চবিতে ‘অনুপস্থিত’ শিক্ষার্থীর তালিকা দেয়নি বহু বিভাগ

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) কর্তৃপক্ষের বেঁধে দেওয়া সময়ে অনেক বিভাগই তাদের অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা জমা দেয়নি।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 August 2016, 03:13 PM
Updated : 16 August 2016, 03:13 PM

গুলশান হামলার অন্যতম ‘মাস্টারমাইন্ড’ নুরুল ইসলাম ওরফে মারজানের চবি ছাত্র হিসেবে পরিচয় বের হওয়ার পর বিষয়টি নজরে আসে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের।

চবি উপাচার্য অধ্যাপক ইফতেখার উদ্দিন চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “গণমাধ্যমে ছবি ও সোমবার রাতে তার পরিচয় প্রকাশের পর আমরা নিশ্চিত হয়েছি মারজানই নুরুল ইসলাম। ২০১৫ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি দ্বিতীয় বর্ষের ষষ্ঠ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পর থেকে তার আর খোঁজ নেই।”

“তৃতীয় বর্ষে পুনঃভর্তি না হওয়ায় নুরুল ইসলাম আর চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী নন।”

গুলশানের হলি আর্টিজানে হামলার প্রায় দেড় মাস পর শুক্রবার পুলিশ ওই ঘটনার ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে মারজানের নাম ও ছবি প্রকাশ করে।

উপাচার্য জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে পুলিশকে ছয়ওজন নিখোঁজের যে তালিকা দেওয়া হয়েছিল সেখানে নুরুল ইসলামের নাম ছিল না।

তিনি বলেন, “পুলিশকে দেওয়া সে তালিকায় ৪৩টি বিভাগের সবগুলো থেকে অনুপস্থিতির তালিকা দেওয়া হয়নি।”

অন্তত ছয় থেকে সাতটি বিভাগ তাদের অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা প্রশাসনকে দেয়নি উল্লেখ করে উপাচার্য ইফতেখার বলেন, ওইসব বিভাগের সভাপতিকে শোকজ করা হয়েছে।

এদিকে মারজানের পরিচয় প্রকাশের পর চবি’র বিভিন্ন অনুষদের ডিন, বিভাগের সভাপতি ও আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের নিয়ে মঙ্গলবার বৈঠক করেছেন উপাচার্য।

বৈঠকে শিক্ষার্থীদের পাশাপাশি শিক্ষকদেরও উপস্থিতির বিষয়টি নিশ্চিত করার নির্দেশনা দেন তিনি।

চবি প্রক্টর আলী আজগর চৌধুরী বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, রোববারের মধ্যে প্রত্যকটি বিভাগের সভাপতিদের নতুন করে তাদের অনুপস্থিত শিক্ষার্থীদের তালিকা জমা দেওয়ার বিষয়ে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।

প্রতিটি বিভাগ থেকে দুই মাস পরপর তাদের শিক্ষার্থীদের অনুপস্থিতি ও ড্রপ আউটদের তালিকা দেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, তারা অন্য কোনো কিছুর সাথে যুক্ত হয়েছে কিনা তাও খতিয়ে দেখা হবে।

“আগে বিভিন্ন বিভাগ থেকে আমরা ১০০ জনের তালিকা পেয়েছিলাম। তা যাচাই শেষে ছয় শিক্ষার্থীর বিষয়ে আইন শৃঙ্খলা বাহিনীকে জানিয়েছিলাম।”

পরে তাদের সন্ধান মেলে বলে জানান তিনি।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক