২০১৯: রেমিটেন্স ১৮ বিলিয়ন ডলার ছাড়াল

প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সে রেকর্ড গড়ে শেষ হতে চলেছে ২০১৯ সাল।

আবদুর রহিম হারমাছি প্রধান অর্থনৈতিক প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Dec 2019, 05:22 PM
Updated : 29 Dec 2019, 05:40 PM

বছর শেষ হতে আরও কয়েক দিন বাকি; এরই মধ্যে এক হাজার ৮০০ কোটি (১৮ বিলিয়ন) ডলার ছাড়িয়েছে অর্থনীতির অন্যতম প্রধান এই সূচক।

পুরো বছর শেষ এই অংক ১৮ দশমিক ৫০ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে পৌঁছবে বলে হিসাব কষছেন অর্থনীতিবিদ ও ব্যাংকাররা।

দুই শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়ায় জনশক্তি রপ্তানি কমার পরও রেমিটেন্সে সুখবর দিয়ে শেষ হতে চলেছে বছর।

বাংলাদেশ ব্যাংক রোববার রেমিটেন্সের যে তথ্য প্রকাশ করেছে তাতে দেখা যায়, ২০১৯ সালের শেষ মাস ডিসেম্বরের ২৬ দিনে (১ ডিসেম্বর থেকে ২৬ ডিসেম্বর) ১৪৮ কোটি ৩৭ লাখ ডলারের রেমিটেন্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। তার আগে ১১ মাসে অর্থাৎ জানুয়ারি থেকে নভেম্বর সময়ে এক হাজার ৬৬৩ দশমিক ৯০ কোটি (১৬.৬৪ বিলিয়ন) ডলারের রেমিটেন্স এসেছে দেশে।

সবমিলিয়ে বিদায়ী বছরের ২৬ ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৮১২ দশমিক ২৭ কোটি (১৮.১২ বিলিয়ন) ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা।এই অংক ২০১৮ সালের চেয়ে ১৬ দশমিক ৩০ শতাংশ বেশি। এর আগে এক বছরে এতো রেমিটেন্স বাংলাদেশে আসেনি।

২০১৮ সালে ১৫ দশমিক ৫৮ বিলিয়ন ডলার রেমিটেন্স এসেছিল।

রেমিটেন্স প্রবাহে সন্তোষ প্রকাশ করে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক এবং মুখপাত্র সিরাজুল ইসলাম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, বছরের বাকি ৫ দিনে আরও ৩৫/৪০ কোটি ডলারের রেমিটেন্স আসবে।

“সে হিসাবে ২০১৯ সালে রেমিটেন্স সাড়ে ১৮ বিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকবে।”

রেমিটেন্স প্রবাহের এই ইতিবাচক ধারায় রপ্তানি আয়ে বড় ধাক্কার পরও বিদেশী মুদ্রার রিজার্ভও সন্তোষজনক অবস্থায় রয়েছে।রোববার রিজার্ভের পরিমাণ ছিল ৩২ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার

বাংলাদেশের অর্থনীতি বেশ চাপের মধ্যে রয়েছে। অর্থনীতির প্রায় সব সূচক নিম্নমুখী। এই ‘বৈরি হাওয়ার’ মধ্যে একমাত্র রেমিটেন্সই আশার আলো ছড়াচ্ছে বলে মনে করছেন অর্থনীতির গবেষক আহসান এইচ মনসুর।

প্রতিবেশি দেশ ভারতসহ অন্য দেশের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মুদ্রা ডলারের বিপরীতে টাকার মান কমালে অর্থনীতির রেমিটেন্স আরও বাড়বে বলে মনে করেন বেসরকারি গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক আহসান এইচ মনসুর।

“একমাত্র রেমিটেন্স ছাড়া অর্থনীতির অন্য সব সূচকের অবস্থা এখন খারাপ। রপ্তানি বাণিজ্যে ধস নেমেছে। রাজস্ব আদায় কমছে। মূল্যস্ফীতি উর্ধ্বমুখী। আমদানিও কমছে।বিনিয়োগে খরা কাটছে না।ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড়।শেয়ারবাজারে তো মন্দা লেগেই আছে।

“সে কারণেই বলা যায়, প্রবাসীদের পাঠানো রেমিটেন্সই এখন সচল রেখেছে বাংলাদেশের অর্থনীতির চাকা।”

রেমিটেন্সে ২ শতাংশ হারে প্রণোদনা দেওয়া হচ্ছে।প্রবাসীরা এখন ১০০ টাকা দেশে পাঠালে যার নামে টাকা পাঠাচ্ছেন তিনি ঔ ১০০ টাকার সঙ্গে ২ টাকা যোগ করে ১০২ টাকা তুলতে পারছেন।

বাজেটে এ জন্য ৩ হাজার ৬০ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

রোববার ‘বাংলাদেশ থেকে শ্রম অভিবাসনের গতি-প্রকৃতি’  শীর্ষক এক প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে রিফিউজি অ্যান্ড মাইগ্রেটরি মুভমেন্টস ইউনিট-রামরু।

তাতে বলা হয়েছে, ২০১৯ সালের জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৬ লাখ ৪ হাজার ৬০ জন বাংলাদেশি কর্মী বিদেশে গিয়েছেন। ডিসেম্বর মাসেও এ ধারা অব্যাহত থাকলে তা গতবছরের তুলনায় ১০ শতাংশ কম হবে।

২০১৮ সালের জানুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ৭ লাখ ৩৪ হাজার ১৮১ কর্মী বাংলাদেশ থেকে বিদেশে গিয়েছিল।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক