরোপে বিদ্যুতের দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে গেছে।

“আমরা একটা কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাচ্ছি- এটাই হলো বাস্তবতা”

তিনি বলেন, “কম্প্রোমাইজ হলো দুই জায়গায়। একটা হলো- আমাদের উন্নয়ন কাজ ব্যাহত হবে, কিছুদিন হয়তো বন্ধ থাকবে। সেটা যদি করি তাহলে আমরা জনগণকে হয়তো দাম বৃদ্ধি থেকে রক্ষা করতে পারবো ভর্তুকি দিয়ে।

“আর যদি আমরা সেটা (ভর্তুকি না দিয়ে) না করি, তাহলে আমরাদের অর্থনীতির ওপর বিরাট একটা চাপ সৃষ্টি হবে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে যাবে। সব জিনিস ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলে যাবে।”

ম. তামিম আরো বলেন, “এটা এখন সারা পৃথিবীর সমস্যা শুধু আমাদের না, বিশেষ করে যারা জ্বালানি আমদানি করছে।”

এলএনজিতে গুণতে হচ্ছে কাড়ি কাড়ি ডলার

শুধু জ্বালানি তেল নয়, প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ কমে আসায় এলএনজি আমদানি করতে গিয়েও ভুগছে বাংলাদেশ।

প্রাকৃতিক গ্যাসের বিকল্প এ গ্যাসের আন্তর্জাতিক বাজার বেশ কিছু দিন থেকেই অস্থির। এরমধ্যে গত বছর তা সবচেয়ে বেশি উত্তাপ ছড়িয়ে সর্বোচ্চ মূল্যের রেকর্ড গড়ে। স্পট মার্কেট থেকে এই গ্যাস কিনতে গিয়েও এক বছর আগের তুলনায় অনেক চড়া মূল্য দিতে হচ্ছে।

সবশেষ ২৩ ফেব্রুয়ারি আরও এক কার্গো এলএনজি কিনতে অনুমোদন দিয়েছে সরকার। যেজন্য এক বছর আগের তুলনায় প্রায় চারগুণ বেশি দাম দিতে হবে।

বিশ্ববাজারে ঊর্ধমুখী প্রবণতার মধ্যে সিঙ্গাপুরের ভিটল এশিয়ার কাছ থেকে এক কার্গোতে করে ৩৩ লাখ ৬০ হাজার এমএমবিটিই এলএনজি কেনার জন্য প্রতি এমএমবিটিইউ এলএনজির দাম দিতে হবে ২৯ দশমিক ৭০ ডলার।

গত বছর মার্চে যা ছিল ৭ দশমিক ২১ ডলার। তখন একই এলএনজি সরবরাহকারী কোম্পানি ভিটল এশিয়ার থেকে ওই দরে কেনা হয়েছিল এলএনজি।

এর আগে গত ৬ অক্টোবর গানভর সিঙ্গাপুরের কাছ থেকে আরও বেশি দরে এলএনজি কেনার অনুমোদন দিয়েছিল সরকারের ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি। তখন দর ছিল প্রতি ব্রিটিশ থার্মাল ইউনিট (এমএমবিটিইউ) ৩৬ দশমিক ৯৫ ডলার।

কোভিডের দ্বিতীয় ঢেউ চলকালীন সময়ে গত বছরের মাঝামাঝি সময় থেকে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বাড়তে শুরু করে। এ পরিস্থিতিতে বছর শেষে সরকারকে অত্যাবশ্যকীয় এ জ্বালানি কেনার পরিকল্পনায় কাটছাঁটও করতে হয়েছিল।

ওই সময় জ্বালানি সচিব আনিছুর রহমান সেপ্টেম্বর থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারের পাঁচ কার্গো এলএনজি কেনার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন। তবে দাম বেড়ে যাওয়ায় তা তিন কার্গোতে নামিয়ে আনার কথা বলেছিলেন তিনি।

এখন গ্যাসের চাহিদা বাড়তে থাকায় আবার আমদানির প্রক্রিয়া শুরু করতে হয়েছে সরকারকে।

গত শনিবার রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সাল ছিল এলএনজির বাজারের অস্থিরতম একটি সময়। বছরের শুরুতে প্রতি ইউনিটের দাম দুই ডলার থাকলেও অক্টোবরের দিকে তা বেড়ে গিয়ে ৫৬ ডলারে ঠেকে।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক