বিএসটিআইয়ের মামলায় জামিন নিলেন সিটি গ্রুপের এমডি

বিএসটিআইয়ের করা মামলায় অভিযোগ গঠন করে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পর আদালতে হাজির হয়ে জামিন নিয়েছেন সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 02:47 PM
Updated : 18 July 2022, 02:47 PM

সিটি গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও চেয়ারম্যান ফজলুর রহমান।

সোমবার চট্টগ্রামের মহানগর হাকিম কাজী শরিফুল ইসলামের আদালতে তিনি জামিন আবেদন করলে আদালত তা মঞ্জুর করে।

আসামিপক্ষের আইনজীবী জিয়া হাবিব আহসান বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “এই মামলায় উচ্চ আদালত থেকে চার্জ গঠন পর্যন্ত তিনি জামিনে ছিলেন। ১৪ জুলাই মামলায় অভিযোগ গঠন হয়েছে।

“তিনি অসুস্থ। হুইলচেয়ারে এবং অক্সিজেনের নল লাগানো অবস্থায় আদালতে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আবেদনের প্রেক্ষিতে আদালত আইনজীবীর মাধ্যমে শুনানিতে অংশগ্রহণ এবং মামলা যুক্তিতর্ক পর্যায় যাওয়ার আগ পর্যন্ত উনার জামিন মঞ্জুর করেছেন।”

সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ সংযোজন না করে ‘ফর্টিফায়েড’ ভোজ্য তেল বাজারজাত করায় বিএসটিআইয়ের করা মামলায় এর আগে গত বৃহস্পতিবার ফজলুর রহমানের বিরুদ্ধে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। সেদিন তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছিল।”

‘তীর’ ও ‘ন্যাচারাল’ ব্র্যান্ডের ফর্টিফায়েড ভোজ্য তেলে নির্ধারিত মাত্রার তুলনায় কম পরিমাণে ভিটামিন-এ পাওয়ায় ২০১৯ সালের ২০ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করে সরকারের মান নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই)।

চট্টগ্রামের উত্তর পতেঙ্গার ভিওটিটি অয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের কারখানা থেকে এসব নমুনা সংগ্রহ করেছিল বিএসটিআই।

বিএসটিআইয়ের ওই অভিযানে ফর্টিফায়েড সয়াবিন তেল ও ফর্টিফায়েড পাম অয়েলের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। পরে পরীক্ষায় ভিটামিন-এ পর্যাপ্ত পরিমাণে না পাওয়ায় মামলাটি করেন বিএসটিআইয়ের সে সময়ের পরিদর্শক রাজীব দাশগুপ্ত।

মেসার্স ভিওটিটি ওয়েল রিফাইনারি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ফজলুর রহমান। তিনি শিল্প গোষ্ঠী সিটি গ্রুপের চেয়ারম্যান ও এমডি। সিটি গ্রুপের একটি অঙ্গ প্রতিষ্ঠান ভিওটিটি ওয়েল রিফাইনারি।

বিএসটিআইয়ের নির্ধারিত মান অনুসারে প্রতি কেজি ফার্টিফায়েড তেলে ১৫-৩০ মিলিগ্রাম ভিটামিন এ থাকতে হয়।

কিন্তু ওই কারখানা থেকে সংগ্রহ করা তীর ব্র্যান্ডের তেলে তা ছিল মাত্র ৩ দশমিক ১৬ মিলিগ্রাম এবং ন্যাচারাল ব্র্যান্ডের তেলে তা ছিল ৬ দশমিক ৪৭ মিলিগ্রাম।

বিএসটিআই আইনের যেসব ধারায় এ মামলা হয়েছে, তাতে অপরাধ প্রমাণিত হলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড এবং জরিমানা হতে পারে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক