বঙ্গবন্ধুর আদর্শে ‘অবিচল ছিলেন’ নুরুল আলম চৌধুরী

সদ্যপ্রয়াত চট্টগ্রামের আওয়ামী লীগ নেতা নুরুল আলম চৌধুরী ‘ক্ষমতা ও অর্থ বিত্তের প্রলোভনে পা’ না দিয়ে বঙ্গবন্ধুর আর্দশে অবিচল ছিলেন বলে মন্তব্য করেছেন তার দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক সহযোদ্ধারা।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 1 Feb 2019, 07:26 PM
Updated : 1 Feb 2019, 07:26 PM

চট্টগ্রাম উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি নুরুল আলম চৌধুরী গত বুধবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শুক্রবার চট্টগ্রামের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে তার স্মরণ সভা হয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি নুরুল আলম প্রথম সংসদের সদস্য ও রাষ্ট্রদূত ছিলেন।

সভায় প্রধান অতিথি আওয়ামী লীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ইঞ্জিনিয়ার মোশাররফ হোসেন বলেন, “বঙ্গবন্ধুর আদর্শ থেকে কখনও তিনি বিচ্যুত হননি। মৃত্যুকে কখনো ভয় করেননি।

“যত আন্দোলন হয়েছে সব আন্দোলনে তাকে পাশে পেয়েছি। তিনি ছিলেন এক প্রাণবন্ত রাজনীতিবিদ।”

তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ বলেন, “নুরুল আলম চৌধুরী কর্মী থেকে নেতা হয়েছিলেন। রাজনীতিকে তিনি ব্রত হিসেবে নিয়েছিলেন। বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ একজন নিবেদিত প্রাণ নেতাকে হারিয়েছে। এ ক্ষত সহজে পূরণ হওয়ার নয়।”

শোক সভায় নুরুল আলম চৌধুরীর ছেলে রাহাত জিসান বলেন, বাবা এত জনপ্রিয় ছিলেন তা তার জানা ছিল না।

“তাকে প্রশ্ন করেছিলাম, কোন পরিচয়ে তুমি গর্ববোধ কর। বলেছিলেন, আমি বঙ্গবন্ধুর সাংসদ- এটাই আমার গর্ব। বিসিএস পাস করেও জাতির জনকের ডাকে সাড়া দিয়ে তিনি রাজনীতিতে আসেন।”

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোসলেম উদ্দিন আহমদ বলেন, “ক্ষমতা ও অর্থের জন্য মানুষ আদর্শের সাথে বেঈমানি করে। কিন্তু তিনি কখনো মাথা নত করেননি। দুঃখের দিনেও আওয়ামী লীগ করেছেন।”

ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী জাবেদ বলেন, “নুরুল আলম চৌধুরীর সততা ও ত্যাগ জাতি স্মরণ রাখবে। রাষ্ট্রদূত থাকাকালে তিনি নিজের টাকায় অনেককে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন। সহজ-সরল জীবন যাপনে বিশ্বাসী ছিলেন নুরুল আলম চৌধুরী।”

সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীন বলেন, “আওয়ামী লীগ ও জাতির জনকের প্রশ্নে আপসহীন ছিলেন নুরুল আলম চৌধুরী। তার মধ্যে কোনো সুবিধাবাদী আচরণ ছিল না।”

শিক্ষা উপমন্ত্রী মহিবুল হাসান চৌধুরী নওফেল বলেন, “তিনি চাইলে অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের প্রলোভনে পড়ে ক্ষমতার অংশীদার হতে পারতেন। কিন্তু অনেক ত্যাগ স্বীকার করেও আদর্শের প্রশ্নে তিনি পিছপা হননি।”

সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারি বলেন, “অসুস্থ অবস্থায় দেখা করতে গিয়েছিলাম তিনি বলেছিলেন, নৌকায় ভোট দিয়ে যেন মরতে পারি। নিষেধ করেছিলাম অসুস্থ শরীর নিয়ে ভোট দিতে যাবেন না। কিন্তু তিনি সে অবস্থায় কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেন।”

সভাপতির বক্তব্যে নগর আওয়ামী লীগের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মাহতাব উদ্দিন চৌধুরী বলেন, “তিনি ছিলেন দেশপ্রেমিক নেতা। বিদায় তোমাকে নুরুল আলম চৌধুরী, তোমাকে জানাই লাল সালাম।”

দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মফিজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন উত্তর জেলার সাধারণ সম্পাদক এম এ সালাম। উপস্থিত  ছিলেন নগর কমিটির সহ-সভাপতি খোরশেদ আলম সুজন, সুনীল সরকারসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক