‘নির্ভীক’ পান্তে মুগ্ধ বাটলার

লক্ষ্য তাড়ায় একের পর এক উইকেট হারিয়ে দল যখন ভীষণ বিপদে, ঠিক তখনই ভারতের জন্য যেন ত্রাতা হয়ে এলেন রিশাভ পান্ত। দুর্দান্ত এক সেঞ্চুরিতে জয় নিয়েই ছাড়লেন মাঠ। এই কিপার-ব্যাটসম্যানের এমন দায়িত্বশীল ব্যাটিং মন জয় করে নিয়েছে জস বাটলারের। ইংল্যান্ড অধিনায়কের চোখে, এমন ভয়ডরহীন মানসিকতাই পান্তকে অন্যদের চেয়ে আলাদা করে তোলে।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 18 July 2022, 10:46 AM
Updated : 18 July 2022, 10:46 AM

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ নির্ধারণী তৃতীয় ওয়ানডেতে রোববার ম্যাচ জয়ী দুর্দান্ত ইনিংসটি উপহার দেন পান্ত। চারে নেমে খেলেন ১২৫ রানের অপরাজিত ইনিংস। ১১৩ বলে ইনিংসটি সাজান তিনি ২ ছক্কা ও ১৬ চারে।

ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে ইংলিশদের দেওয়া ২৬০ রানের লক্ষ্যে ব্যাটিংয়ে নেমে একশ রানের আগেই ৪ উইকেট হারিয়ে বসে ভারত। চোখ রাঙাচ্ছিল তখন হারের শঙ্কা। কিন্তু পান্ত ও হার্দিক পান্ডিয়ার শতরানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ায় ভারত।

পান্ডিয়া ৫৫ বলে ৭১ রান করে ফিরে গেলেও পান্ত ফেরেন দলকে জিতিয়ে। ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি করে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে প্রতিপক্ষকে গুঁড়িয়ে দিতেই বেশি পছন্দ করেন পান্ত। কিন্তু এই ম্যাচে নিজের ইনিংসটি গড়েন তিনি ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে। দলীয় স্কোর ২১ রানের মধ্যে ফিরে যান শিখর ধাওয়ান ও রোহিত শর্মা, এরপর উইকেটে যান পান্ত। পরে বিরাট কোহলিও বিদায় নেন দ্রুত।

পান্ত তাতে একটুও ভড়কে যাননি। খেলে যান দায়িত্ব নিয়ে। শুরুতে কিছুটা দেখেশুনে, পরে রানের গতি বাড়ান তিনি। ৭১ বলে ফিফটি করা বাঁহাতি ব্যাটসম্যান সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ১০৬ বলে।

ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে পান্তের ব্যাটিং নিয়ে প্রশংসা ঝরে বাটলারের কণ্ঠে।

“রিশাভ দারুণ একজন ক্রিকেটার। আমি মনে করি, অন্যদের থেকে যেটা তাকে আলাদা করে, তা হলো তার মানসিকতা। রিশাভ নির্ভীক ক্রিকেটার এবং অসাধারণ এক প্রতিভা।”

“সব সংস্করণেই সে দুর্দান্ত এবং তার খেলা দেখাটা দারুণ। সে তার দলের জন্য যেভাবেই খেলতে চায়, সবক্ষেত্রেই ভালো সমর্থন পায় বলে আমি মনে করি।”

ভারতের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে ইংল্যান্ডের সীমিত ওভারের স্থায়ী অধিনায়ক হিসেবে পথচলা শুরু হয় বাটলারের। দায়িত্বের প্রথম দুই সিরিজই তিনি হেরে গেলেন। তবে এসব নিয়ে খুব একটা ভাবছেন না এই কিপার-ব্যাটসম্যান।

“আমি নেতৃত্বের বিষয়ে অনেক কিছু শিখছি। অধিনায়কত্বের প্রথম সপ্তাহটা আমার খুব ব্যস্ততায় কাটল। এখন অনেকটা হালকা অনুভব করছি। অল্প সময়ের মধ্যে অনেক ম্যাচ খেলা বেশ চ্যালেঞ্জের।”

“নিজেকে অভিজ্ঞ ক্রিকেটার হিসেবেই মনে হয় আমার। নতুন অধিনায়ক হিসেবে দায়িত্ব সম্পর্কে শিখছি। আমার মনে হয়, আরও সময় লাগবে। ড্রেসিং রুমে অভিজ্ঞরা আছে, সাপোর্ট স্টাফরাও আমাকে সহায়তা করছে। অধিনায়কত্ব একটা শিল্প আর সময়ের সঙ্গে সঙ্গে যত অভিজ্ঞতা হবে তত আমি এ বিষয়ে শিখব। নিজের মতো খেলা ও নেতৃত্ব দেওয়াটাই হবে আমার ধরন। অপেক্ষা কেবল সেই ছন্দ খুঁজে পাওয়ার।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক