‘ব্যাটিং শুরুতে কখনও ভালো হচ্ছে না, কখনও মাঝে’

অ্যান্টিগা টেস্টে দুই ইনিংসেই বাংলাদেশের ব্যাটিংয়ে ধস নেমেছিল শুরুতে। সেন্ট লুসিয়ায় এসে সেখানে উন্নতি। তবে এরপর আবার পথচ্যুত হওয়ার হতাশা। এবার ধস নামল মিডল অর্ডারে! দিনশেষে তামিম ইকবালের কণ্ঠে হতাশা সেটি নিয়েই। রান তিনশর আশেপাশে করতে না পারার আক্ষেপ অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যানের কণ্ঠে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 25 June 2022, 02:57 AM
Updated : 25 June 2022, 02:57 AM

৭ উইকেটে হেরে যাওয়া প্রথম টেস্টে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম দিন প্রথম সেশনে ৪৫ রানে ৬ উইকেট হারায় বাংলাদেশ। দ্বিতীয় ইনিংসে একটু ভালো করলেও ৬ উইকেট পড়ে ১০৯ রানের মধ্যে। সেন্ট লুসিয়াতেও আবার টস হেরে ব্যাটিংয়ে নামতে হয় আগে। উইকেটে ছিল ঘাসের ছোঁয়া। খেলার শুরুর পর দেখা যায়, বাউন্স একটু অসমান। তবু বাংলাদেশ শুরুটা এবার ভালোই করে।

তামিম ও মাহমুদুল হাসান জয় উদ্বোধনী জুটিতে ৪১ রান তোলেন ১২.২ ওভার খেলে। খুব বড় কোনো উদ্বোধনী জুটি এটা অবশ্যই নয়। তবে আগের কয়েক টেস্টের বাস্তবতায় বেশ ভালো শুরু!

জয়কে হারিয়ে শুরুর জুটি থামার পর প্রথম সেশনে আউট হন দারুণ খেলতে থাকা তামিমও। বাংলাদেশের রান এক পর্যায়ে দাঁড়ায় ২ উইকেটে ১০৫। কিন্তু এরপরই ৩৩ রানের মধ্যে পড়ে যায় ৪ উইকেট।

বড় স্কোরের সম্ভাবনা শেষ ওখানেই। এরপর লিটন দাসের ৫৩ রানের ইনিংস আর লোয়ার অর্ডারে ইবাদত হোসেন (২১*) ও শরিফুল ইসলামের (১৭ বলে ২৬) ব্যাটিংয়ে বাংলাদেশ করতে পারে ২৩৪ রান।

পরে বল হাতেও বাংলাদেশের শুরুটা ভালো হয়নি। ১৬ ওভারেই ওয়েস্ট ইন্ডিজ ৬৭ রান তুলে ফেলে কোনো উইকেট না হারিয়ে।

দিনের খেলা শেষে সংবাদ সম্মেলনে তামিম ইকবালের আক্ষেপ ব্যাটিং-ব্যাটিং দুটি নিয়েই।

“উইকেটে বল ওঠা-নামা করেছে। তবে আমাদের আরেকটু ভালো ব্যাট করা উচিত ছিল। তিনশর কাছাকাছি বা ৩২০ করতে পারলে আরও ভালো হতো। আর বোলিংয়েও যদি আমরা ২৫-৩০ রান কম দিতাম, তাহলে ভালো হতো। কারণ ওরা যে ধরনের ব্যাটিং করে সাধারণত, এত দ্রুত রান করে না, ক্যাম্পবেল ছাড়া। আমরা ২০-২৫ রান বেশি দিয়েছি।”

আগের টেস্টে বাংলাদেশের বেশির ভাগ ব্যাটসম্যান আউট হয়েছেন উইকেটের পেছনে কিপার বা স্লিপে ক্যাচ দিয়ে। এবার প্রথম ৬ জনের দুটি বোল্ড, দুটি এলবিডব্লিউ। তামিমের মতে, উইকেটে ধরন বুঝে প্রতিপক্ষ বল করায় এরকম হয়েছে। তার কণ্ঠে হতাশা দল হিসেবে ভালো ব্যাটিং করতে না পারায়।

“উইকেটে যখন সহায়তা খুব বেশি থাকে না, তখনই প্রতিপক্ষ স্টাম্প সোজা বল করা শুরু করে। উইকেটে বল ওঠা-নামা করলে স্টাম্প সোজা বল করে। আমাদের প্ল্যাটফর্ম প্রস্তুত হয়ে গিয়েছিল। ওই জায়গায় যদি আমরা জুটিতে আরও ৫০-৬০ রান বেশি করতে পারতাম, তাহলে হয়তো খুব ভালো অবস্থায় থাকতাম। হয়তো আজকে সারাদিন আমরাই ব্যাটিং করতাম।”

“দুর্ভাগ্যজনক যে ওই (ভালো) অবস্থা থেকে আবার এই অবস্থায় চলে এসেছি। হয় প্রথমে হচ্ছে না, নইলে মাঝখানে হচ্ছে না। এটাই সমস্যা। আমি এমন কেউ নই যে এসে বলব ‘অমুক-তমুকের কারণে হচ্ছে না। ব্যাটিং ইউনিট হিসেবে আমরা ভালো করছি না।”

তামিম এখন তাকিয়ে দ্বিতীয় দিনের প্রথম সেশনের দিকে। তার মতে, বোলারদের আঁটসাঁট বোলিং করতে হবে।

“কালকের সকালের সেশন বেশি গুরুত্বপূর্ণ হবে এই কারণে যে খুব বেশি সুইং এখানে নাই। গত টেস্টে যেরকম ছিল, এখানে নেই। উইকেট তাই খুব গুরুত্বপূর্ণ হবে। আমার কাছে মনে হয় যে, আমাদের ধৈর্যের খেলা খেলতে হবে। রান যত কম দিয়ে, রান আটকে যত দ্রুত উইকেট নেওয়া যায়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক