সম্ভাবনাময় বাজারের সুফল নিতে বিদেশিদের বিনিয়োগের আহ্বান

বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় বাজারের সুফল নিতে আরও বেশি বিদেশি বিনিয়োগের আহ্বান এসেছে ঢাকায় শুরু দুই দিনের আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্মেলনের প্রথম দিনের আলোচনায়।

নিজস্ব প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Nov 2021, 05:37 PM
Updated : 28 Nov 2021, 05:37 PM

রোববার সকালে ঢাকার হোটেল র‌্যাডিসনে সম্মেলনের উদ্বোধনের পর বিকালের ভাগে পাঁচটি পৃথক বিষয়ে আলোচনায় অংশ নেন সরকারী নীতি নির্ধারক, ব্যবসা ও বিনিয়োগ খাত সংশ্লিষ্ট এবং উন্নয়ন সহযোগী সংস্থার প্রতিনিধিরা।

প্রথম পর্বে ‘ইনভেস্টমেন্ট কম্পিটেটিভনেস অ্যান্ড বিজনেস এনভাইরনমেন্ট: রিচিং নিউহাইটস ইন দ্য নিওনরমাল’ শীর্ষক আলোচনায় মূল বক্তব্য রাখেন প্রধানমন্ত্রী কার্যালয়ের মুখ্য সচিব আহমেদ কায়কাউস।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা সালমান এফ রহমানের সভাপতিত্বে এ পর্বে ঢাকায় ব্রিটিশ হাই কমিশনার রবার্ট চ্যাটার্টন ডিকসন, ফরেন ইনভেস্টরস চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি রূপালী হক চৌধুরী, ইউনিলিভার সাউথ এশিয়ার সভাপতি সঞ্জিব মেহতা, ঢাকায় আইএফসির ভারপ্রাপ্ত ম্যানেজার নুজহাত আনোয়ার বক্তব্য রাখেন।

মুখ্য সচিব কায়কাউস বিদেশি অংশগ্রহণকারীদেরকে বিনিয়োগের আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশে রয়েছে ব্যবসাবান্ধব নীতি ও দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক ধারাবাহিকতা।

আইএফসির ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ম্যানেজার নুজহাত আনোয়ার বলেন, গত পাঁচ বছরে আইএফসি বাংলাদেশে ২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করেছে। বিনিয়োগের বড় একটি অংশ কৃষি, বিদ্যুৎ-জ্বালানিসহ বেসরকারি বিভিন্ন খাতকে ঘিরে। ইতোমধ্যেই আইএফসি একটি বিনিয়োগ পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।

অন্যান্য খাতের পাশাপাশি স্বাস্থ্য ও ওষুধ শিল্পকে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ খাত হিসাবে মনে করে তার সংস্থা।

এর আগে সকালের পর্বে সালমান এফ রহমান বলেন, পাঁচ দশক আগে স্বাধীনতার পরপর বাংলাদেশের জিডিপির আকার ছিল ৮ দশমিক ৮ বিলিয়ন ডলার। এখন সেটা ৪৫ গুণ বেড়ে ৪১০ বিলিয়ন ডলার হয়েছে। গত ১০ বছরে গড়ে ৬ শতাংশ প্রবৃদ্ধি ধরে রেখেছে বাংলাদেশ, যা বিশ্বের খুব কম দেশেই সম্ভব হয়েছে।

“বাংলাদেশের চলমান উচ্চ প্রবৃদ্ধি ধরে রাখতে এখন প্রয়োজন আরও বেশি দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ। সে কারণেই আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সামিটের মতো এই কর্মসূচি হাতে নেওয়া হয়েছে।”

অর্থনৈতিক অঞ্চলে ১০ বছরের কর অবকাশ

বিকালে একই ভেন্যুতে ‘প্রত্যাশাকে ছাড়িয়ে যাচ্ছে অর্থনৈতিক অঞ্চল’ শীর্ষক আরেকটি আলোচনায় সভাপতিত্ব করেন ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী।

তিনি বলেন, বিনিয়োগ ও উন্নয়নে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে ভূমি ব্যবস্থাপনা। তার মন্ত্রণালয় কাজটি সুচারুভাবে পালন করছে।

“সরকার বিদেশি বিনিয়োগকারীদের অনেক ভালো প্রণোদনা দিচ্ছে। আইএমএফের উপাত্ত অনুযায়ী করোনাভাইরাস মহামারীকালীন বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি সহনশীল অর্থনীতির দেশের মধ্যে বাংলাদেশ একটি।”

অনুষ্ঠানে জানানো হয়, অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগের প্রণোদনা হিসেবে ১০ বছরের কর অবকাশ ও লভ্যাংশ প্রত্যাবাসনের সুবিধা এবং ব্যবসা পরিচালনার জন্য ১২৫টি পরিষেবার ওয়ান স্টপ সার্ভিস (একই ছাদের নিচে সকল সেবা) সেন্টারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

দেশে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনের কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

বিশ্ব ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মার্সি মিয়াং টেম্বন বলেন, বৈদেশিক বিনিয়োগে সরকারের প্রচেষ্টার কারণে এ দেশে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হচ্ছে, যা দারিদ্য বিমোচন ত্বরান্বিত করছে।

“সবুজ প্রবৃদ্ধির (গ্রিন গ্রোথ) কথা মাথায় রেখে বাংলাদেশের যে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়ে উঠেছে, তা বিশ্বব্যাপী দূরদর্শী উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত পাচ্ছে।“

একই ভেন্যুতে সমুদ্র অর্থনীতি, চতুর্থ শিল্প বিপ্লব, ওষুধ শিল্প ও স্বাস্থ্য সেবা বিষয়ে পৃথক আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক