রিজার্ভ চুরির তদন্তে ব্যাংক কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে সিআইডি

রিজার্ভের অর্থ চুরি নিয়ে কয়েকদিন ধরে তদন্ত চালানোর পর এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করছে সিআইডি।

জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক নিজস্ব প্রতিবেদক, আদালত প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2016, 04:27 PM
Updated : 22 March 2016, 04:29 PM

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তাদের কেউ বিদেশ যেতে চাইলে সিআইডিকে জানাতে হবে বলে জানিয়েছেন তদন্ত সংশ্লিষ্ট এক সিআইডি কর্মকর্তা।  

মঙ্গলবার নতুন গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে বৈঠক করেন মামলার তদন্ত সংস্থা সিআইডির কর্মকর্তারা।

এদিন গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিন নেতৃত্বাধীন সরকারি তদন্ত কমিটির সদস্যরাও। তবে তদন্তের বিষয়ে সাংবাদিকদের কিছু বলেননি তারা। 

ডিআইজি সাইফুল আলমের নেতৃত্বে সিআইডির একটি দল গভর্নর ফজলে কবিরের সঙ্গে প্রায় আধা ঘণ্টা আলোচনা করেন।

সিআইডির অতিরিক্ত ডিআইজি শাহ আলম বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “কোন কাজে সহযোগিতা লাগবে, সে বাপারে তাকে জানানো হয়। তিনি আমাদের সহযোগিতার ব্যাপারে আশ্বস্ত করেন।”

তিনি বলেন, “দায়িত্বপ্রাপ্ত কয়েকজন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ সোমবার থেকে শুরু হয়েছে। মঙ্গলবারও কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।”

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে বাংলাদেশ ব্যাংকের ১০ কোটি ডলার চুরি নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে যেসব তথ্য আসছে, সে বিষয়েও খোঁজ-খবর রাখা হচ্ছে বলে জানান সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার মীর্জা আব্দুল্লাহ হেল বাকী।

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের কেউ দেশে বাইরে যেতে হলে সিআইডির নলেজে থাকতে হবে। সিআইডি মনে করলে প্রয়োজনে যাত্রা বাতিলও হতে পারে।”

বাংলাদেশ ব্যাংকের সিস্টেম হ্যাক করে সুইফট মেসেজিং সিস্টেমে বার্তা পাঠিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ ব্যাংকে গচ্ছিত অর্থ ফিলিপিন্স ও শ্রীলঙ্কার দুটি ব্যাংকে স্থানান্তর হয়েছিল বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের খবর।

এসব সংবাদ প্রতিবেদনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কারও সংশ্লিষ্টতার সন্দেহের বিষয়টিও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

রিজার্ভ চুরির ৪০ দিন পর বাংলাদেশ ব্যাংক মামলা করলে তার দায়িত্ব পাওয়ার পর প্রতিদিনই মতিঝিলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ে গিয়ে তদন্ত চালাচ্ছেন সিআইডির কর্মকর্তারা।  

আব্দুল্লাহ হেল বাকী জানান, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সাড়ে ৪ হাজার কম্পিউটারের মধ্যে ৫০টিকে গুরুত্ব দিয়ে সেগুলো পরীক্ষা করছেন তারা।

বাংলাদেশ ব্যাংকে এফবিআইয়ের ফরেনসিক দল

তিনি জানান, তদন্তের প্রয়োজনে সিআইডির ৫/৬জনের একটি দলের ফিলিপিন্সে যাওয়ার আবেদন করা হয়েছে। আদালতের অনুমতি পাওয়ার পর অর্থছাড় হলেই তারা যাবে।

এদিকে সিআইডির জব্দ করা ইন্টারনেটসহ কম্পিউটার ও কম্পিউটারের ভেতরের আলামতের ফরেনসিক পরীক্ষার আবেদন মঞ্জুর করেছে ঢাকার আদালত।

এই ঘটনায় মুদ্রা পাচার এবং তথ্য প্রযুক্তি আইনে করা মামলার তদন্ত কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মঙ্গলবার ঢাকা মহানগর হাকিম মাহবুবুর রহমান শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।

গভর্নরের সঙ্গে তদন্ত কমিটির বৈঠক

রিজার্ভ থেকে অর্থ লোপাটের ঘটনায় সরকার গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যরা মঙ্গলবার বিকালে গভর্নরের সঙ্গে বৈঠক করেন।

কমিটির সদস্যরা বাংলাদেশ ব্যাংকের এখন পর্যন্ত নেওয়া বিভিন্ন উদ্যোগের বিষয়ে জানতে চেয়েছেন বলে সাংবাদিকদের জানান কেন্দ্রীয় ব্যাংকের মুখপাত্র শুভংকর সাহা।

এই কমিটির দাপ্তরিক কাজের জন্য বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি কক্ষ প্রস্তুত করা হয়েছে। কমিটিকে সহযোগিতা করবে একজন সচিব ও একজন ডাটা এন্ট্রি অপারেটর।

বাংলাদেশ ব্যাংকে ঢোকার সময় সাবেক গভর্নর মোহাম্মদ ফরাসউদ্দিনের কাছে সাংবাদিকরা তদন্তের বিষয়ে নানা প্রশ্ন করলেও তিনি আগের মতোই তা এড়িয়ে যান।

তিনি বলেন, “ঘটনা তদন্তে ৩০ দিন সময় দেওয়া হয়েছে। কমিটিকে কাজটা করতে দিন। তাতে ভালো হবে। আপনারাও (সাংবাদিক) সহযোগিতা করুন।”

মঙ্গলবার থেকে কাজ শুরুর আগে এই তদন্ত কমিটি ২০ মার্চ অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিতের সঙ্গে দেখা করেন। তখনই ফরাসউদ্দিন বলেছিলেন, এক মাস গণমাধ্যমে কোনো কথা বলবেন না তারা।

হ্যাকিংয়ের মাধ্যমে ১০ কোটি ডলার চুরির এই ঘটনা তদন্ত করে তিন সদস্যের এই কমিটিকে ৩০ দিনের মধ্যে অন্তর্বর্তীকালীন এবং ৭৫ দিনের মধ্যে পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।

কমিটির অন্য দুই সদস্য হলেন বুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের অধ্যাপক মো. কায়কোবাদ এবং অর্থ মন্ত্রণালয়ের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের অতিরিক্ত সচিব গকুল চাঁদ দাস।

এদিকে বিশ্ব ব্যাংকের স্টোলেন এসেট রিকভারি টিমের একটি প্রতিনিধি দল মঙ্গলবার বাংলাদেশ ব্যাংকের শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন।

বৈঠকে উপস্থিত একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষ থেকে তাদের কাছে নীতি ও কারিগরি সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে। বিশ্ব ব্যাংকের এই টিম হ্যাকিংয়ের ঘটনা তদন্তে সহযোগিতা করার আশ্বাস দিয়েছে।”