ভেরেইনার সেঞ্চুরি আর রাবাদার ব্যাট-বলের তোপে বিপাকে নিউ জিল্যান্ড

৬ টেস্ট, ৮ ইনিংস। একবারও রান ছাড়ায়নি ৩০। জায়গা ধরে রাখার উত্তাপটা নিশ্চয়ই টের পাচ্ছিলেন কাইল ভেরেইনা। অবশেষে তিনি দেখাতে পারলেন তার ভেতরের আগুন। তাতে পুড়ল নিউ জিল্যান্ডের বোলিং। পরে ব্যাটিংয়েও কিউইদের শুরুটা হলো বাজে। ব্যাটে-বলে দাপুটে পারফরম্যান্সের দিনে সিরিজে সমতা ফেরানোর জয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে ফেলল দক্ষিণ আফ্রিকা।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 28 Feb 2022, 07:16 AM
Updated : 28 Feb 2022, 07:16 AM

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কখনোই টেস্ট সিরিজ জয়ের স্বাদ পায়নি নিউ জিল্যান্ড। সেই অপূর্ণতা ঘোচাতে তাদের সামনে এখন পাহাড়সম চ্যালেঞ্জ। জয়ের জন্য শেষ দিনে তাদের করতে হবে ৩৩২ রান কিংবা ড্র করতে কাটিয়ে দিতে হবে দিন। কিন্তু উইকেট আছে স্রেফ ৬টি।

ক্রাইস্টচার্চ টেস্টের চতুর্থ দিনে সোমবার ৯ উইকেটে ৩৫৪ রান তুলে দ্বিতীয় ইনিংস ঘোষণা করে দক্ষিণ আফ্রিকা। প্রথম ইনিংসের ৭১ রানের লিড মিলিয়ে তারা এগিয়ে যায় ৪২৫ রানে। নিউ জিল্যান্ড দিন শেষ করে ৪ উইকেটে ৯৪ রানে।

দিনের শুরুতে ম্যাচের ভাগ্য ছিল দোদুল্যমান। ভেরেইনার দুর্দান্ত সেঞ্চুরিতে তা হেলে পড়ে দক্ষিণ আফ্রিকার দিকে। কুইন্টন ডি কক টেস্ট থেকে অবসর নেওয়ার পর কিপার-ব্যাটসম্যান হিসেবে তার ওপরই আস্থা রাখছিল দল। ১৩৬ রানের অপরাজিত ইনিংসে ২৪ বছর বয়সী ক্রিকেটার জানিয়ে দিলেন, তিনি তৈরি।

ভেরেইনা যদি নায়ক হন, কাগিসো রাবাদা তাহলে দিনের পার্শ্বনায়ক। ব্যাট হাতে ঝড়ো ইনিংস খেলার পর বল হাতে তিনি ফেরান নিউ জিল্যান্ডের দুই ওপেনারকে।

কাগিসো রাবাদা দেখান তার ব্যাটিং সামর্থ্যের ঝলক। ছবি: ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা।

দক্ষিণ আফ্রিকা দিন শুরু ৫ উইকেটে ১৪০ রান নিয়ে। উইকেট এ দিন ছিল ব্যাটিং সহায়ক। ৫৩ ওভার পুরনো বলে খুব একটা সুইং-সিম মুভমেন্ট আদায় করতে পারেননি কিউই পেসাররা। ভেরেইনা ও ভিয়ান মুল্ডারের জুটি অনায়াসেই পেরিয়ে যায় পঞ্চাশ।

৭৮ রানের জুটি থামে মুল্ডারের (৩৫) বিদায়ে। কাইল জেমিসনের বলে উইকেটের পেছনে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন টম ব্লান্ডেল।

আরেকটি অসাধারণ ক্যাচের তখনও বাকি। কলিন ডি গ্র্যান্ডহোমের বল উড়িয়ে মারেন মার্কো ইয়ানসেন। ডিপ মিড উইকেটে ফিল্ডার উইল ইয়াং অনেকটা দৌড়ে গেলেও বল তার সামনে দিয়ে যাচ্ছিল সীমানার দিকে। শেষ মুহূর্তে তিনি বাড়িয়ে দেন বাঁহাত, বল আটকে যায় একহাতের মুঠোয়!

দারুণ দুটি ক্যাচের পর কিউইদের ম্যাচে ফেরার আশা শেষ হয়ে যায় পরের জুটিতেই। ভেরেইনা নিজের প্রতিভার ছাপ রাখা সব শট খেলে এগিয়ে যান। রাবাদা নেমেই ঝড়ো ব্যাটিং শুরু করেন। দ্বিতীয় নতুন বল পাওয়া সাউদির এক ওভারে মারেন চার-ছক্কা, পরের ওভারে দুটি ছক্কা! রান বাড়তে থাকে দ্রুত।

৫২ টেস্টের ক্যারিয়ারে প্রথম ফিফটির কাছাকাছি গিয়ে থামে রাবাদার ইনিংস। ম্যাট হেনরির শিকার হন তিনি চারটি করে চার ও ছক্কায় ৩৪ বলে ৪৭ রান করে।

হেনরির পরের ওভারেই বাউন্ডারিতে ভেরেইনা স্বাদ পান প্রথম সেঞ্চুরি। ১৫৮ বলে সেঞ্চুরি ছোঁয়ার পর রানের গতি বাড়ান আরও। জেমিসনকে এক ওভারে তিনবার পাঠান বাউন্ডারিতে। চোখধাঁধানো শটে দীর্ঘদেহী এই পেসারের বলেই ছক্কা মারেন পয়েন্টের ওপর দিয়ে!

দক্ষিণ আফ্রিকান অধিনায়ক ডিন এলগার যখন ইনিংস ঘোষণা করলেন, ১৬ চার ও ১ ছক্কায় ভেরেইনা অপরাজিত তখন ১৮৭ বলে ১৩৬ রানে।

বড় রান তাড়ার চাপ মাথায় নিয়ে ব্যাটিংয়ে নেমে নিউ জিল্যান্ড প্রথম ওভারেই খায় ধাক্কা। রাবাদা ফিরিয়ে দেন উইল ইয়াংকে। নিজের ওপরের ওভারে তিনি এনে দেন আরও বড় উইকেট। নিউ জিল্যান্ড অধিনায়ক টম ল্যাথাম ধরা পড়েন ফরেয়ার্ড শর্ট লেগে।

দারুণ দুটি ডেলিভারিতে দুটি উইকেট নেন কেশভ মহারাজ। ছবি: ক্রিকেট দক্ষিণ আফ্রিকা।

শেষ সেশনে একটু ক্ষয়ে আসা উইকেটে কার্যকর হয়ে ওঠেন কেশভ মহারাজ। বাঁহাতি স্পিনারের দারুণ টার্নে যখন বোল্ড হলেন হেনরি নিকোলস, ২৫ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে তখন নড়বড়ে নিউ জিল্যান্ড।

ডেভন কনওয়ে ও ড্যারিল মিচেল চতুর্থ উইকেটে কিছুটা প্রতিরোধ গড়েন। তবে এই জুটি দিনটা শেষ করতে পারেনি। মহারাজকে টানা দুটি ছক্কার পর তার দুর্দান্ত ডেলিভারিতেই মিচেল বোল্ড ২৪ রানে।

নিউ জিল্যান্ডের জন্য কিছুটা স্বস্তি হয়ে ৬০ রানে দিন শেষ করেন কনওয়ে। তবে শেষ দিনে কনওয়ে ও নিউ জিল্যান্ডের অপেক্ষায় আরও কঠিন চ্যালেঞ্জ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

দক্ষিণ আফ্রিকা ১ম ইনিংস:  ৩৬৪

নিউ জিল্যান্ড ১ম ইনিংস: ২৯৩

দক্ষিণ আফ্রিকা ২য় ইনিংস: ১০০ ওভারে ৩৫৪/৯ (ডি.) (আগের দিন ১৪০/৫) (ভেরেইনা ১৩৬*, মুল্ডার ৩৫, ইয়ানসেন ৯, রাবাদা ৪৭, মহারাজ ৪, সিপামলা ১০*; সাউদি ২৬-৫-৯০-২, হেনরি ২৪-৫-৮১-২, জেমিসন ২১-২-৮১-২, ওয়্যাগনার ২৩-৩-৮১-২, ডি গ্র্যান্ডহোম ৬-২-১৬-১)।

নিউ জিল্যান্ড ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ৪২৬) ৪২ ওভারে ৯৪/৪ (ল্যাথাম ১, ইয়াং ০, কনওয়ে ৬০*, নিকোলস ৭, মিচেল ২৪, ব্লান্ডেল ১*; রাবাদা ৮-২-১৭-২, ইয়ানসেন ৮-১-৩০-০, মহারাজ ১৬-৭-৩২-২, সিপামলা ১০-৪-১৮-০)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক