প্যাসেঞ্জার থেকে ড্রাইভিং সিটে সাকিব

বিমানবন্দরে দেওয়া কথা রাখতে পেরেছেন সাকিব আল হাসান। ইতিহাস গড়া জয়ে তিনিই রেখেছেন সবচেয়ে বড় অবদান। দক্ষিণ আফ্রিকায় স্বাগতিকদের বিপক্ষে বাংলাদেশের প্রথম জয়ের নায়কও বাঁহাতি এই অলরাউন্ডার।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 19 March 2022, 08:48 AM
Updated : 19 March 2022, 08:48 AM

সেঞ্চুরিয়নে শুক্রবার প্রথম ওয়ানডেতে ৩৮ রানের জয়ে বড় সংগ্রহ গড়ায় সবচেয়ে বড় ভূমিকা সাকিবের। ৬৪ বলে তিন ছক্কা ও সাত চারে ৭৭ রানের দারুণ ইনিংসে জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে এর আগের ওয়ানডেতেও তিনি ছিলেন ম্যাচ সেরা। ২০১৯ বিশ্বকাপের সেই ম্যাচে ৭৫ রানের ইনিংস খেলার পর ১ উইকেট নিয়েছিলেন ৫০ রানে।

ওয়ানডেতে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি ম্যাচ সেরার পুরস্কার জয়ের রেকর্ড আগে থেকেই সাকিবের। তামিমের (১৬) সঙ্গে ব্যবধান বাড়িয়ে জিতলেন ২৪তম বার। সেরার পুরস্কার জেতা তার জন্য নিয়মিত হলেও এবারেরটা বিশেষ; সেটা মাঠের ক্রিকেটের জন্য নয়, মাঠের বাইরের সাম্প্রতিক ঘটনা প্রবাহে।

আফগানিস্তান সিরিজের পর দুবাই যাওয়ার আগে সাকিব বলেছিলেন, ক্রিকেট উপভোগ করছেন না। নিজেকে ‘প্যাসেঞ্জার’ মনে হচ্ছে তার। এই পরিস্থিতিতে খেলা হবে দেশ ও দলের সঙ্গে গাদ্দারি। ছুটি চান দক্ষিণ আফ্রিকা সফর থেকে।

প্রবল আলোচনা-সমালোচনার পর তাকে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বিশ্রাম দেয় বিসিবি। কিন্তু দুবাই থেকে দেশে ফিরে বিসিবি প্রধানের সঙ্গে তিন দফা আলোচনার পর সিদ্ধান্তে পরিবর্তন আনেন সাকিব। বিসিবিও ছুটি বাতিল করে খেলার অনুমতি দেয়।

দক্ষিণ আফ্রিকায় যাওয়ার আগে বিমান বন্দরে তিনি বলেন, প্যাসেঞ্জার থেকে বসতে চান ড্রাইভিং সিটে। সেটা করতে একেবারেই সময় নিলেন না তিনি।

ক্রিজে যাওয়ার পর দ্বিতীয় বলেই স্ট্রেইট ড্রাইভে চার দিয়ে শুরু করেন সাকিব। এরপর এগিয়ে যেতে থাকেন নিজের মতো করে। ৫০ বলে পঞ্চাশ ছোঁয়ার পর বাড়ান রানের গতি।

এমনিতে সাকিবের ইনিংসে অনেক কাট শট থাকে। তবে এই ইনিংসে তিনি যত সম্ভব সোজা ব‍্যাটে খেলার চেষ্টা করেছেন। খুব একটা ঝুঁকি না নিয়েও বাড়িয়েছেন রানের গতি।

প্রথম ৩০ ওভারে বাংলাদেশের রান ছিল কেবল ১৩৫। শেষ ২০ ওভারে আসে ১৭৯ রান। এতে বড় অবদান সাকিবের। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, বড় রান করতে হলে পুরনো বলটা কাজে লাগানোর বিকল্প ছিল না তাদের।

“প্রথম ১০ ওভারে যেমন করছিল, শাইনিং চলে যাওয়ার পর বল তেমন কিছু করছিল না। আমাদের হিসেবি ঝুঁকি নিতে হতো। আজ সেটা কাজে এসেছে।”   

“বোলারদের উপর চড়াও হতেই হতো, নয়তো আমাদের রান হতে পারতো কেবল ২৬০-২৭০। আমরা জানতাম, শেষ দিকে কাগিসো রাবাদা বোলিং করবে, তাই আমরা তাকে আগে আনতে বাধ্য করেছিলাম।”

সাকিবের সঙ্গে ৮২ বলে ১১৫ রানের বিস্ফোরক জুটি উপহার দেওয়া ইয়াসির আলি চৌধুরি জানান, শুরুতে তাকে দারুণ সহায়তা করেছিলেন সাকিব। অভয় দিয়েছিলেন উইকেট সম্পর্কে।

“যখন উইকেটে গেলাম, সাকিব ভাইকে জিজ্ঞেস করলাম, ভাই কী অবস্থা উইকেটের? সাকিব ভাই বললেন, ‘খুব ভালো উইকেট। ৫-৬টা বল দেখো, যদি ৫-১০টা বল খেলতে পারো তুমি নিজেই বুঝে যাবা কত ভালো উইকেট। এরপর তুমি নিজেই মারতে পারবা।’ এই তো।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক