জঙ্গল সলিমপুরে র‌্যাবের অভিযান, অস্ত্রসহ গ্রেপ্তার ৫

চট্টগ্রামের জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানকালে কথিত মশিউর বাহিনীর হামলার মুখে পড়ার কথা জানিয়েছে র‌্যাব, যে অভিযানে অস্ত্র উদ্ধারের পাশাপাশি গ্রেপ্তার করা হয়েছে পাঁচজনকে।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 6 Feb 2022, 11:33 AM
Updated : 6 Feb 2022, 11:33 AM

গত শনিবার রাতের এ অভিযানে গ্রেপ্তাররা হলেন- রফিকুল ইসলাম মালু (৪১), সিরাজুল ইসলাম (৩৪), মো. হাসান (৩৪), জামাল শেখ (৪৭) ও মিজানুর রহমান কদর।

রোববার র‌্যাব-৭ সদর দপ্তরে সংবাদ সম্মেলনে বাহিনীর অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এম এ ইউসুফ জানান, মশিউরের ছেলে সিবলুর ঘরে কিছু দুষ্কৃতিকারী অবস্থান করছে- এমন খবরে জঙ্গল সলিমপুরে অভিযানে যায় র‌্যাব। এ সময় কয়েকজন দৌড়ে পালিয়ে গেলেও পাঁচজনকে তারা ধরে ফেলেন।

তিনি জানান, আটক ব্যক্তিদের নিয়ে র‌্যাব অস্ত্র উদ্ধার অভিযান ‍শুরু করলে সিবলুর নেতৃত্বে কিছু ব্যক্তি জড়ো হয়ে র‌্যাব সদস্যদের ওপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ ও লাঠিসোটা নিয়ে হামলা চালায়। একপর্যায়ে বিভিন্ন পাহাড়ি টিলা থেকে র‌্যাব সদস্যদের উদ্দেশে গুলি ছুঁড়তে শুরু করে সন্ত্রাসীরা।

দুই পক্ষের গোলাগুলির পর হামলাকারীরা পিছু হটলে ১০টি দেশি ও একটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ২২ রাউন্ড গুলি, ছুরি, মিলিটারি পোশাক, বাইনোকুলার এবং বেশকিছু অবৈধ ধাতব মুদ্রা জব্দ করে র‌্যাব।

দুই পক্ষের গোলাগুলির সময় আত্মরক্ষার্থে র‌্যাব সদস্যরা ১২৯ রাউন্ড গুলি ছোঁড়ে বলে দাবি করেন অধিনায়ক ইউসুফ, যিনি নিজেই অভিযানের তদারকি করেন।

অভিযানে সন্ত্রাসীদের ছোঁড়া ইটপাটকেলে কয়েকজন র‌্যাব সদস্য ‘সামান্য’ আহত হয়েছেন বলে তিনি জানান।

জঙ্গল সলিমপুরের ভৌগোলিক অবস্থান সীতাকুণ্ড উপজেলায় হলেও এর যাতায়াত নগরীর বায়েজিদ থানার বাংলাবাজার এলাকা দিয়ে। বিগত কয়েক দশক ধরে সেখানে পাহাড় কেটে চলছে প্লট বেচাকেনা, গড়ে উঠেছে অর্ধলক্ষাধিক লোকের বসতি। গড়ে তোলা হয়েছে বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও।

আইন শৃঙ্খলা বাহিনী বলছে, ‘ছিন্নমূল বস্তিবাসী সমন্বয় সংগ্রাম পরিষদে’র নেতৃত্বে সরকারি খাস জমিতে গড়ে তোলা এই ঝুঁকিপূর্ণ বসতি এখন পরিণত হয়েছে ছিন্নমূলের ‘দুর্ভেদ্য সাম্রাজ্যে’। পরিষদ নেতাদের অনুমতি ছাড়া সেখানে গণমাধ্যমকর্মী এবং সাধারণ লোকজনের প্রবেশ একপ্রকার নিষিদ্ধ ছিল।

এ পরিষদের নেতৃত্বে রয়েছে কাজী মশিউর রহমান, যিনি গত ৫ ডিসেম্বর র‌্যাবের হাতে দ্বিতীয়বার গ্রেপ্তার হয়।

মশিউরকে আটকের পর তার কাছ থেকে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি ওয়ান শুটার গান, দুটি এলজি, একটি দোনলা বন্দুক ও একটি ম্যাগাজিনসহ ১৩ রাউন্ড গুলি পাওয়া যায় বলে র‌্যাব দাবি করেছিল।

মশিউরের বিরুদ্ধে খুন, ধর্ষণ, অপহরণ, দখলসহ বিভিন্ন থানায় অন্তত ২৭টি মামলা আছে।

এর আগে ২০১৭ সালের ২৩ অক্টোবরে মশিউরকে গ্রেপ্তার করেছিল র‌্যাব। তখন তিনি বিষপানে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলেন।

ওই সময় তার বাসা থেকে বিদেশি পিস্তলসহ ১৬টি আগ্নেয়াস্ত্র এবং ২৬ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে র‌্যাব। পরে তিনি জামিনে ছাড়া পান।

পাহাড়ে ওই অবৈধ বসতির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ২০০৪ সালে একাধিক পক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব দেখা দেয়। ২০১০ সালে স্থানীয় লাল বাদশা ও আলী আক্কাসের গ্রুপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটে।

২০১০ সালের ২৩ মে র‌্যাবের সঙ্গে কথিত ‘বন্ধুকযুদ্ধে’ নিহত হন আলী আক্কাস। পরে ছিন্নমূল বস্তিবাসী সংগ্রাম পরিষদের নেতৃত্বে আসেন বর্তমান সভাপতি গাজী সাদেকুর রহমান ও সাধারণ সম্পাদক কাজী মশিউর।

রোববার র‌্যাব-৭ অধিনায়ক এম এ ইউসুফ বলেন, জঙ্গল সলিমপুরে বসবাসকারীদের বিদ্যুতের সরাসরি সংযোগ না দিয়ে মশিউর নিজের মিটার থেকে সংযোগ প্রদান করতেন। যার মাধ্যমে নির্দিষ্ট দামের চেয়েও বেশি দামে বিদ্যুৎ বিল নিতেন তিনি।

শনিবার রাতে অভিযানে গ্রেপ্তার সিরাজুল ইসলামের বিরুদ্ধে পাঁচটি, হাসানের বিরুদ্ধে সাতটি জামাল ও কদরের বিরুদ্ধে ১০টি করে এবং মালুর বিরুদ্ধে একটি করে মামলা আছে বলে র‌্যাব জানিয়েছে।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক