চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের দুর্দান্ত সেশন

প্রথম দিন বিকেলে অগোছালো বোলিংয়ের হতাশা অনেকটাই কেটে গেল দ্বিতীয় দিন সকালে। পেস-স্পিন, দুটিতেই বোলিং হলো আঁটসাঁট, প্রতিফলন পড়ল পরিকল্পনার। মাঠে শরীরী ভাষা দেখা গেল উজ্জীবিত। মিলল পুরস্কারও। এক সেশনে চার উইকেট নিয়ে বাংলাদেশ নাড়িয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজকে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 June 2022, 04:38 PM
Updated : 25 June 2022, 04:38 PM

সেন্ট লুসিয়া টেস্টের দ্বিতীয় দিনে লাঞ্চ বিরতিতে ওয়েস্ট ইন্ডিজের রান ৪ উইকেটে ১৩৭। আগের দিন বাংলাদেশের প্রথম ইনিংস শেষ হয় ২৩৪ রানে।

ড্যারেন স্যামি ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বিনা উইকেটে ৬৭ রান নিয়ে শনিবার দিন শুরু করে ক্যারিবিয়ানরা। শতরানের উদ্বোধনী জুটির পর তারা ৩২ রানের মধ্যে হারিয়ে ফেলে ৪ উইকেট। সেশন থেকে তারা মোট যোগ করতে পারে ২৬ ওভারে ৭০ রান।

জমাট উদ্বোধনী জুটি ভেঙে বাংলাদেশকে প্রথম ব্রেক থ্রু এনে দেন শরিফুল ইসলাম। প্রথম ঘণ্টায় উইকেট মেলে ওই একটিই। পরে ধরা দেয় আরও তিনটি। বাংলাদেশকে পেলেই যার ব্যাট হয়ে ওঠে চওড়া, সেই ক্রেইগ ব্র্যাথওয়েটকে বোল্ড করে দেন মেহেদী হাসান মিরাজ। সৈয়দ খালেদ আহমেদ পরে এক ওভারেই ফেরান এনক্রুমা বনার ও রেমন রিফারকে। দুজনই হন ‘প্লেড অন।’

একটু অসমান বাউন্স ছাড়া উইকেটে ব্যাটসম্যানদের জন্য অস্বস্তির খুব বেশি কিছু ছিল না। সুইং মেলেনি খুব একটা। তবে বাংলাদেশের বোলাররা নিজেদের কাজটা করে ঠিকঠাক।

আগের দিন উইকেট শিকারের তাড়নায় অতি আগ্রাসী হতে গিয়ে এলোমেলো বোলিং করেছিল বাংলাদেশ। ওয়েস্ট ইন্ডিজ ফায়দা তুলে রান করেছিল ওভারপ্রতি চারের বেশি করে। নতুন দিনে সেই ভুল শুধরে নেয় বোলাররা। ইবাদত হোসেন ও শরিফুল ইসলাম শুরু করেন দারুণ।

তবে ব্র্যাথওয়েট ও ক্যাম্পবেলের দৃঢ়তায় দলের রান স্পর্শ করে শতক। তাতে কাটে লম্বা এক খরাও। প্রায় চার বছর ও ৬১ ইনিংস পর আবার শতরানের উদ্বোধনী জুটি পেল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

সবশেষ শতরানের জুটিও ছিল বাংলাদেশের বিপক্ষে, ২০১৮ সালে ব্র্যাথওয়েট ও ডেভন স্মিথের ১১৩। আরও পেছনে গেলে, ওয়েস্ট ইন্ডিজের সবশেষ চারটি শতরানের উদ্বোধনী জুটিই বাংলাদেশের বিপক্ষে! এই দুটির আগে আরও দুটি ছিল ২০১৪ সালের সিরিজে। অন্য কোনো দলের বিপক্ষে ক্যারিবিয়ানরা শুরুর জুটিতে শতরান সবশেষ পেয়েছে সেই ২০১২ সালে, নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে।

তবে জুটির সেঞ্চুরি হওয়ার পরই সাফল্যের দেখা পায় বাংলাদেশ। আচমকা বাউন্সারে শরিফুল চমকে দেন ক্যাম্পবেলকে। স্কিড করা ও বাড়তি লাফানো শর্ট বল পুল করার চেষ্টায় বাঁহাতি ব্যাটসম্যানের লাগে গ্লাভসে। সহজ ক্যাচ নেন কিপার নুরুল হাসান সোহান। আগের টেস্টে ফিফটি করা ওপেনার এবার ফেরেন ৪৫ রানে।

আরেক প্রান্তে ইবাদত উইকেট না পেলেও ৭ ওভারের টানা স্পেলে রান দেন কেবল ১৪।

সেটির সুফল পাওয়া যায় পরে। ব্র্যাথওয়েট যদিও ফিফটি করে ফেলেন আবার। টেস্টে যা তার ২৭তম পঞ্চাশ, সঙ্গে সেঞ্চুরি আছে ১০টি। বাংলাদেশের বিপক্ষে ১২ টেস্টে ৩ সেঞ্চুরির সঙ্গে ফিফটি হলো এবার ৫টি।

এরপর ব্র্যাথওয়েটকে আর বেশিদূর এগোতে দেননি মিরাজ। এ দিন নিজের প্রথম ওভার থেকেই দারুণ বোলিং করতে থাকা অফ স্পিনারের দুর্দান্ত ড্রিফটে লাইন পুরোপুরি ভুল করে বোল্ড হন ক্যারিবিয়ান অধিনায়ক।

তবে ব্র্যাথওয়েট যেভাবে লম্বা ইনিংস খেলেন, তাকে ৫১ রানে ফেরাতে পারাও যথেষ্ট স্বস্তির ব্যাপার।

এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার আগে পরের ওভারে খালেদের জোড়া ছোবল। শর্ট অব লেংথ বল স্টাম্পে টেনে আনেন তিনে নামা রিফার (২২)। ওভারের শেষ ডেলিভারিতে বাড়তি লাফানো শর্ট অব লেংথ বলে ঠিকমতো ডিফেন্স করতে পারেননি বনার। ব্যাটে লেগে বল আঘাত করে স্টাম্পে।

লাঞ্চের আগে বাকি তিন ওভারে আর কোনো উইকেট হারায়নি ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তবে তেতে থাকা বাংলাদেশের সামনে তাদের আরেকটি কঠিন পরীক্ষা অপেক্ষায় দ্বিতীয় সেশনে।

সংক্ষিপ্ত স্কোর (দ্বিতীয় দিন লাঞ্চ পর্যন্ত):

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ২৩৪

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১ম ইনিংস: (আগের দিন ৬৭/০) ৪২ ওভারে ১৩৭/৪ (ব্র্যাথওয়েট ৫১, ক্যাম্পবেল ৪৫, রিফার ২২, বনার ০, ব্ল্যাকউড ২*, মেয়ার্স ৪*; শরিফুল ১০-৪-৩৪-১, খালেদ ১২-১-৪১-২, সাকিব২-০-৯-০, ইবাদত ১১-৪-২২-০, মিরাজ ৭-২-২০-১)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক