বাংলাদেশের বিপক্ষে প্রথমবার উইকেটশূন্য রশিদ

ম্যাচের আগে ভাবনা ছিল রশিদ খানকে সামলানো নিয়ে। বাংলাদেশ যে কঠিন উইকেটে চ্যালেঞ্জিং স্কোর গড়তে পারল, সেটির একটি বড় কারণ এই লেগ স্পিনারকে সামলানোর চ্যালেঞ্জে জয়ী হওয়া।

আরিফুল ইসলাম রনিসাউথ্যাম্পটন থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 24 June 2019, 04:32 PM
Updated : 24 June 2019, 04:32 PM

সাউথ্যাম্পটনে সোমবার ১০ ওভারে ৫২ রান দিয়ে কোনো উইকেট পাননি রশিদ। বাংলাদেশেরবিপক্ষে৬ওয়ানডেখেলেএইপ্রথমবারপঞ্চাশবাতারবেশিরানখরচকরলেনতিনি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ৯টি আন্তর্জাতিক ম্যাচে উইকেটশূন্য থাকলেন প্রথমবার।

বাংলাদেশের বিপক্ষে আগের ৫ ওয়ানডেতে একবারই ৪০ রানের বেশি দিয়েছিলেন রশিদ। গত এশিয়া কাপে আবু ধাবিতে ১০ ওভারে দিয়েছিলেন৪৬রান। সেই ৫ ওয়ানডেতে উইকেট নিয়েছিলেন ১০টি।

তিনটি টি-টোয়েন্টি খেলে নিয়েছেন বাংলাদেশের ৮ উইকেট। একটি ম্যাচেও রান দেননি ওভারপ্রতিছয়েরবেশি।

এবার আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচের আগে বাংলাদেশের রণপরিকল্পনায় গুরুত্বপূর্ণ অংশ নিশ্চয়ই ছিল রশিদকে উইকেট না দেওয়া। উইকেট ছিল দারুণ স্পিন সহায়ক। কিন্তু নিজেদের পরিকল্পনায় বাংলাদেশ সফল দারুণভাবে।

রশিদের দ্বিতীয় ওভারেই অবশ্য সাকিবকে আউট দিয়েছিলেন আম্পায়ার। সতীর্থদেরসঙ্গেউল্লাসেভেসেছিলেনএইলেগস্পিনার। কিন্তু রিভিউ নেন সাকিব। দেখা যায়, বল চলে যাচ্ছিল স্টাম্পেরওপরদিয়ে। এরপর আর উল্লাসের সুযোগ রশিদকে দেয়নি বাংলাদেশ। তার বোলিংয়ে বাংলাদেশেরশুরুটাছিলসাবধানীব্যাটিংয়ে। ৪ ওভারের প্রথম স্পেলে রান দিয়েছিলেন ১৫। দুই ওভারের পরের স্পেলে রান আসে ৬।

প্রান্ত বদলে আবার তাকে আনা হয় ৩৯তম ওভারে। মুশফিক তখন খেলছেন দারুণ আত্মবিশ্বাসে। তার দারুণ সুইপে একটি বাউন্ডারিসহ ওই ওভারে আসে ৯ রান। ৩ ওভারের শেষ স্পেল থেকে আসে ২২ রান।

রশিদের বোলিংয়ে এ দিন বাংলাদেশের কৌশল ছিল কোনো ঝুঁকি না নেওয়া। লফটেড শট প্রায় ছিলই না। শেষ স্পেলের আগে সেভাবে সুইপ বা স্পিনের বিপক্ষে শটও দেখা যায়নি। তার ১০ ওভারে বাউন্ডারিএসেছেকেবলতিনটি। এক-দুই করে নিয়েই তবু শেষ পর্যন্ত রান নেওয়া গেছে ওভারপ্রতি পাঁচের বেশি।

আফগানদের স্পিন আক্রমণের আরেক অস্ত্র মুজিব উর রহমান এ দিন ছিলেন দুর্দান্ত। ১০ ওভারে ৩৯ রান দিয়ে নিয়েছিলেন৩উইকেট। এরপরও বাংলাদেশকে খুব ভুগতে হয়নি ব্যাটসম্যানরা রশিদকে দারুণ খেলেছে বলেই।

শুধু এই ম্যাচের প্রেক্ষাপটেই নয়, ভবিষ্যতেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে এই পারফরম্যান্স হতে পারে নিজেদের জন্য উদাহরণ। এই উইকেটেও ঝুঁকিবিহীনখেলেযদিরশিদের১০ওভারে৫২নেওয়াযায়,যেকোনোউইকেটেইতাহলেরশিদকেসামলানোখুবকঠিনহয়তোনয়!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক