ওয়ানডে ক্রিকেটকে স্টোকসের ‘বিদায়’

আন্তর্জাতিক ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর নিচ্ছেন ইংল্যান্ডের অলরাউন্ডার বেন স্টোকস। দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে হতে যাচ্ছে এই সংস্করণে তার শেষ ম্যাচ।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 11:55 AM
Updated : 18 July 2022, 02:08 PM

ম্যাচের আগের দিন সোমবার ইংল্যান্ড ও ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ডের বিবৃতিতে এই ঘোষণা দেন স্টোকস। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ব্যস্ত সূচিতে শারীরিক ও মানসিক ধকল কাটাতে ইংল্যান্ডের ২০১৯ বিশ্বকাপ জয়ের নায়কের এই সিদ্ধান্ত।

"ডারহামে মঙ্গলবার আমি ওয়ানডে ক্রিকেটে ইংল্যান্ডের হয়ে আমার শেষ ম্যাচটি খেলব। এই ফরম্যাট থেকে আমি অবসরের সিদ্ধান্ত নিয়েছি। এটি অবিশ্বাস্য রকমের কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। আমি ইংল্যান্ডের হয়ে আমার সতীর্থদের সঙ্গে খেলা প্রতিটি মিনিট উপভোগ করেছি। আমাদের এ পর্যন্ত যাত্রাটা ছিল অসাধারণ।”

“এই ফরম্যাটে আমার সতীর্থদের নিজের শতভাগ আমি আর দিতে পারব না।”

তিন সংস্করণেই ইংল্যান্ড দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য স্টোকস। এই বছরের শুরুতে টেস্ট অধিনায়কের দায়িত্ব পাওয়া ৩১ বছর বয়সী ক্রিকেটার মনে করেন, এখন সব সংস্করণে খেলা চালিয়ে যাওয়া তার জন্য বেশ কঠিন। সবটা এখন দিতে চান টেস্ট আর টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটকে।

"তিন ফরম্যাটেই খেলা এখন আমার জন্য খুব কঠিন। ঠাসা সূচিতে শুধু শরীর সায় দিচ্ছে না তা নয়। আমি মনে করি, আমি আরেকজন খেলোয়াড়ের জায়গা দখল করে আছি, যে (অধিনায়ক) জসকে (বাটলার) এবং দলকে শতভাগ দিতে পারবে। এখন ক্রিকেটার হিসেবে অন্য কারও উন্নতি করার এবং অবিশ্বাস্য সব মুহূর্তের জন্ম দেওয়ার সময়, যেমনটা গত ১১ বছর ধরে আমি করেছি।’

"এখন আমি টেস্ট ক্রিকেটকে আমার সবটা দেব এবং এই সিদ্ধান্তের ফলে আমি মনে করি, টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটেও আমি পুরোপুরি মনোযোগ দিতে পারব।” 

কিউই বাবা-মার সন্তান স্টোকসের জন্ম নিউ জিল্যান্ডের ক্রাইস্টচার্চে। ইংল্যান্ডে তার ঘরের মাঠ ডারহাম। সেখানেই খেলবেন ক্যারিয়ারের শেষ ওয়ানডে, যেটি হতে যাচ্ছে তার ১০৫তম ম্যাচ।

ঘরের মাঠে শেষ ম্যাচটি খেলবেন বলে রোমাঞ্চিত তিনি। একই সঙ্গে কৃতজ্ঞতা জানালেন সমর্থকদের।  

“আমি যে ১০৪টি ম্যাচ খেলেছি তার প্রত্যেকটি উপভোগ করেছি। খুব ভালো লাগছে যে ক্যারিয়ারের শেষ ম্যাচটি খেলতে যাচ্ছি আমার ঘরের মাঠ ডারহামে।”

“সব সময় আমি ইংল্যান্ডের ভক্ত-সমর্থকদের সমর্থন পেয়েছি এবং সামনেও পাব আশা করি। আপনারা বিশ্বের সেরা সমর্থক। আশা করি, মঙ্গলবার আমরা জিততে পারব এবং দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে সিরিজটা ভালোভাবে শুরু করতে পারব।”

২০১১ সালে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে অভিষেক থেকে এখন পর্যন্ত এই সংস্করণে স্টোকসের রান ২ হাজার ৯১৯। গড় ৩৯.৪৪ আর স্ট্রাইক রেট ৯৫.২৬। সেঞ্চুরি আছে তিনটি। হাত ঘুরিয়ে উইকেট ৭৪টি।

লর্ডসে ২০১৯ বিশ্বকাপের ফাইনালে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তার অপরাজিত ৮৪ রানের দুর্দান্ত ইনিংসের সুবাদেই ম্যাচ সুপার ওভারে নিয়েছিল ইংল্যান্ড। সেখানেও ‘টাই’ হওয়ার পর বাউন্ডারির সংখ্যায় প্রথমবার চ্যাম্পিয়ন হয় ইংলিশরা।

মানসিক স্বাস্থ্যের দিকে বাড়তি মনোযোগ দিতে গত বছরের জুলাইয়ে ক্রিকেট থেকে অনির্দিষ্ট সময়ের জন্য বিরতি নিয়েছিলেন স্টোকস। এই গ্রীষ্মে ইংল্যান্ডের বেশ ব্যস্ত সূচি। সাড়ে তিন মাস সময়ের মধ্যে তারা খেলবে সাতটি টেস্ট। জুলাই মাসে ২৫ দিনের মধ্যে তাদের এক ডজন সীমিত ওভারের ম্যাচ।

গত এক মাসের মধ্যে ইংল্যান্ডের বিশ্বকাপজয়ী দলের দ্বিতীয় সদস্য হিসেবে অবসর নিলেন স্টোকস। গত মাসে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের পর আন্তর্জাতিক ক্রিকেটকে বিদায় জানান বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক ওয়েন মর্গ্যান। এরপর সীমিত ওভারের দলের নেতৃত্ব পান বাটলার।   

ভারতের বিপক্ষে রোববার শেষ হওয়া ওয়ানডে সিরিজে তিন ইনিংসে স্টোকস করেন ৪৮ রান। তিন ম্যাচ মিলিয়ে বোলিং করেন মাত্র ৩ ওভার। এখন দলে তার জায়গা নিতে পারেন স্যাম কারান, ভারত সিরিজে যিনি ছিলেন বেঞ্চে। 

ওয়ানডে থেকে স্টোকসের অবসরের সিদ্ধান্তকে ‘নিঃস্বার্থ’ হিসেবে মন্তব্য করেছেন ইংল্যান্ড ক্রিকেটের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রবার্ট কি। এতে ইংল্যান্ড ‘দীর্ঘমেয়াদে উপকৃত হবে’ বলে মনে করেন তিনি।

"আমি জানি এটি অবশ্যই কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল। তবে আমি পুরোপুরি বুঝতে পারছি, সে কেন এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ...আমি নিশ্চিত সে ১২০ এর বেশি টেস্ট খেলবে, আগামী কয়েক বছর ধরে টি-টোয়েন্টি খেলবে এবং বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে সাহায্য করবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক