মাহমুদুলকে সামলাতে হবে ‘চাপ ও অর্থের ঝনঝনানি’

পারফরম্যান্সের সঙ্গে আসে খ্যাতি। বাংলাদেশের মতো ক্রিকেট পাগল দেশে সেই খ্যাতি স্পর্শ করে আকাশ। খ্যাতি যখন বাড়তে থাকে, জোয়ার বইতে থাকে তখন অর্থকড়ির। সেই স্রোতে ক্রিকেটই হারিয়ে যায় অনেক সময়! মাহমুদুল হাসান জয়ের সামনেও এখন এসব চ্যালেঞ্জ দেখছেন মোহাম্মদ সালাউদ্দিন। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের কোচের মতে, চারপাশের চাপ ও অর্থের হাতছানিতে নিজেকে ধরে রাখতে পারলেই তরুণ এই ব্যাটসম্যানের অপেক্ষায় উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 17 Feb 2022, 02:19 PM
Updated : 17 Feb 2022, 03:40 PM

দেশের ক্রিকেট আঙিনায় মাহমুদুলকে নিয়ে আশার পরিধি বাড়ছে ক্রমশ। ২০২০ সালে অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপজয়ী দলের সদস্যকে মনে করা হচ্ছে দেশের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ। গত মাসে নিউ জিল্যান্ড সফরে টেস্ট ম্যাচে অসাধারণ এক ইনিংস খেলে আরও বেশি নজর কেড়েছেন তিনি। কদিন আগে ডাক পেয়েছেন বাংলাদেশ ওয়ানডে দলেও।

নিউ জিল্যান্ডে টেস্ট খেলে দেশে ফেরার পর মাহমুদুল নিজের সামর্থ্যের ছাপ রেখেছেন পুরো উল্টো ঘরানার ক্রিকেট বিপিএলে। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়ান্সের হয়ে খেলেছেন দারুণ কয়েকটি ইনিংস। মাঠের ভেতরে-বাইরে তাকে কাছ থেকে দেখেছেন কোচ সালাউদ্দিন। অনুশীলনে মাহমুদুলের স্টান্স, ব্যাক লিফট, শরীরের পজিশন ঠিক করে দেওয়াসহ অনেক কাজ করতে দেখা গেছে কোচকে।

সব মিলিয়ে মাহমুদুলের সম্পর্কে ভালো একটি ধারণা হয়ে গেছে সালাউদ্দিনের। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের বাস্তবতা জানেন বলেই তিনি সতর্ক। বিপিএল ফাইনালের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে কুমিল্লা কোচ বললেন, মাহমুদুলের আসল চ্যালেঞ্জ আসবে আরও কিছুদিন পর।

“সে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার। বাংলাদেশ দলে টেস্ট খেলেছে, ওয়ানডেতেও সুযোগ পেয়েছে। তবে তার ক্যারিয়ারের অবস্থা আসলে বোঝা যাবে ২-১ বছর পর কোথায় অবস্থান করছে। নতুন কোনো ছেলে এলে তাকে নিয়ে লাফালাফির কিছু নেই। তার উন্নতির অনেক জায়গা আছে।”

“সে ধারাবাহিকভাবে উন্নতি করতে থাকুক। তার যদি নিবেদন থাকে, যদি উন্নতি করার ইচ্ছা থাকে, তাহলে দিনশেষে সে ভালো জায়গায় যাবে। প্রতিভা অনেক ছেলেরই থাকে। প্রতিভাবান ছেলেরা আমাদের দেশে খুব তাড়াতাড়িই সুযোগ পায়। অনেকে সেটা ঠিকমতো কাজে লাগায়, অনেকে লাগায় না।”

খ্যাতি আর অর্থের আঁচ ২১ বছর বয়সী ক্রিকেটারের গায়ে এখনও তেমন লাগেনি। সেই সময়টা যখন আসবে, তখনই মাহমুদুলের সত্যিকারের পরীক্ষা হবে বলে মনে করেন সালাউদ্দিন।

“আরও ২-১ বছর যখন ক্রিকেট খেলবে, তখন দর্শকের চাপ, মিডিয়ার চাপ, সব চাপ তার ওপর আসবে। সেসব সে কীভাবে সামলাতে পারে… তারপর ধরেন, টাকা-পয়সার ঝনঝনানি, সেটাও সামলাতে শিখতে হবে তাকে। অনেক কিছুই তাকে পার করতে হবে। তারপর বোঝা যাবে সে কোথায় যাবে।”

সেই কঠিন পরীক্ষায় উতরে গেলে বাংলাদেশের ক্রিকেট আকাশে মাহমুদুল উজ্জ্বল তারা হবেন বলে আশা সালাউদ্দিনের।

“অবশ্যই সে প্রতিশ্রুতিশীল ক্রিকেটার। খুব ঠাণ্ডা মাথার ছেলে। শেখার আগ্রহ আছে তার ভেতর। আমি খুব আশাবাদী, সে বাংলাদেশের খুব বড় ক্রিকেটার হবে।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক