মাহমুদুল-মুশফিকের ফিফটি, ব্যর্থ সাদমান-মুমিনুল

অনূর্ধ্ব-১৯ দলের হয়ে দুই বছর আগে নিউ জিল্যান্ড সফরের অভিজ্ঞতা আছে মাহমুদুল হাসানের। সেবার যুব ওয়ানডে সিরিজে এক ম্যাচে করেছিলেন সেঞ্চুরি, আরেকটি ৯৯। এবার জাতীয় দলের হয়ে প্রথম সফরের শুরুটাও খারাপ হলো না তার। প্রস্তুতি ম্যাচে তরুণ ব্যাটসম্যান করলেন ফিফটি। টেস্ট সিরিজের আগে ব্যাটিং অনুশীলন ভালোভাবে সেরে নিলেন মুশফিকুর রহিমও।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Dec 2021, 06:15 AM
Updated : 29 Dec 2021, 06:15 AM

সবার প্রস্তুতি অবশ্য ভালো হয়নি। মাহমুদুলের উদ্বোধনী জুটির সঙ্গী সাদমান ইসলাম ফিরেছেন শূন্য রানে। অধিনায়ক মুমিনুল হকও পারেননি উইকেটে সময় কাটাতে। সম্ভাবনা জাগিয়ে বড় ইনিংস খেলতে পারেননি লিটন দাস, নাজমুল হোসেন শান্তরা।

মাউন্ট মঙ্গানুইয়ে দুই দিনের প্রস্তুতি ম্যাচের দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশ তোলে ৮ উইকেটে ২৬৯ রান।

১১ চারে মাহমুদুল করেন ৬৬, ৭ চার ও ১ ছক্কায় ৬৬ মুশফিক। লিটন ফেরেন ৪১ রানে।

টেস্ট সিরিজের যার চ্যালেঞ্জ সামলাতে হবে, সেই নিল ওয়্যাগনারকে কোনো উইকেট দেয়নি বাংলাদেশ।

বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রথম দিনে খেলা হয়েছিল স্রেফ ২৭.৩ ওভার। বুধবার দ্বিতীয় দিনে পুরোটা খেলা হয়।

৫ উইকেটে ৭১ রান নিয়ে দিন শুরু করে নিউ জিল্যান্ড। ষষ্ঠ উইকেটে ৭৪ রানের জুটি গড়েন জ্যাকব ভুলা ও মা’রা আভি।

আগের দিন দুর্দান্ত বোলিং করা তাসকিন আহমেদকে অবশ্য এ দিন বিশ্রাম দিয়ে আর বোলিং করায়নি বাংলাদেশ। আবু জায়েদ চৌধুরি ও শরিফুল ইসলামও হাত ঘোরান স্রেফ ২ ওভার করে। মূলত এ দিন স্পিনারদের বোলিং অনুশীলন করানো হয়।

সেখানে তাইজুল ইসলাম ভালো করতে পারেননি। তবে সুযোগটা কাজে লাগান মেহেদী হাসান মিরাজ। থিতু হওয়া দুই কিউই ব্যাটসম্যানকেই ফেরান এই অফ স্পিনার। ভুলা থামেন ৫৭ রানে, আভি ৩৩।

নিউ জিল্যান্ড একাদশ ইনিংস ঘোষণা করে ৭ উইকেটে ১৪৬ রান তুলে।

বাংলাদেশ ব্যাটিংয়ে নেমে প্রথম ওভারেই হারায় উইকেট। ব্রেট র‌্যান্ডেলের শিকার হয়ে ফেরেন সাদমান।

মাহমুদুল ও নাজমুল হোসেন শান্ত দ্বিতীয় উইকেটে গড়েন ৫০ রানের জুটি। চার বাউন্ডারিতে ৫৩ বলে ২৭ রান করে ক্রিস্টিয়ান ক্লার্কের বলে এলবিডব্লিউ হন শান্ত।

মাহমুদুলের সঙ্গে মুমিনুলের জুটিও জমে ওঠার পথে ছিল। কিন্তু সেটা থামে ৩২ রানে। ২৭ বলে ৯ রান করে বাংলাদেশ অধিনায়ক বোল্ড হন টিম প্রিঙ্গলের বলে।

মাহমুদুল এক প্রান্ত আঁকড়ে রেখে ফিফটি স্পর্শ করেন ১০৯ বলে। ফিফটির পরও তিনি এগিয়ে যাচ্ছিলেন একইরকম ব্যাটিংয়ে।

দ্বিতীয় স্পেলে আক্রমণে ফিরে র‌্যান্ডেল ফেরান মাহমুদুলকে। প্রায় তিন ঘণ্টা উইকেটে কাটিয়ে ১৩১ বলে ৬৬ রানে আউট হন তিনি।

ইনিংসের সবচেয়ে বড় জুটি পায় বাংলাদেশ এরপরই। পঞ্চম উইকেটে মুশফিক ও লিটন যোগ করেন ৭৪ রান। দুজনই ওয়ানডের গতিতে ব্যাটিংয়ে বাউন্ডারি আদায় করেন বেশ কিছু।

মুশফিক ফিফটি স্পর্শ করেন ৭১ বলে। লিটনও এগিয়ে যাচ্ছিলেন ফিফটির দিকে। কিন্তু আউট হয়ে যান তিনি ৭ চারে ৬৮ বলে ৪১ রান করে।

লিটনের আগেই অবশ্য বিদায় নেন মুশফিক। ৯১ বলে ৬৬ রানে শেষ হয় তার ইনিংস।

এরপর ব্যাটিং অনুশীলনের সামান্য সুযোগ যেটুকু ছিল, কাজে লাগানোর চেষ্টা করেন ইয়াসির আলি চৌধুরি ও মিরাজ। ইয়াসির ভালো শুরু করেও শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকতে পারেননি। আউট হয়ে যান একটি করে চার ও ছক্কায় ২১ রান করে। মিরাজ অপরাজিত থাকেন ৩ চার ও ১ ছক্কায় ২০ রানে।

শেষ দিকে তাসকিন আহমেদ দুই বাউন্ডারিতে ১০ রান করে আউট হওয়ার পর ইতি টানা হয় ম্যাচের।

মাউন্ট মঙ্গানুইতেই নতুন বছরের প্রথম দিনে প্রথম টেস্টে নিউ জিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

নিউ জিল্যান্ড একাদশ ১ম ইনিংস: ৪৮ ওভারে ১৪৬/৭ (ভুলা ৫৭, আভি ৩৩, ওয়্যাগনার ৫*, প্রিঙ্গল ৪*; তাসকিন ৮.৩-৫-২৬-২, আবু জায়েদ ১১-২-৩৬-৩, শরিফুল ৭.৩-৩-১১-০, শহিদুল ৮-৩-২৪-০, তাইজুল ৮-০-৩৪-০, মিরাজ ৫-০-১৪-২)।

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৭৬.৪ ওভারে ২৬৯/৮ (সাদমান ০, মাহমুদুল ৬৬, শান্ত ২৭, মুমিনুল ৯, মুশফিক ৬৬, লিটন ৪১, ইয়াসির ২১, মিরাজ ২০*, তাসকিন ১০; র‌্যান্ডেল ১৩-৫-২৭-২, ওয়্যাগনার ১৪-৪-৩২-০, ম্যাকাই ১১-৩-৩৯-০, ক্লার্ক ১৩-১-৫৩-২, প্রিঙ্গল ১২-১-৫৮-২, লকরোজ )

ফল: ম্যাচ ড্র।