আফগানিস্তান: রশিদ-নবি-মুজিব ভেলায় চড়ে চমকের আশা

চার বছর আগে বিশ্বকাপ অভিষেকে আহামরি কিছু করেনি আফগানিস্তান। তবে পেয়েছিল জয়ের দেখা। আর এবার অনেক কিছুর যোগফলে কোনোমতে মিলেছে সুযোগ। হঠাৎ করেই নেতৃত্বে বদলে কিছুটা এলোমেলো হয়ে গেছে তারা। দলটিকে নিয়ে তবুও উচ্ছ্বাসের কমতি নেই। রশিদ খান, মোহাম্মদ নবি ও মুজিব উর রহমানের ওপর ভর করে দেশটি যেতে পারে অনেক দূর।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 May 2019, 12:44 PM
Updated : 23 May 2019, 12:44 PM

২০১৫ বিশ্বকাপেআফগানিস্তান জিতেছিল কেবল একটি ম্যাচ, স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এরপর আসগর আফগানের নেতৃত্বেযুদ্ধ বিধ্বস্ত দেশটি এগিয়েছে বহু দূর। ইংল্যান্ড বিশ্বকাপের কিছু দিন আগে হুট করেনিজেদের সফলতম অধিনায়ককে সরিয়ে দেয় আফগানিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। অধিনায়ক বদলের সিদ্ধান্তজন্ম দেয় বড় বিস্ময়ের। প্রক্রিয়াটা যে স্বাভাবিক ছিল না, সেটি আরও স্পষ্ট হয় নবি ওরশিদের প্রতিক্রিয়ায়। দলটির সবচেয়ে বড় দুই তারকা এই সিদ্ধান্তের কড়া সমালোচনা করেন।

নেতৃত্বকাঠামোয় আমূল পরিবর্তন আনে আফগানিস্তান। আসগরকে সরিয়ে তিন সংস্করণে অধিনায়ক করা হয়তিনজনকে। টেস্টের নেতৃত্ব পান রহমত শাহ, ওয়ানডে অধিনায়ক গুলবাদিন নাইব, টি-টোয়েন্টিতেরশিদ।

সফল ও পরীক্ষিতঅধিনায়ককে বিশ্বকাপের আগে সরিয়ে দেওয়া জন্ম দেয় অনেক প্রশ্নের। চার বছর আগে যার জায়গায়নেতৃত্বে আনা হয়েছিল আসগরকে, সেই নবিই জানান প্রথম প্রকাশ্য প্রতিক্রিয়া। নতুন টি-টোয়েন্টিঅধিনায়ক রশিদ ছিলেন আরও খোলামেলা ও আক্রমণাত্মক।

আসগরের নেতৃত্বেকিছুদিন আগে নিজেদের দ্বিতীয় টেস্টে ঐতিহাসিক জয় পায় আফগানিস্তান। এই ব্যাটসম্যানেরনেতৃত্বে তারা ৫৬ ওয়ানডেতে জিতেছে ৩১টি, ৪৬ টি-টোয়েন্টিতে জিতেছে ৩৭টিতেই।

গত বছর জিম্বাবুয়েতেহয়ে যাওয়া বিশ্বকাপ বাছাই পর্বের শুরুটা ছিল আফগানদের জন্য ভীষণ হতাশাজনক। গ্রুপ পর্বেমাত্র একটি ম্যাচ জিতে রান রেটে নেপাল, হংকংকে পেছনে ফেলে কোনোমতে যায় সুপার সিক্সে।

গ্রুপ থেকেকোনো পয়েন্ট না পাওয়ায় আফগানিস্তানের জন্য কাজটা ছিল বেশ কঠিন। ভাগ্য তাদের হাতে ছিলনা। এ পর্বে নিজেদের তিন ম্যাচ শুধু জেতাই যথেষ্ট ছিলো না, তাদের প্রার্থনা করতে হয়েছেওয়েস্ট ইন্ডিজের কাছে স্কটল্যান্ড এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের কাছে জিম্বাবুয়ের হারেরজন্যও।

শেষ পর্যন্তনিজ নিজ ম্যাচে ডাকওয়ার্থ ও লুইস পদ্ধতিতে নাটকীয় জয় পায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও সংযুক্ত আরবআমিরাত। আর শেষ ম্যাচে আইরিশদের হারিয়ে বিশ্বকাপ নিশ্চিত করে আফগানিস্তান।

এশিয়া কাপেনিজেদের সামর্থ্যটা দেখায় আফগানরা। বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কাকে হারিয়ে গ্রুপ সেরা হয়ে সুপারফোরে যায় আসগরের দল। সেরা চার দলের লড়াইয়ে বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের বিপক্ষে হারে লড়াইকরে, ভারতের বিপক্ষে করে টাই। এই পর্বে কোনো জয় না পেলেও হৃদয় জিতে নেয় রশিদ-নবি-মুজিবেরদল।

গত বিশ্বকাপেরপর থেকে এ পর্যন্ত ৬৩ ম্যাচের ৩৪টিতে জিতেছে আফগানিস্তান। হেরেছে ২৫টিতে, টাই করেছেএকটি, পরিত্যক্ত তিনটি ম্যাচ। তাদের এই সাফল্যে সবচেয়ে বড় অবদান স্পিন ত্রয়ীর।

এই সময়ে৫৯ ম্যাচে মাত্র ১৫.৩৩ গড়ে ১২৫ উইকেট নিয়েছেন লেগ স্পিনার রশিদ। হয়ে উঠেছেন সীমিত ওভারেরক্রিকেটে সময়ের সেরা স্পিনার। তার চেয়ে বেশি উইকেট নিয়েছেন কেবল ইংল্যান্ডের আদিল রশিদ,২৯.৬৮ গড়ে ১২৯ উইকেট এই লেগ স্পিনারের।

৬১ ম্যাচে৭৩ উইকেট নিয়েছেন অলরাউন্ডার নবি। আরেক অফ স্পিনার মুজিব নিয়েছেন ৩০ ম্যাচে ৫১ উইকেট।স্পিন ত্রয়ী নিজেদের দিনে গুঁড়িয়ে দিতে পারেন যেকোনো ব্যাটিং লাইনআপকে।

আফগানদেরসবচেয়ে বড় শক্তি এই স্পিন আক্রমণ। ইংল্যান্ডের ব্যাটিং সহায়ক উইকেট আর ছোট মাঠে তাকতটা কার্যকর হবে সেটা সময়ই বলে দিবে। তবে সেখানে সাফল্য পাওয়ার অস্ত্র কম নেই তিনস্পিনারের ভাণ্ডারে। আফগানিস্তানের সবচেয়ে বড় সুবিধা তাদের ব্যাটসম্যানদের সামর্থ্যআছে শেষটায় ঝড় তোলার, বড় শট খেলার। কোনো কোনো ম্যাচে পার্থক্য গড়ে দিতে পারে লোয়ারঅর্ডারের ব্যাটিং।

ওপেনিংয়েআছে বিস্ফোরক জুটি। দুই সহজাত আক্রমণাত্মক ব্যাটসম্যান হজরতউল্লাহ জাজাই ও মোহাম্মদশাহজাদ দলকে এনে দিতে পারেন উড়ন্ত সূচনা। মিডল অর্ডারে আফগান, রহমত শাহ, নবির উপস্থিতযোগাবে নির্ভরতা। সব মিলিয়ে বিশ্বকাপে যে কোনো দলকে চ্যালেঞ্জ জানানোর সামর্থ্য নিয়েবিশ্বকাপে যাচ্ছে আফগানিস্তান।

গুরুত্বপূর্ণ যিনি: দৌলত জাদরান

ইংল্যান্ডেগুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠতে পারেন অভিজ্ঞ এই পেসার। কার্যকারিতার দিক থেকে কোনো অংশে কমনন দৌলত। অনেকবারই সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন তিনি। গত বিশ্বকাপের পর থেকে ৪৮ ম্যাচে২৬.৮৫ গড়ে নিয়েছেন ৬৯ উইকেট। শুরুতে সাফল্য এনে দেওয়া কিংবা জমে যাওয়া জুটি ভাঙতে তিনিহতে পারেন নাইবের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র।

কোচ: ফিল সিমন্স

ওয়েস্ট ইন্ডিজেরসাবেক এই অলরাউন্ডার আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সফল কোচদের একজন। কোচিং করিয়েছেন ওয়েস্টইন্ডিজ, জিম্বাবুয়ে ও আয়ারল্যান্ডকে। তার কোচিংয়ে ২০১৬ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতে ক্যারিবিয়ানরা।

বিশ্বকাপেরবড় মঞ্চে কিভাবে সাফল্য পেতে হয় ভালো করেই জানা আছে সিমন্সের। তার অধীনে ২০০৭, ২০১১ও ২০১৫ বিশ্বকাপে আইরিশরা উপহার দিয়েছে দারুণ সব চমক।

আফগানিস্তান দল: গুলবাদিন নাইব (অধিনায়ক), মোহাম্মদ শাহজাদ(উইকেটরক্ষক), নুর আলি জাদরান, হজরতউল্লাহ জাজাই, রহমত শাহ, আসগর আফগান, হাশমতউল্লাহশাহিদি, নাজিবউল্লাহ জাদরান, সামিউল্লাহ শিনওয়ারি, মোহাম্মদ নবি, রশিদ খান, দৌলত জাদরান,আফতাব আলম, হামিদ হাসান, মুজিব উর রহমান।

বিশ্বকাপ রেকর্ড:

২০১৫: গ্রুপপর্ব

আফগানিস্তানের বিশ্বকাপ সূচি:

তারিখ, বার

বাংলাদেশ সময়

প্রতিপক্ষ

ভেন্যু

০১ জুন, শনিবার

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা

অস্ট্রেলিয়া

ব্রিস্টল কাউন্টি গ্রাউন্ড, ব্রিস্টল

০৪ জুন, মঙ্গলবার

বেলা সাড়ে তিনটা

শ্রীলঙ্কা

কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম, কার্ডিফ

০৮ জুন, শনিবার

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা

নিউ জিল্যান্ড

কাউন্টি গ্রাউন্ড টনটন, টনটন

১৫ জুন, শনিবার

সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টা

দক্ষিণ আফ্রিকা

কার্ডিফ ওয়েলস স্টেডিয়াম, কার্ডিফ

১৮ জুন, মঙ্গলবার

বেলা সাড়ে তিনটা

ইংল্যান্ড

ওল্ড ট্র্যাফোর্ড, ম্যানচেস্টার

২২ জুন, শনিবার

বেলা সাড়ে তিনটা

ভারত

হ্যাম্পশায়ার বৌল, সাউথ্যাম্পটন

২৪ জুন, সোমবার

বেলা সাড়ে তিনটা

বাংলাদেশ

হ্যাম্পশায়ার বৌল, সাউথ্যাম্পটন

২৯ জুন, শনিবার

বেলা সাড়ে তিনটা

পাকিস্তান

হেডিংলি, লিডস

০৪ জুলাই, বৃহস্পতিবার

বেলা সাড়ে তিনটা

ওয়েস্ট ইন্ডিজ

হেডিংলি, লিডস

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক