ভারতের ওয়ানডের নেতৃত্বেও রোহিত

ভারত দলের ওয়ানডে অধিনায়কের পদেও থাকছেন না বিরাট কোহলি। এই সংস্করণের নেতৃত্ব দেওয়া হয়েছে রোহিত শর্মাকে। একই সঙ্গে টি-টোয়েন্টিতেও এই ওপেনারকে স্থায়ীভাবে অধিনায়কত্ব দেওয়ার কথা জানিয়েছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড-বিসিসিআই।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Dec 2021, 02:31 PM
Updated : 8 Dec 2021, 04:06 PM

গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দিয়ে এই সংস্করণের নেতৃত্ব ছাড়েন কোহলি। বিশ্বকাপের পর দেশের মাটিতে নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে ভারতকে নেতৃত্ব দেন রোহিত। তখন অবশ্য স্থায়ীভাবে রোহিতকে দায়িত্ব দেওয়ার বিষয়টি বিসিসিআই পরিষ্কার করেনি। এবার সেই সংশয় দূর হলো।

একই সঙ্গে টেস্টের সহ-অধিনায়কও করা হয়েছে রোহিতকে। এতদিন দায়িত্বটি ছিল অজিঙ্কা রাহানের কাঁধে। এই সংস্করণে অধিনায়কত্ব চালিয়ে যাবেন কোহলি।

আসন্ন দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের জন্য বুধবার দল ঘোষণার সঙ্গে নেতৃত্বের এসব বদলের কথা জানায় বিসিসিআই।

রঙিন পোশাকে জাতীয় দলের নেতৃত্বে পরিবর্তনের ডাক গত দুই বছরে অনেকবারই উঠেছে ভারতীয় ক্রিকেটে। সাদা বলের ক্রিকেটে রোহিতের অধিনাকত্বের সাফল্য আর কোহলির ট্রফি খরা মিলিয়ে আলোচনাটা অনেক দিন ধরেই ছিল।

আইপিএলের সফলতম অধিনায়ক রোহিত। তার নেতৃত্বে ফ্র্যাঞ্জাইজি টুর্নামেন্টটির ৫টি শিরোপা জিতেছে মুম্বাই ইন্ডিয়ান্স। এছাড়াও কোহলির চোট-বিশ্রামে নানা সময়ে জাতীয় দলের নেতৃত্বেও রোহিত পেয়েছেন সাফল্য। তার নেতৃত্বে ২০১৮ নিদাহাস ট্রফি ও এশিয়া কাপ জয় করে ভারত।

২০১৭ সালের জানুয়ারিতে স্থায়ীভাবে ভারতের সীমিত ওভারের অধিনায়কত্ব পান কোহলি। ওয়ানডেতে অধিনায়ক হিসেবে তার রেকর্ড অবশ্য দারুণ। এই সংস্করণে ৯৫ ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়ে তার জয় ৬৫টি, হার ২৭টি। সব দেশ মিলিয়ে ওয়ানডেতে ৫০ বা এর বেশি ম্যাচে দেশকে নেতৃত্ব দিয়েছেন ৬০ জন। এর মধ্যে জয়-হারের রেকর্ডে কোহলির ওপরে আছেন কেবল তিন জন।

তবে কোহলির নেতৃত্বে কোনো আইসিসি টুর্নামেন্ট জিততে পারেনি ভারত। ২০১৭ সালে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির ফাইনালে পাকিস্তানের কাছে হেরে হয় রানার্সআপ। ২০১৯ বিশ্বকাপে বিদায় নেয় তারা সেমি-ফাইনাল থেকে। টি-টোয়েন্টি অধিনায়ক হিসেবে কোহলির একমাত্র বিশ্বকাপ গত মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাতে হওয়া আসরটি। যেখানে পাকিস্তান ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে হারা ভারত বিদায় নেয়ে সুপার টুয়েলভ থেকে।  

রাহানে টেস্টের সহ-অধিনায়কত্ব হারালেন হয়তো তার সাম্প্রতিক ফর্মের কারণেই। এই বছরের শুরুতে অস্ট্রেলিয়া সফরে প্রথম টেস্ট খেলে কোহলি দেশে ফেরার পর রাহানের নেতৃত্বেই ঐতিহাসিক সিরিজ জিতেছিল ভারত। অ্যাডিলেইডে প্রথম টেস্টে ৩৬ রানের অলআউট হওয়ার দুঃস্বপ্ন পেছনে ফেলে মেলবোর্নে দ্বিতীয় টেস্টে জিততে বড় ভূমিকা রেখেছিল রাহানের সেঞ্চুরি।  

তারপর থেকেই রাহানের ব্যাটে ভাটার টান। সবশেষ ১৬ টেস্টে তার গড় কেবল ২৪.৩৯, ক্যারিয়ার গড় নেমে গেছে ৪০ এর নিচে। নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে সদ্য শেষ হওয়া সিরিজে কানপুরে প্রথম টেস্টে ৩৫ ও ৪ রান করার পর মুম্বাইয়ে দ্বিতীয় টেস্টে তিনি খেলতে পারেননি চোটের কারণে। দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের টেস্ট দলে অবশ্য আছেন ৩৩ বছর বয়সী এই ব্যাটসম্যান।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক