ঘূর্ণিঝড়-বন্যার ক্ষত মেরামতে ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প

দেশের দক্ষিণ পশিচমাঞ্চলের ওপর দিয়ে বয়ে যাওয়া ঘূর্ণিঝড় আম্পান এবং এর পরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ অবকাঠামো মেরামতে প্রায় ছয় হাজার কোটি টাকার একটি প্রকল্প নিয়েছে সরকার।

জাফর আহমেদ জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Nov 2020, 03:13 PM
Updated : 16 Nov 2020, 03:13 PM

স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পল্লী সড়ক অবকাঠামো পুনর্বাসন’ শীর্ষক প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর।

প্রস্তাবিত এ প্রকল্প চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য মঙ্গলবার অনুষ্ঠেয় জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় উপস্থাপন করা হতে পারে বলে পরিকল্পনা কমিশনের কৃষি পানি সম্পদ ও পল্লী প্রতিষ্ঠান বিভাগের সদস্য মো. জাকির হোসেন আকন্দ জানিয়েছেন।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “ঘূর্ণিঝড় আম্পান ও বন্যায় সংশ্লিষ্ট এলাকার রাস্তাঘাট, সেতু-কালভার্টগুলো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। সেগুলো মেরামতের জন্য ৫ হাজার ৯০৫ কোটি ৫৯ লাখ টাকার এই প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। এই অর্থ পুরোটাই সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে যোগান দেওয়া হবে।”

যোগাযোগ অবকাঠামো ঠিক করে দিলে সাধারণ মানুষ অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনার মাধ্যমে আবার আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হয়ে উঠতে পারবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার টেকসই সড়ক রক্ষণাবেক্ষণের মাধমে পরিবহন ব্যয় ও সময় সাশ্রয় করে ওই এলাকার উৎপাদিত পণ্য বাজারজাত ব্যবস্থা সহজ করতে প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করা হবে। এছাড়া সড়ক অবকাঠামো মেরামত ও পুনর্বাসনের মাধ্যমে কৃষি-অকৃষি খাতে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে গ্রামীণ কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতি সচল রাখাই এ প্রকল্পের উদ্দেশ্য।

অনুমোদন পেলে চলতি মাসেই কাজ শুরু করে ২০২৩ সালের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করতে চায় বাস্তবায়নকারী সংস্থা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)।

গত ২০ মে উপকূলীয় জেলাগুলোতে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে যায় ঘূর্ণিঝড় আম্পান।

দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে ২০০টি সেতু ও কালভার্ট ক্ষতিগ্রস্ত হয়। আবার এর দেড় মাস পর ২৭ জুন দীর্ঘমেয়াদি বন্যা শুরু হয়। ওই বন্যায় দেশের ৩৩টি জেলার ১৫৪টি উপজেলা টানা ৪৩ দিন পানির নিচে চলে যায়। দীর্ঘস্থায়ী ওই বন্যায় অনেক রাস্তাঘাট, সেতু ও কালভার্টের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।

মাত্র তিন মাসের ব্যবধানে দুটি বড় প্রাকৃতিক দুর্যোগে যোগাযোগ ব্যবস্থার ক্ষতির বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে সারা দেশ থেকে জনপ্রতিনিধিদের সহযোগিতায় ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তাঘাট, সেতু কালভার্টের তথ্য সংগ্রহ করে এলজিইডি।

সেই তথ্য উপাত্ত নিয়েই ঘূর্ণিঝড় আম্পান, বন্যা ও অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার উন্নয়নে প্রকল্পটি গ্রহণ করা হয়।

প্রকল্প প্রস্তাবনায় বলা হয়েছে, এই প্রকল্পের মাধ্যমে আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ৩৫৪ কিলোমিটার উপজেলার এবং ২৬৭ কিলোমিটার ইউনিয়ন সড়ক পুনর্বাসন করা হবে। গ্রাম পর্যায়ে ১৮৯ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে।

সব মিলিয়ে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ে এক হাজার ২১২ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে বলে প্রকল্প প্রস্তাবনায় উল্লেখ করা হয়।

প্রকল্পটির মাধমে ঘূর্ণিঝড় আম্পানে ক্ষতিগ্রস্ত ২৪৬ মিটার সেতু পুনঃনির্মাণ করা হবে। কালভার্ট পুনঃনির্মাণ করা হবে ১২৮ মিটার।

অন্যদিকে দীর্ঘমেয়াদি বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত উপজেলা সড়ক সংস্কার করা হবে এক হাজার ২২৭ কিলোমিটার, ইউনিয়ন পর্যায়ে এক হাজার ১০৬ কিলোমিটার। আর গ্রাম সড়ক উন্নয়ন করা হবে ৬৯৬ কিলোমিটার।

অতি বর্ষণে সারা দেশে যেসব রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, সেগুলোও সংস্কার করা হবে এই প্রকল্পের আওতায়। এর মধ্যে অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক উপজেলা পর্যায়ে ৮০৭ কিলোমিটার, ইউনিয়ন পর্যায়ে ৯০১ কিলোমিটার এবং গ্রাম পর্যায়ে ৬৫০ কিলোমিটার সড়ক সংস্কার করা হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক