২০৩০ সালের আগে এসডিজি অর্জনে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী

জাতিসংঘ নির্ধারিত ২০৩০ সালের আগেই বাংলাদেশ টেকসই উন্নয়নের লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) অর্জন করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 Dec 2016, 12:27 PM
Updated : 18 Dec 2016, 12:27 PM

রোববার এসডিজি রিপোর্টিং নিয়ে সংবাদকর্মীর জন্য আয়োজিত কর্মশালার উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, “পনের বছর পর কেউ পেছনে পড়ে থাকবে না। সকল মানুষের দোরগোড়ায় পৌঁছতে হবে। দারিদ্র্য নির্মূল করতে হবে, দারিদ্র্য কমানো নয়।

“২০৩০ এর পর পৃথিবীতে আর কোনো দরিদ্র থাকবে না বলে আমরা আশা করছি। অবশ্য কিছু লোক রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকবে। বৃদ্ধ, নারী, প্রতিবন্ধী- এ রকম কেউ কেউ রাষ্ট্রের ওপর নির্ভরশীল থাকতে হবে। তারা রাষ্ট্রের সামাজিক নিরাপত্তা বলয়ে থাকবে। এর বাইরে কেউ দরিদ্র থাকবে না। এটা একটা আন্তর্জাতিক লক্ষ্য। এই লক্ষ্য অর্জন সম্ভব। ”

বিশ্বজুড়ে দারিদ্র্য, অসাম্য ও জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলাসহ ১৭টি ক্ষেত্রে বিশ্বকে এগিয়ে নিতে গতবছর জাতিসংঘে ১৫ বছরের নতুন লক্ষ্যমাত্রা গৃহিত হয়েছে।

সহস্রাব্দ উন্নয়ন লক্ষ্যের মেয়াদ পূর্তিতে নেওয়া ‘উচ্চাভিলাষী’ এই পরিকল্পনাকে বলা হচ্ছে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্য বা এসডিজি।

মুহিত বলেন, “কিছু কিছু দেশ আছে, যারা অনেক আগেই এই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। ব্যক্তিগতভাবে আমিও মনে করি, বাংলাদেশ অনেক আগেই সেই লক্ষ্যে পৌঁছতে পারবে। প্রক্রিয়াগত কারণে এ স্বীকৃতি পেতে সময় লাগতে পারে।”

বাস্তব লক্ষ্য অর্জন ও স্বীকৃতি দুই সময়ে হওয়ার দৃষ্টান্ত দিতে গিয়ে বাংলাদেশের মধ্যম আয়ে উন্নীত হওয়ার দৃষ্টান্ত টেনে তিনি বলেন, “২০১৪ সাল থেকেই আমরা মধ্যম আয়ের দেশ। কিন্তু প্রক্রিয়াগত জটিলতার কারণে আমরা এখনও কাগজে কলমে স্বল্পোন্নত দেশ। প্রক্রিয়া কিছু রুটিনে চলে।

“এখন টেকসই উন্নয়নের মানেই হচ্ছে, এমনভাবে দারিদ্র্য বিমোচন করতে হবে, যাতে দারিদ্র্যদশা থেকে মুক্তি পাওয়ার পর আবার সেই ফাঁদে পা না পড়ে। নিরক্ষরতা দূরীকরণেও একই বিষয়।”

জলবায়ু পরিবর্তনকে বাংলাদেশের জন্য একটি সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, “অন্য দেশের কারণে বাংলাদেশকে ভুগতে হবে। বাংলাদেশে  ‘ইয়োলো রেইন’ হওয়ার কথা নয়। কিন্তু অন্য দেশের কারণে  এর মুখোমুখিও হতে পারে। চায়না ও ইন্ডিয়ার মত দেশ মিটিগেশনের জন্য যথেষ্ট পদক্ষেপ নিলেও অতীতে প্রাকৃতিক সম্পদ ব্যবহারে যথেচ্ছচারে এটা হয়েছে।

“জলবায়ু তহবিলের অর্থ ব্যবহার করা রিডিকুলাসলি কমপ্লেক্স। এটা নিয়ে আমি গত ৬-৭ বছর কথা বলছি। কিন্তু তেমন সফলতা আসেনি। জলবায়ু পরিবর্তনের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত দেশের একটা হিসেবে যে সহয়তা আমাদের পাওয়া উচিত, তা আমরা পাচ্ছি না।”

বাংলাদেশে জাতিসংঘের আবাসিক সমন্বয়ক ও ইউএনডিপির আবাসিক প্রতিনিধি রবার্ট ডি ওয়াটকিনস অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন। বক্তব্য রাখেন পল্লী কর্ম সংস্থান ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ড. কাজী খলীকুজ্জমান আহমেদ।

সোমবার বিকালে কর্মশালায় অংশগ্রহণকারী সাংবাদিকদের সনদ দেওয়া হবে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক