ইয়াসির এবার ওয়ানডের ভুবনে

বছরখানেক আগে এই চট্টগ্রামে হতাশার এক অভিজ্ঞতা হয়েছিল ইয়াসির আলি চৌধুরির। বাংলাদেশ ইমার্জিং দলের হয়ে প্রথম চার ম্যাচ ভালো করতে পারেননি খুব একটা। আয়ার‌ল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে একদিনের ম্যাচের সিরিজের শেষ ম্যাচটিতে একাদশে জায়গাও হারান তিনি। বছর না ঘুরতেই ঘুরে গেল তার ভাগ্যের চাকা। সেদিন ইমার্জিং দলে জায়গা হারানো ক্রিকেটারের এবার ওয়ানডে অভিষেক হয়ে গেল জাতীয় দলে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকচট্টগ্রাম থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 23 Feb 2022, 06:07 AM
Updated : 23 Feb 2022, 06:08 AM

চট্টগ্রামের সন্তান নিজ শহরেই পেলেন ওয়ানডে ক্যাপ। আফগানিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ওয়ানডে দিয়ে ৫০ ওভারের আন্তর্জাতিক দুনিয়ায় পা রাখলেন ইয়াসির। বাংলাদেশের ১৩৭তম ওয়ানডে ক্রিকেটার তিনি।

গত মার্চে আইরিশদের বিপক্ষে ওই সিরিজের প্রথম চার ম্যাচে ইয়াসিরের রান ছিল ৪, ৩১, ১৩ ও ২। ওই সিরিজের পর এই সংস্করণে আর কোনো ম্যাচ তিনি খেলেননি। ওই সিরিজের আগে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগের একটি ম্যাচ খেলে ভালো করেননি। দারুণ কিছু করতে পারেননি ঢাকা লিগের আগে এসিসি ইমার্জিং টিমস এশিয়া কাপেও। তার পরও ওয়ানডেতে সুযোগটা পেয়ে গেলেন তিনি মূলত অন্যান্য সংস্করণের পারফরম্যান্সে।

গত নভেম্বরে পাকিস্তানের বিপক্ষে টেস্ট দিয়ে তার আন্তর্জাতিক অভিষেক। প্রথম টেস্টের দ্বিতীয় ইনিংসে খেলেন লড়িয়ে ইনিংস। এরপর নিউ জিল্যান্ডে গিয়ে দুই টেস্টেই ছাপ রাখেন নিজের সামর্থ্যের। মাউন্ট মঙ্গানুই টেস্টে খুব বড় ইনিংস খেলতে না পারলেও উইকেট আগলে রাখেন আড়াই ঘণ্টা। ক্রাইস্টচার্চে সবুজ উইকেটে দেখা পান নিজের প্রথম টেস্ট ফিফটির।

এরপর দেশে ফিরে বিপিএলেও মেলে ধরেন নিজের ব্যাটিংয়ের বিজ্ঞাপন। সেই পথ ধরেই ঠাঁই মেলে ওয়ানডে স্কোয়াডে। এখন অভিষেকও হয়ে গেল।

এই মুহূর্তটির আগে আক্ষেপ ও হতাশার অনেক প্রহর তাকে পার করতে হয়েছে। জাতীয় দলে স্কোয়াডে প্রথম জায়গা পান তিনি ওয়ানডে দিয়েই। ২০১৯ বিশ্বকাপের আগে আয়াল্যান্ডে ত্রিদেশীয় সিরিজের দলে রাখা হয় তাকে। কিন্তু বাংলাদেশের প্রথম ট্রফি জয়ের সেই টুর্নামেন্টে খেলার সুযোগ পাননি।

এরপর জাতীয় দলের আশেপাশেই ছিলেন তিনি। কখনও কখনও জায়গা পান বিভিন্ন সংস্করণের স্কোয়াডে। কিন্তু মাঠে নামার অপেক্ষা শেষই হচ্ছিল না। অবশেষে শেষ হলো তার অপেক্ষার পালা।

এমনিতে লিস্ট এ’ ক্রিকেটে তার রেকর্ড খুব সমৃদ্ধ নয়। ৭১ ইনিংস খেলে রান করেছেন ১ হাজার ৮৭৮। ১৭ ইনিংসে অপরাজিত থাকার পরও ব্যাটিং গড় নয় দারুণ কিছু (৩৪.৭৭)। তবে এই সংস্করণ রাঙানোর সামর্থ্য যে তার আছে, এটা প্রমাণ করেছেন নানা সময়ে।

সিরিজ শুরুর আগের দিনই অধিনায়ক তামিম ইকবাল ইঙ্গিত দেন, ৫ নম্বর পজিশনে ইয়াসিরকে খেলানোর। সাকিব আল হাসান তিনে উঠে আসার পর বাংলাদেশের ব্যাটিং অর্ডারে পাঁচে থিতু হতে পারেননি কেউ। টিম ম্যানেজমেন্টের নতুন আশার নাম এখানে ইয়াসির। এই পজিশনের দাবি মেটানোর মতো রসদ তার ব্যাটিংয়ে আছে। উইকেট আগলে রাখার মতো আঁটসাঁট টেকনিক তার আছে, এক-দুই নিয়ে রান বাড়াতে পারেন। আবার প্রয়োজনে ঝড় তোলা ও আগ্রাসী ব্যাটিংও করতে পারেন।

লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে তার দুটি সেঞ্চুরি। ২০১৭ সালে চট্টগ্রামে বাংলাদেশ ‘এ’ দলের হয়ে। কক্সবাজারে আয়ারল্যান্ড ‘এ’ দলের বিপক্ষে সেদিন ৮ চার ও ৫ ছক্কায় খেলেন ১০১ বলে ১০২ রানের ম্যাচ জেতানো অপরাজিত ইনিংস। দ্বিতীয় সেঞ্চুরিটি ঢাকা প্রিমিয়ার লিগে, ২০১৯ সালের মার্চে। আবাহনী লিমিটেডের বিপক্ষে ব্রাদার্স ইউনিয়ন হেরে গেলেও বিপর্যয়ে নেমে ১১২ বল খেলে অপরাজিত থাকেন ১০৬ রান করে।

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে চ্যালেঞ্জটা অবশ্যই অনেক কঠিন। তবে তিনি এসেছেন অনেকটা তৈরি হয়েই। তাকে ঘিরে তাই আশাও বেশি। এত প্রতীক্ষার পর পাওয়া সুযোগটা তিনি নিজেও নিশ্চয়ই হারাতে চাইবেন না হেলায়!

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক