পটস-লিচদের মনোযোগ নাড়িয়ে সফল পান্ত

ব্যাটিং ধসে পড়ে চরম বিপদে দল। কঠিন সেই পরিস্থিতিতেই পাল্টা আক্রমণে উল্টো প্রতিপক্ষকে চাপে ফেলে দিলেন রিশাভ পান্ত। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে এলোমেলো করে দিলেন ইংলিশ বোলারদের লাইন-লেংথ। খাদের কিনার থেকে দলকে টেনে তোলার পাশাপাশি নিজে খেললেন রেকর্ড গড়া ইনিংস। অসাধারণ একটি দিন কাটানোর পর ভারতীয় এই কিপার-ব্যাটসম্যান বললেন, জ্যাক লিচ-ম্যাথু পটসদের মনোযোগে চিড় ধরিয়ে তার এই সাফল্য।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 2 July 2022, 10:50 AM
Updated : 2 July 2022, 10:50 AM

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চলমান এজবাস্টন টেস্টের প্রথম দিন যখন উইকেটে যান পান্ত, ৬৪ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন চাপে ভারত। খানিক বাদে স্কোর হয়ে যায় ৫ উইকেটে ৯৮। কোণঠাসা সেই অবস্থানে শুরুতে কিছুটা সময় নেওয়া পান্ত পরে বেছে নেন আক্রমণের পথ।

৫১ বলে ফিফটি স্পর্শ করা বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যানের যেন তর সইছিল না তিন অঙ্কের উষ্ণ ছোঁয়া পেতে। লিচ, পটসদের গুঁড়িয়ে পরের পঞ্চাশ রান তুলে ফেলেন তিনি স্রেফ ৩৮ বলে। কাঙ্ক্ষিত সেঞ্চুরিতে পা রাখেন ৮৯ বলে।

এতেই ভারতের কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে দ্রুততম সেঞ্চুরির রেকর্ড গড়ে ফেলেন তিনি। পেছনে ফেলেন ২০০৬ সালে পাকিস্তানের বিপক্ষে মহেন্দ্র সিং ধোনির খেলা ৯৩ বলের শতককে।

শেষ পর্যন্ত ১১১ বলে ১৪৬ রানের ইনিংস খেলে থামে পান্তের পথচলা। যেখানে ১৯টি চারের পাশে মারেন ৪টি ছক্কা। শুক্রবার দিনের খেলা শেষে পান্ত তুলে ধরেন, ক্রিজে থাকার সময়ের ভাবনা।

“ইংলিশ কন্ডিশনে কোনো বোলার ফুল লেংথে বল করলে তার ছন্দ নষ্ট করে দেওয়াটা খুব গুরুত্বপূর্ণ বলে আমার মনে হয়।”

“আমি একইভাবে না খেলে বিভিন্ন শট খেলার চেষ্টা করি, মাঝে মধ্যে উইকেট ছেড়ে বেরিয়ে এসে কিংবা ব্যাকফুটে গিয়ে। ক্রিজ ভালোভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করি। এটা বোলারদের মনোযোগ এলোমেলো করে দেওয়া জন্য এবং সেটাই হয়েছে। এটা অবশ্য পূর্ব পরিকল্পিত ছিল না। আমি স্রেফ বোলাররা কী করতে চাচ্ছে, সেদিকে নজর দিয়ে খেলেছি।”

দ্রুত অনেকগুলো উইকেট হারানোয় খুব চাপে ছিল ভারত। কিন্তু রবীন্দ্র জাদেজাকে নিয়ে ২২২ রানের জুটি গড়েন পান্ত। তাতে দিন শেষ করে সফরকারীরা ৭ উইকেটে ৩৩৮ রানে!

ক্যারিয়ারের পঞ্চম ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তৃতীয় সেঞ্চুরি উপহার দেওয়া পান্ত বললেন, স্রেফ প্রক্রিয়ায় মনোযোগ ছিল তার।

“যখন দ্রুত অনেক উইকেট পড়ে যায়, তখন নিজেকে বেশি সময় দিতে হয়। আমি কেবল জাদ্দু ভাইয়ের (রবীন্দ্র জাদেজা) সঙ্গে জুটি গড়ার চেষ্টা করেছি এবং চা-বিরতির আগে কোনো উইকেট হারাতে চাইনি আর সেটাই কাজে দিয়েছে। রাহুল (দ্রাবিড়) ভাই আমাকে বলেছেন যে, অন্য সব বিষয়ে খুব বেশি না ভেবে একটি করে বল খেলায় মনোযোগ দেওয়া উচিত আমার।”

“আমাদের মধ্যে ছোট-ছোট জুটি গড়া নিয়ে কথা হয়েছিল, ২৫-৩০ রানের, এভাবেই বড় জুটি গড়া যায়। হ্যাঁ, শুরুতে অনেক চাপ ছিল। কিন্তু আমি স্রেফ সঠিক প্রক্রিয়ার ওপর মনোনিবেশ করেছিলাম। ভাবনাটা ছিল ক্রিকেটার হিসেবে আমি কী করতে পারি, প্রতিপক্ষ কী ভাবছে সেটা নয়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক