তামিম-এনামুলের জোড়া সেঞ্চুরি আর ২৩৪ রানের বিধ্বংসী জুটি

ফজলে মাহমুদকে টানা দুটি ছক্কায় উড়িয়ে ২৭তম ওভারেই দলকে জয়ের বন্দরে পৌঁছে দিলেন এনামুল হক। ম্যাচ জুড়ে প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাবের দাপটের প্রতিচ্ছবিও ফুটে ওঠে এতে। করিম জানাত ও রুবেল হোসেন দুর্দান্ত বোলিংয়ে প্রতিপক্ষকে অল্পতে গুটিয়ে দেওয়ার পর রান তাড়ায় ছড়ি ঘোরান এনামুল ও তামিম ইকবাল। দুই ওপেনারের অপরাজিত সেঞ্চুরিতে রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাবকে স্রেফ উড়িয়ে দেয় দলটি।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 26 April 2022, 11:53 AM
Updated : 26 April 2022, 12:10 AM

ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচে মঙ্গলবার ১০ উইকেটের জয় তুলে নেয় প্রাইম ব্যাংক। বিকেএসপির চার নম্বর মাঠে রূপগঞ্জ টাইগার্সের ২২৯ রান ১৪০ বল আগেই পেরিয়ে যায় তারা। সুপার লিগে দলটির এটি চার ম্যাচে তৃতীয় জয়।

রূপগঞ্জ টাইগার্সকে আড়াইশর আগে আটকে দেওয়ার কৃতিত্ব রুবেল ও আফগানিস্তানের করিম জানাতের। দুই পেসারই নেন চারটি করে উইকেট।

রান তাড়ায় আসরে তৃতীয় সেঞ্চুরিতে ১১২ রান করেন এনামুল। ৮৪ বলে ৬ ছক্কা ও ১১ চারের ইনিংসের সুবাদে ম্যাচ সেরার পুরস্কার জেতেন তিনি।

এই ইনিংসের পথে অনন্য এক কীর্তি গড়েন এনামুল। লিস্ট ‘এ’ মর্যাদা পাওয়ার পর ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের এক আসরে প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে স্পর্শ করেন এক মৌসুমে হাজার রানের মাইলফলক। চলতি আসরে ৩ সেঞ্চুরি ও ৮ ফিফটিতে তার রান এখন ১০৪২।

গত ম্যাচে ৯০ রানে আউট হওয়া তামিম এবার খেলেন ১০৯ রানের ইনিংস। তার ৮১ বলের ইনিংসটি সাজানো ৭ ছক্কা ও ৯ চারে।

এই ইনিংসের সুবাদে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে বাংলাদেশের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে ১০ হাজার রানের ক্লাবে নাম লেখান বাংলাদেশের ওয়ানডে অধিনায়ক।

টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে শুরুটা খারাপ ছিল না রূপগঞ্জ টাইগার্সের। ইমরানুজ্জামান ও জাকির হাসানের শুরুর জুটিতে ৪৭ রান পায় দল। বাঁহাতি স্পিনার রকিবুল হাসানকে সুইপ করে জাকির (২৫) এলবিডব্লিউ হলে ভাঙে জুটি।

পরের ওভারে নাসির হোসেনকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে ফেরেন ইমরানুজ্জামান (২৩)। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান ফজলে মাহমুদকে দ্রুত বিদায় করে দেন করিম জানাত।

দ্রুত ৩ উইকেট হারানো দলের হাল ধরেন মার্শাল আইয়ুব ও সাদ নাসিম। দুইজনে গড়েন ১১০ রানের জুটি। ৭৩ বলে ফিফটি করা মার্শালের বিদায়ে ভাঙে তাদের প্রতিরোধ। রুবেলের অফ স্টাম্পের বাইরের নিচু হয়ে যাওয়া বল স্টাম্পে টেনে আনেন এক ছক্কা ও ৫ চারে ৫৮ করা মার্শাল।

এরপর ব্যাটসম্যানরা ছিলেন আসা-যাওয়ার মাঝে। ২৩ রানে শেষ ৫ উইকেট হারায় রূপগঞ্জ টাইগার্স। শেষ ৬ ব্যাটসম্যানের একজনও যেতে পারেননি দুই অঙ্কে।

সতীর্থদের সাজঘরে ফেরার মিছিলের মাঝে এক প্রান্ত আগলে রাখেন পাকিস্তানের নাসিম। ইনিংসের শেষ ওভারে রুবেলের বলে তিনি ক্যাচ তুলে দেন ২ ছক্কা ও ৬ চারে ৮৫ রান করে।

জবাব দিতে নেমে প্রথম দুই বলেই নাসুম আহমেদকে চার মেরে দেন এনামুল। আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তিনি। ফিফটি স্পর্শ করেন ৩৮ বলে।

তামিম অবশ্য শুরুতে ছিলেন কিছুটা সাবধানী। তার পঞ্চাশ আসে ৫৭ বলে। এরপর এনামুল নিজেকে কিছুটা গুটিয়ে নেন, রানের গতি বাড়ান তামিম। নাসিমকে টানা দুই ছক্কা, পরানকে ওভারে একটি করে চার-ছক্কা হাঁকান বাঁহাতি এই ব্যাটসম্যান।

বাঁহাতি স্পিনার নাসুমকে ওভারে দুই ছক্কায় উড়িয়ে এনামুলের আগে নব্বইয়ের ঘরে পৌঁছে যান তামিম। তিনি নাসুমের পরের ওভারে ছক্কায় ৭৭ বলে পা রাখেন লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে ২০তম সেঞ্চুরিতে। এই সংস্করণে তার চেয়ে বেশি সেঞ্চুরি নেই আর কারো।

৮২ বলে লিস্ট ‘এ’ ক্যারিয়ারের পঞ্চদশ শতক ছোঁয়ার পরের দুই বলে ছক্কায় ম্যাচ জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন এনামুল।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব: ৪৯.৪ ওভারে ২২৯ (ইমরানুজ্জামান ২৩, জাকির ২৫, ফজলে মাহমুদ ১০, মার্শাল ৫৮, নাসিম ৮৫, আরিফুল ৮, পরান ০, নাসুম ৬, শরিফউল্লাহ ৪, মহিউদ্দিন ১, নাহিদ ০*; করিম জানাত ৮-০-৪০-৪, রুবেল ৮.৪-১-৪৫-৪, রকিবুল ১০-০-৩৫-১, নাসির ১০-০-২৭-১, তাইজুল ১০-০-৫৯-০, মুমিনুল ৩-০-২০-০)

রূপগঞ্জ টাইগার্স ক্রিকেট ক্লাব: ২৬.৪ ওভারে ২৩৪/০ (এনামুল ১১২*, তামিম ১০৯*; নাসুম ৭-১-৪৮-০, শরিফউল্লাহ ৬-০-৫০-০, মহিউদ্দিন ৪-০-৩৬-০, নাহিদ ৪-০-২৩-০, পরান ৪-০-৪৮-০, নাসিম ১-০-১৪-০, ফজলে মাহমুদ ০.৪-০-১৪-০)

ফল: প্রাইম ব্যাংক ক্রিকেট ক্লাব ১০ উইকেট জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: এনামুল হক

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক