সিরিজ সেরা হয়ে খুশি ও গর্বিত তাসকিন

বছর দুয়েক ধরে তাসকিন আহমেদের বোলিংয়ে দেখা মিলছিল উন্নতির ছাপ। দলে অবদানও রাখছিলেন নিয়মিত। কিন্তু দুর্দান্ত কোনো পারফরম্যান্সে জয়ের মূল নায়ক হতে পারছিলেন না। অবশেষে সব প্রাপ্তি যেন ধরা দিল একসঙ্গে। বাংলাদেশকে স্মরণীয় এক জয় এনে দিয়ে ম্যাচ সেরার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথমবার পেলেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। এমন অর্জনে খুবই গর্বিত এই পেসার।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 March 2022, 06:10 PM
Updated : 23 March 2022, 06:12 PM

সেঞ্চুরিয়নে বুধবার তৃতীয় ওয়ানডেতে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ৯ উইকেটে হারিয়ে দেশটিতে প্রথমবার সিরিজ জয়ের স্বাদ পেয়েছে বাংলাদেশ। অসাধারণ বোলিংয়ে স্বাগতিকদের ১৫৪ রানে আটকে দিয়ে জয়ের অর্ধেক কাজ করে দেন মূলত তাসকিন।

বাংলাদেশের প্রথম বোলার হিসেবে দক্ষিণ আফ্রিকায় ওয়ানডেতে ৫ উইকেট নেন তিনি ৩৫ রান দিয়ে। ২০১২ সালে শ্রীলঙ্কার লাসিথ মালিঙ্গার পর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রথম কোনো সফরকারী পেসারের এমন কীর্তি এটি।

২০১৪ সালে মিরপুরে ওয়ানডে অভিষেকেই পাঁচ উইকেট নিয়েছিলেন তাসকিন। ভারতকে ১০৫ রানে আটকে রাখার পরও ম্যাচটি বাংলাদেশ হেরেছিল ৫৮ রানে অলআউট হয়ে।

আট বছরের খরা কাটিয়ে আবার পাঁচ উইকেটের স্বাদ পেলেন ডানহাতি এই পেসার। এবার আর হতাশা নয়, দল পেল স্মরণীয় এক জয়। ম্যাচ শেষে পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তাসকিন বললেন, দল ও নিজের অর্জন মিলে খুব খুশি তিনি।

“খুবই খুশি ও গর্ব অনুভব করছি। প্রথমবার আমরা দক্ষিণ আফ্রিকায় সিরিজ জিতেছি। আমার জন্যও দারুণ অর্জন, আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে প্রথমবার ম্যান অব দা সিরিজ হলাম। খুবই খুশি ও গর্বিত।”

“সত্যি বলতে, গত দেড়-দুই বছরে আমি একই প্রক্রিয়া অনুসরণ করছি। আজকেও সেই প্রক্রিয়া ও মানসিকতায় মাঠে নেমেছি। আজকে পরিকল্পনার বাস্তবায়ন ভালোভাবে করতে পেরেছি এবং সাফল্য পেয়েছি।”

সিরিজে তাসকিনের প্রাপ্তি ৮ উইকেট। প্রথম ম্যাচেও ৩৬ রানে ৩ উইকেট নিয়ে দলের জয়ে রেখেছিলেন অবদান। শেষ ম্যাচে তো আরও উজ্জ্বল তিনি।

গতি আর দারুণ লাইন-লেংথে বোলিং করে ৫ ওভারের প্রথম স্পেলে ১৭ রান দিয়ে তুলে নেন কাইল ভেরেইনা ও ইয়ানেমান মালানের উইকেট। দ্বিতীয় স্পেলে ফিরে ডোয়াইন প্রিটোরিয়াসকে ফিরিয়ে ধরেন তৃতীয় শিকার। এরপর একই ওভারে ডেভিড মিলার ও কাগিসো রাবাদাকে আউট করে পূর্ণ উইকেট পাঁচ উইকেট।

বললেন, প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই মিলেছে তার এই সাফল্য। পেয়েছেন বোলিং নিয়ে কাজ করার পুরস্কার।

“প্রতি ম্যাচেই আমার অধিনায়ক আমাকে সাপোর্ট করেন এবং আমাকে পরিষ্কার ভূমিকাও দেওয়া হয়েছে যে গতিময় বোলিং করতে, আগ্রাসী থেকে উইকেট এনে দিতে। আমি তা অনুসরণ করেছি।”

“এই সিরিজ খেলতে দক্ষিণ আফ্রিকায় আসার পর থেকে নিজের লেংথ নিয়ে কাজ করছিলাম আমি। প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই সাফল্য পেয়েছি।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক