ব্যাটে-বলে মধ্যাঞ্চলের নায়ক মোসাদ্দেক

পাঁচ নম্বরে ব্যাটিংয়ে নেমে অপরাজিত ফিফটি। বল হাতে ইনিংস শুরু করে প্রথম ওভারেই সাফল্য। পরে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট। অলরাউন্ড পারফরম্যান্সে পার্থক্য গড়ে দিলেন মোসাদ্দেক হোসেন। অধিনায়কের নৈপুণ্যে টানা দ্বিতীয় জয়ে ফাইনালের পথে এগিয়ে গেল ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 11 Jan 2022, 01:11 PM
Updated : 11 Jan 2022, 01:11 PM

বাংলাদেশ ক্রিকেট লিগের (বিসিএল) ওয়ানডে সংস্করণ ইন্ডিপেন্ডেন্স কাপে বিসিবি উত্তরাঞ্চলের বিপক্ষে মধ্যাঞ্চলের জয় ২৮ রানে। মঙ্গলবার ২৬৩ রানের লক্ষ্য তাড়ায় উত্তরাঞ্চল থমকে যায় ২৩৪ রানে।

ব্যাটিংয়ে ৫৫ বলে অপরাজিত ৫৪ রানের ইনিংসের পর হাত ঘুরিয়ে ৪১ রানে ২ উইকেট নিয়ে ম্যাচের সেরা মোসেদ্দেক। দলের দুই জয়ের ম্যাচেই ‘ম্যান অব দা ম্যাচ’ হলেন তিনি। আগের ম্যাচে ব্যাটিংয়ে ১৭ রানের পর বোলিংয়ে ১০ ওভারে স্রেফ ১৩ রান দিয়ে একটি উইকেট পেয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী এই ক্রিকেটার।

মধ্যাঞ্চলের হয়ে ব্যাটিংয়ে নামা সাত ব্যাটসম্যানের সবাই দুই অঙ্ক স্পর্শ করেন। পঞ্চাশ ছুঁতে পারেন কেবল মোসাদ্দেক ও আব্দুল মজিদ। ৫৩ রানের ইনিংসে মজিদ বল খেলেন যদিও ৯৬টি।

সাকিব আল হাসান আবারও আউট হন ত্রিশ পেরিয়ে, আগের ম্যাচে ৩৫ রানের পর এবার ৩৩। সৌম্য সরকারের ব্যাট থেকে আসে ৪০, পরে বল হাতে তিনি নেন ২ উইকেট। ৩২ বলে অপরাজিত ৪৩ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন আল আমিন।

উত্তরাঞ্চলের হয়ে টানা দ্বিতীয় ফিফটি করেন নাঈম ইসলাম। অভিজ্ঞ এই ব্যাটসম্যান আগের ম্যাচে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংসে দলের জয় নিয়ে ফিরলেও এবার ৭২ রান করে পেলেন হারের স্বাদ।

সিলেট আন্তর্জাতিক ক্রিকেট স্টেডিয়ামের একাডেমি মাঠে টস হেরে ব্যাটিংয়ে নেমে মধ্যাঞ্চলের শুরুটা ভালো হয়নি। পঞ্চম ওভারে শামীম হোসেনের অফ স্পিনে বোল্ড হয়ে যান মিজানুর রহমান (১০)।

পঞ্চাশোর্ধ জুটিতে দলকে এগিয়ে নেন সৌম্য ও তিনে নামা মজিদ। ফিফটির সম্ভাবনা জাগিয়ে বাঁহাতি স্পিনার সানজামুল ইসলামের বলে মাহমুদউল্লাহকে ক্যাচ দিয়ে সৌম্য বিদায় নেন ৪০ রানে। তার ৬০ বলের ইনিংসে চার ৩টি। ভাঙে ৭৭ রানের জুটি।

মজিদের ফিফটি করতে লাগে ৯০ বল। এরপরই বিদায় নেন তিনি শফিকুলের বল আকাশে তুলে ক্যাচ দিয়ে।

সাকিব শুরুটা করেন সাবধানী। প্রথম বাউন্ডারি পান তিনি ২৪তম বলে, বোলার নাঈমের মাথার ওপর দিয়ে চার মেরে। নাঈমের পরের ওভারে পরপর দুটি চার মারেন তিনি লেগ সাইড দিয়ে।

সাকিব আউট হন বাজেভাবে। মাহমুদউল্লাহকে বেরিয়ে এসে খেলার চেষ্টায় বলের লাইন মিস করে স্টাম্পড হয়ে ফেরেন তিনি। ৩৬ বলে ৪টি চারে গড়া ৩৩ রানের ইনিংসটি।

এরপরই ইনিংসের সেরা জুটি মধ্যাঞ্চল পায় মোসাদ্দেক ও আল আমিনে ব্যাটে। পঞ্চম উইকেটে দুই জনে গড়েন ৮২ রানের জুটি।

শফিকুলের বলে বোল্ড হওয়া আল আমিনের ৪৩ রানের ইনিংস গড়া ৪টি চারে। শেষ ওভারে ৫৪ বলে ফিফটি পূরণের পর শকিফুলের শেষ বলে চার মারেন মোসাদ্দেক। মাঝে ছক্কা হাঁকান জাকের আলি।

পরে বল হাতে ইনিংসের চতুর্থ বলেই তানজিদ হাসানকে এলবিডব্লিউ করে দেন মোসাদ্দেক। দ্বিতীয় উইকেটে ৮৬ রানের জুটিতে দলকে কক্ষপথে রাখেন পারভেজ হোসেন ও নাঈম। এরপরই আবার জোড়া ধাক্কা খায় তারা।

পারভেজকে (৩০) ফিরিয়ে জুটি ভাঙেন নাজমুল ইসলাম। মার্শাল আইয়ুবকে টিকতে দেননি মৃত্যুঞ্জয় চৌধুরি।

মাহমুদউল্লাহর সঙ্গে জুটি বেঁধে নাঈম ফিফটি পূর্ণ করেন ৬৯ বলে। সেঞ্চুরির পথে থাকা এই ব্যাটসম্যানকে ফিরিয়ে ৬৮ রানের জুটি ভাঙেন সৌম্য। ছক্কায় চেষ্টায় লং অফে ক্যাচ দিয়ে শেষ হয় নাঈমের ৯৯ বলে ৮ চার ও একটি ছক্কায় গড়া ৭২ রানের ইনিংসটি।

দলের আশা জিইয়ে রাখেন মাহমুদউল্লাহ। নিজের কোটার শেষ ওভারে এসে তাকে বিদায় করে তাদের সেই আশা প্রায় শেষ করে দেন মোসাদ্দেক। ছক্কার চেষ্টায় বাউন্ডারিতে ধরা পড়েন ডানহাতি ব্যাটসম্যান। ৫৯ বলে ২ চার ও একটি ছক্কায় তিনি করেন ৪৩ রান।

এরপর আরিফুল হক, আকবর আলিরা পারেননি তেমন কিছু করতে। শামীমের ২৯ রানে পরাজয়ের ব্যবধানই কমে শুধু। আকবরকে ফিরিয়ে একমাত্র উইকেটটি সাকিব পান ১০ ওভারে ৪৯ রান দিয়ে। ২১ রানে ৩ উইকেট নেন তরুণ পেসার মৃত্যুঞ্জয়।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

ওয়ালটন মধ্যাঞ্চল: ৫০ ওভারে ২৬২/৫ (মিজানুর ১০, সৌম্য ৪০, মজিদ ৫৩, সাকিব ৩৩, মোসাদ্দেক ৫৪*, আল আমিন ৪৩, জাকের ১৪*; শফিকুল ১০-০-৭১-২, শামীম ১০-০-৩৬-১, স্বাধীন ৮-০-৪৯-০, সানজামুল ৮-০-৩৫-১, নাঈম ৭-০-২৭-০, মাহমুদউল্লাহ ৪-০-২১-১, আরিফুল ৩-০-১৬-০)

বিসিবি উত্তরাঞ্চল: ৫০ ওভারে ২৩৪/৯ (তানজিদ ১, পারভেজ ৩০, নাঈম ৭২, মার্শাল ১, মাহমুদউল্লাহ ৪৩, শামীম ২৯, আরিফুল ৭, আকবর ১২, সানজামুল ১০*; স্বাধীন ৩, শফিকুল ০*; ১০-০২-৪১-২, আবু হায়দার ৫-০-৩৮-০, সাকিব ১০-০-৪৯-১, আল আমিন ৩-১-১৩-০, নাজমূল ৮-১-২৭-১, মৃত্যুঞ্জয় ৬-০-২১-৩, তাইবুর ১-০-৯-০, সৌম্য ৭-০-২৮-২)

ফল: মধ্যাঞ্চল ২৮ রানে জয়ী

ম্যান অব দা ম্যাচ: মোসাদ্দেক হোসেন

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক