‘পেশাদার ক্রিকেটারদের ধানক্ষেতেও ভালো খেলতে হবে’

মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামের উইকেটকে অনেক সময়ই মজা করে ‘ধানক্ষেত’ বলা হয় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে। সেই কথা এবার উঠে এলো মুমিনুল হকের কণ্ঠে। উইকেটের আচরণ যেমনই হোক, সেটিকে অজুহাত হিসেবে দাঁড় করানোর সুযোগ দেখেন না বাংলাদেশের টেস্ট অধিনায়ক। তার মতে, ধানক্ষেতে ম্যাচ হলেও খেলতে হবে ভালো।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 3 Dec 2021, 09:19 AM
Updated : 3 Dec 2021, 03:50 PM

এমনিতে টেস্ট ম্যাচের আগে উইকেট আগ্রহের কেন্দ্রে থাকে সবসময়ই। আর খেলা যদি হয় মিরপুরে, কৌতূহল থাকে যেন আরও বেশি। বিভিন্ন সময়ে এই মাঠের উইকেটের আচরণ দেখা গেছে একেকরকম। প্রতিপক্ষ বুঝে নিজেদের মতো উইকেট বানিয়ে বাংলাদেশের সাফল্য যেমন আছে এখানে, তেমনি নিজেদের চাওয়া মতো উইকেট না পাওয়ার ঘটনাও কম নেই।

এই মাঠে টার্নিং উইকেট বানিয়ে ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে স্মরণীয় সাফল্য আছে বাংলাদেশের। আবার একই কৌশল নিয়ে উল্টো অভিজ্ঞতা আছে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে। উপমহাদেশের দলের বিপক্ষে টার্নিং উইকেট বানিয়ে যে লাভ নেই, এটা তাই একরকম প্রমাণিতই।

পাকিস্তানের বিপক্ষে কেমন উইকেট চায় দল, ম্যাচের আগের দিন সংবাদ সম্মেলনে তা স্পষ্টই বলে দিলেন মুমিনুল।

“উপমহাদেশের সবাই স্পিন ভালো খেলে। তাদের বিপক্ষে স্পিনিং উইকেট না করাটাই ভালো। সব দলই তা-ই করে। আমার কাছে মনে হয়, ফ্ল্যাট উইকেটই ভালো। আমার এটাই পছন্দ।”

তবে পছন্দ হলেই যে ব্যাটিং-বান্ধব উইকেট পাওয়া যাবে, তা নিয়ে নিশ্চিত নন অধিনায়ক নিজেই। মিরপুরের উইকেট নিয়ে ম্যাচের আগে হওয়া ধারণা ম্যাচে বদলে যাওয়ার উদাহরণ আছে যথেষ্টই। সব মাথায় রেখেও মুমিনুলের আশা, এবার ভালো উইকেট হবে।

“মিরপুরের উইকেট আমরা সবাই জানি যে, বলা কঠিন…আমার কাছে মনে হয়, সাদা বলে একরকম উইকেট হয়, লাল বলে আরেকরকম। সাদা বলে দুই পাশ থেকে নতুন বল থাকে, তখন বিভিন্ন কিছুর মুখোমুখি হতে হয় ব্যাটসম্যানদের। তবে লাল বল তো একটিই থাকে। আমার কাছে মনে হয়, সাদা বলের চেয়ে ভালো উইকেট হবে লাল বলে।”

তবে দিনশেষে উইকেট যেমনই হোক, ভালো খেলার বিকল্প দেখছেন না মুমিনুল। তার মতে, উইকেটে চাওয়া পূরণ না হলেও নিজেদের মেলে ধরতে হবে।

“পেশাদার ক্রিকেটার হিসেবে উইকেট বা এগুলো নিয়ে অজুহাত দেওয়াটা কখনোই কাম্য নয়। আমিও এটার সঙ্গে একমত হই না। পেশাদার ক্রিকেটারদের যদি ধানক্ষেতেও দেন, ওখানেই ভালো খেলতে হবে। আমার কাছে মনে হয়, অজুহাত না দিয়ে জেতার জন্য আরেকটু পেশাদার হলে আরও ভালো হয়।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক