বাকি ২১ খাল উদ্ধারে প্রকল্প চান চট্টগ্রামের মেয়র

চট্টগ্রাম নগরীর আরও ২১টি খাল উদ্ধার ও সংস্কারে পৃথক প্রকল্প প্রয়োজন জানিয়ে মেয়র এম রেজাউল করিম চৌধুরী বলছেন, এ বিষয়ে সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে সরকারের কাছে তিনি প্রস্তাব দেবেন।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 June 2022, 04:13 PM
Updated : 26 June 2022, 04:13 PM

রোববার নিজের মেয়াদের দ্বিতীয় বাজেট উপস্থাপন শেষে গণমাধ্যমকর্মীদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ পরিকল্পনার কথা জানান।

রেজাউল করিম বলেন, চট্টগ্রাম শহরে খাল ছিল ৭১টি। ওয়াসার ড্রেনেজ মাস্টারপ্ল্যানে ৫৭টি খাল পাওয়া যায়। তার মধ্যে ৩৬টি নিয়ে জলাবদ্ধতা নিরসনে মেগা প্রকল্প চলছে। সিডিএ এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে। বাকি ২১টি খাল আছে। এগুলোর মধ্যে অনেক খাল দখল হয়ে গেছে। অনেকগুলোর দৈন্য দশা।

“অবশিষ্ট ২১টি খালের উন্নয়ন ও পুনরূদ্ধার বিষয়ে ফিজিবিলিটি স্টাডির জন্য কনসালটেন্ট নিয়োগ প্রক্রিয়াধীন। এগুলো উদ্ধারে, জমি অধিগ্রহণে অনেক টাকার দরকার। ফিজিবিলিটি স্টাডি হলে আমরা সরকারকে জানাব প্রকল্প নিতে। যে ৩৬টি খালের কাজ চলছে সেগুলোর অনেকগুলোর পানি এই ২১ খালে পড়ে। এগুলো উদ্ধার না হলে জলাবদ্ধতা কমবে না।”

নগরীর ৩৬টি খাল উদ্ধার ও সংস্কারে ৫৬১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে চট্টগ্রাম উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (সিডিএ)। এর পূর্ত কাজ করছে সেনাবাহিনীর ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেড।

চট্টগ্রাম শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে ‘খাল পুনঃখনন, সম্প্রসারণ, সংস্কার ও উন্নয়ন’ নামের চলমান এ প্রকল্পে ৫ লাখ ২৮ হাজার ঘনমিটার মাটি খনন এবং ৪ লাখ ২০ হাজার ঘনমিটার কাদা অপসারণ করা হবে।

নালা তৈরি করা হবে ১ হাজার ৭৭ কিলোমিটার। প্রায় ১০৮ একর জমি অধিগ্রহণ এবং রিটেনিং ওয়াল নির্মাণ করা হবে ১ লাখ ৭৬ হাজার মিটার। ৮৫ কিলোমিটার রাস্তা ও ৫টি স্লুইস গেট করা হবে। এখন পর্যন্ত ১২টি খালের কাজ শেষ হয়েছে; এ মাসের মধ্যে আরও ৫টি খালের কাজ শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা আছে।

জলাবদ্ধতা নিরসন প্রকল্পের কাজের অগ্রগতি ও সিডিএ’র ভূমিকা সম্পর্কে জানতে চাইলে মেয়র রেজাউল বলেন, “আমরা কাউকে দোষারোপ করি না। আপনারাও অবগত আছেন। তবু প্রশ্ন করেন। মেগা প্রকল্পের কাজ চলমান। কোনো কাজ শেষ না হলে কাউকে দোষারোপ করা যায় না। শেষ হলে এই ভোগান্তি থাকবে না।”

খাল-নালা পরিষ্কার রাখতে ‘জরিমানা করতে বাধ্য হবেন’ জানিয়ে মেয়র রেজাউল বলেন, “যে খাল এক মাস আগে পরিষ্কার করেছি, মনে হয় পরিষ্কারই করিনি। গিয়ে দেখি পুরনো সোফা সেট খালের ভিতর। সোফা সেট, লেপ-তোষক এসব তো খালে ফেলার কথা নয়। বাধ্য হয়ে আমাদের জরিমানা করতে হবে। সবাইকে সচেতন হতে হবে, সহযোগিতা করতে হবে।

“নাগরিকদের মধ্যে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সচতেনতা না আসলে শুধু অবকাঠামো উন্নয়ন করে কখনো জলাবদ্ধতার সমস্যা থেকে নগরীকে মুক্ত করা যাবে না। কর্ণফুলী বাঁচলে চট্টগ্রাম বাঁচবে। কর্ণফুলীকে বাঁচাতে হলে নগরীকে পলিথিনমুক্ত এবং আবর্জনা পরিষ্কারে নগরবাসীকে দায়িত্বপালনে ব্রতী হতে হবে। পরিবেশের শত্রু পলিথিন ব্যবহার থেকে বিরত থাকুন।”

গতবারের চেয়ে মোট বাজেটের আকার কম হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে সিটি মেয়র রেজাউল বলেন, “কম-বেশি ব্যাপার না। বাজেট বাস্তবতার নিরিখে হতে হবে। যতটুকু বাস্তবায়ন করতে পারব, ততটুকু প্রণয়ন করেছি। আমরা আকাশচুম্বী বাজেট প্রণয়ন করতে পারতাম। কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না, স্বপ্ন স্বপ্নই থেকে যায়।”

রাজস্ব আদায় বাড়ানোর বিষয়ে মেয়র রেজাউল বলেন, “আমদানি-রপ্তানির ওপর কর আদায়ে উদ্যোগ নিতে স্থানীয় সরকার বিভাগে চিঠি দিয়েছি। স্থানীয় সরকার বিভাগের মাধ্যমে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অনুমতি পেলে আমদানি-রপ্তানি পণ্যের মূল্যের উপর নির্দিষ্ট পরিমাণ কর সিসিসি আদায় করতে পারবে।

“একইভাবে বন্দরের আয় হতে ১ শতাংশ সার্ভিস চার্জ আদায়ে স্থানীয় সরকার আইন ২০০৯-এ সংশোধনী বিল আনার জন্য প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে নগরীতে ব্যবসায়ী আছে ৪ লাখ। ট্রেড লাইসেন্স মাত্র ৮৫ হাজার। সবাইকে লাইসেন্সের আওতায় আনা গেলে ১০০ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হবে।”

আয় বর্ধক প্রকল্পের বিষয়ে কী পদক্ষেপ নিয়েছেন, এ প্রশ্নের উত্তরে মেয়র বলেন, “আমাদের কোথায় কোথায় জমি আছে তা ভূ-সম্পত্তি বিভাগকে দিয়ে পরীক্ষা করিয়েছি। এরপর কিছু প্রস্তাবনা মন্ত্রণালয়ে পাঠিয়েছি। আমরা নিজেরাও করব। খাতুনগঞ্জ, বক্সিরহাট, মাদারবাড়িসহ কয়েকটি স্থানে আমাদের জমি আছে। আশা করি, এ বছর কাজে হাত দিতে পারব।”

নতুন অর্থবছরে নগরীতে আরও বেশি রাস্তা কাটা হবে জানিয়ে মেয়র বলেন, “শহরে কোনো সুয়ারেজ প্রকল্প ছিল না। ওয়াসা এখন সুয়ারেজ প্রকল্প করছে। করতে গিয়ে বেশি কাটা হচ্ছে। ওয়াসার সাথে বৈঠক করেছি।

“তাদের বলেছি ওভাবে না কেটে আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করে এক জায়গায় কেটে পুরো কাজ করতে। না হলে শহরে হাঁটাচলাও করা যাবে না। তারা আশ্বস্ত করেছে।”

বাজেট অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন সিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শহীদুল আলম। আর্থিক প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন অর্থ স্ট্যান্ডিং কমিটির সভাপতি কাউন্সিলর মো. ইসমাইল।

আরও পড়ুন:

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক