জিকা নিয়ে আতঙ্ক নয়

চট্টগ্রামে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবারের সদস্যসহ আশপাশের ১৫৯ জনের রক্তের নমুণা পরীক্ষা করে ‘জিকা’ ভাইরাসের অস্তিত্ব না পাওয়ার কথা জানিয়েছে জাতীয় রোগ পর্যবেক্ষণকারী সংস্থা আইইডিসিআর।

চট্টগ্রাম ব্যুরোবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 22 March 2016, 01:43 PM
Updated : 22 March 2016, 01:43 PM

জিকা নিয়ে শঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির পরিচালক অধ্যাপক মাহমুদুর রহমান। 

তিনি বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমকে বলেন, “চট্টগ্রামের যে ব্যক্তির শরীরে জিকার অস্তিত্ব মিলেছে তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যসহ ওই এলাকা থেকে ১৫৯ জনের রক্তের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে।

“তাদের মধ্যে দশজনের শরীরে সাধারণ জ্বরের লক্ষণ পাওয়া গেলেও জিকার অস্তিত্ব মেলেনি।”

মঙ্গলবার ঢাকায় স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক সংবাদ সম্মেলন করে চট্টগ্রামে ৬৭ বছর বয়সী এক ব্যক্তির শরীরে জিকার অস্তিত্ব পাওয়ার কথা জানান।

গত ফেব্রুয়ারিতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিকার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করার পর বাংলাদেশ সরকার আইইডিসিআর-এ সংরক্ষিত রক্তের নমুনা ফের পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেয়। সেখানেই মিলেছে জিকার অস্তিত্ব।

মাহমুদুর রহমান বলেন, “২০১৪ সালের অগাস্ট থেকে পরের বছরের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চট্টগ্রামসহ দেশের চারটি মেডিকেল কলেজে ডেঙ্গু শনাক্তের জন্য রক্ত পরীক্ষা করতে আসা ১ হাজার ৭০ জনের সংগৃহীত নমুনা থেকে যাদের ‘নেগেটিভ’ হয়েছিল সেগুলো পরীক্ষা করা হয়।

“এদের মধ্যেই চট্টগ্রামের ওই ব্যক্তির নমুনায় জিকার অস্তিত্ব পাওয়া যায়।”

জিকার অস্তিত্ব পাওয়া ব্যক্তি বা তার পরিবারের সদস্যদের কারও অতীতে বিদেশ যাওয়ার ইতিহাস নেই জানিয়ে তিনি বলেন, “এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। এজন্য আমাদের সচেতন হতে হবে।”

প্রতিমন্ত্রীর ঘোষণার পর বিকালে চট্টগ্রাম জেলা সিভিল সার্জন ডা. আজিজুর রহমান সিদ্দিকী জিকা ভাইরাস নিয়ে আতঙ্কিত না হওয়ার পরামর্শ দিয়ে সংবাদ সম্মেলন করেন।

তিনি বলেন, “এ ভাইরাস মানবদেহের পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গকে আক্রমণ করে না, এ রোগে আক্রান্ত হয়ে কারও হাসপাতালে ভর্তি হওয়ারও ইতিহাস নেই।”

শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমেও এ ভাইরাস ছড়ায় না দাবি করে সিভিল সার্জন বলেন, “এ নিয়ে আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই। শুধু এডিস মশার মাধ্যমেই এটি ছড়াতে পারে। এ ভাইরাস থেকে রক্ষায় মশা থেকে নিজেদের বাঁচাতে হবে।”

ঢাকা থেকে আইইডিসিআরের আহমেদ রায়হান রশিদের নেতৃত্বে আরও দুইজন চিকিৎসক ও একজন টেকনিশিয়ান গত ১৪ থেকে ১৯ মার্চ পর্যন্ত চট্টগ্রাম থেকে রক্তের নমুনা সংগ্রহ করে নিয়ে গেছেন বলে জানান তিনি।

জিকা ভাইরাস শনাক্ত হওয়া ব্যক্তি সুস্থ অবস্থায় তার পরিবারের সঙ্গে আছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, “তার হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার কোনো দরকার নেই।’’

সংবাদ সম্মেলনে ডেপুটি সিভিল সার্জন অজয় কুমার দে ও মেডিকেল অফিসার নুরুল হায়দার উপস্থিত ছিলেন।