পরাজয়ের অপেক্ষায় পঞ্চম দিনে বাংলাদেশ

একটি বলের লাইন পড়তে গড়বড়। একটু দুর্ভাগ্যের থাবা। এক মুহূর্তের খামখেয়ালিপনা। চতুর্থ দিনের ওই তিনটি মুহূর্তেই যেন লেখা হয়ে গেল চট্টগ্রাম টেস্টের চূড়ান্ত ভাগ্য। টুকরো তিনটি ছবিতে এক সুতোয় গাঁথা হয়ে গেল বাংলাদেশের ব্যাটিং ব্যর্থতা। হতাশার দিনে বোলিংও নিষ্প্রভ ভীষণরকম। সবকিছু মিলিয়ে পরাজয় এখন দাঁড়িয়ে দুয়ারে।

ক্রীড়া প্রতিবেদকচট্টগ্রাম থেকে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 29 Nov 2021, 12:24 PM
Updated : 29 Nov 2021, 12:24 PM

প্রথম তিন দিনের মতো আরেকবার আলোকস্বল্পতায় খেলা শেষ হলো বেশ আগেই। পার্থক্য কেবল এক জায়গায়। আগের দিনগুলোয় ম্যাচের ভাগ্য ছিল দোলাচলে। চতুর্থ দিন শেষে ম্যাচ পুরোপুরি হেলে একদিকে। জয় নাগালে পেয়েই গেছে পাকিস্তান। এখন স্রেফ মুঠোয় পুরে নেওয়ার আনুষ্ঠানিকতা সারার অপেক্ষা।

চট্টগ্রাম টেস্ট জয়ের জন্য শেষ দিনে পাকিস্তানের প্রয়োজন ৯৩ রান। উইকেট অক্ষত সবকটিই।

চতুর্থ দিনে বাংলাদেশকে দ্বিতীয় ইনিংসে ১৫৭ রানে গুটিয়ে পাকিস্তান পায় ২০২ রানের লক্ষ্য। আবিদ আলি ও আব্দুল্লাহ শফিক অবিচ্ছিন্ন উদ্বোধনী জুটিতে এ দিনই তুলে ফেলেন ১০৯ রান। 

বাংলাদেশের জন্য দিনের শুরুটা ছিল আশা-হতাশার মিশেলে। ৪ উইকেটে ৩৯ রান নিয়ে শুরু করে দিনের প্রথম বলেই হাসান আলিকে দারুণ ফ্লিকে চার মারেন মুশফিকুর রহিম। তৃতীয় বলেই বলের লাইন বোঝার সেই গড়বড়। অফ স্টাম্পের বাইরে পিচ করে তীক্ষ্ণভাবে ভেতরে ঢোকা বল মুশফিক ছেড়ে দেন বাইরে বেরিয়ে যাবে ভেবে। উড়ে যায় তার অফ স্টাম্প।

বড় ভরসাকে হারানোর পর দারুণ লড়াই চালিয়ে যান লিটন দাস ও ইয়াসির আলি চৌধুরি। এবার দুর্ভাগ্যের হানা। শাহিন শাহ আফ্রিদির শর্ট বল ছেড়ে দেন ইয়াসির। কিন্তু ১৪৪ কিলোমিটার গতির বল নিচু হয়ে ছোবল দেয় ইয়াসিরের হেলমেটে। পরের ওভারেই মাঠ ছাড়েন দারুণ খেলতে থাকা অভিষিক্ত ব্যাটসম্যান (৩৬*)।

এরপর মেহেদী হাসান মিরাজ না টিকলেও বাংলাদেশ টিকে ছিল লড়াইয়ে। ইয়াসিরের কনকাশন বদলি নুরুল হাসান সোহান জুটি জমিয়ে তোলেন লিটনের সঙ্গে।

কিন্তু এবার সেই খামখেয়ালিপনা। লং অন সীমানায় ফিল্ডার থাকার পরও আচমকা উড়িয়ে মারেন সোহান। ফিল্ডার ছিলেন সেই সুযোগের অপেক্ষাতেই। ১৫ রান করে তিনি ফেরেন মাথা নিচু করে। দলের বড় লিডের আশাও তখন আসলে ভূপাতিত।

প্রথম ইনিংসের সেঞ্চুরিয়ান লিটন আবারও খেলেন দুর্দান্ত। এবার তাকে ৫৯ রানে থামান আফ্রিদি। বাংলাদেশের লেজও গুটিয়ে যায় দ্রুত। ৪ রানের মধ্যে শেষ ৪ উইকেট হারিয়ে সব সম্ভাবনার সমাধি।

ওই পুঁজি নিয়ে বোলারদের কিছু করা ছিল কঠিন। অভাবনীয় কিছু করা তো বহুদূর, তারা পারেনি নিজেদের স্বাভাবিক পারফরম্যান্সও মেলে ধরতে। আবিদ ও শফিক তাই অনায়াসেই দলকে এগিয়ে নেন জয়ের পথে।

৫৬ রানে দিন শেষ করেন আবিদ, ৫৩ রানে শফিক। তারা দুজন বা কোনো একজন সেঞ্চুরি পাবেন কিনা, উত্তর মিলবে পঞ্চম দিনে। তবে ম্যাচে জিতবে কোন দল, সেই উত্তর এখন মোটামুটি সবারই জানা।

সংক্ষিপ্ত স্কোর:

বাংলাদেশ ১ম ইনিংস: ৩৩০

পাকিস্তান ১ম ইনিংস: ২৮৬

বাংলাদেশ ২য় ইনিংস: ৫৬.২ ওভারে ১৫৭ ( আগের দিন ৩৯/৪) (মুশফিক ১৬, ইয়াসির ৩৬ (আহত অবসর), লিটন ৫৯, মিরাজ ১১, সোহান ১৫, তাইজুল ০, আবু জায়েদ ০, ইবাদত ০*; আফ্রিদি ১৫-৮-৩২-৫, হাসান ১১-০-৫২-২, ফাহিম ৮-৩-১৬-০, নুমান ৯-৩-২৩-০, সাজিদ ১৩.২-১-৩৩-৩)।

পাকিস্তান ২য় ইনিংস: (লক্ষ্য ২০২) ৩৩ ওভারে ১০৯/০ (আবিদ ৫৬*, শফিক ৫৩*; তাইজুল ১৬-৩-৩৭-০, ইবাদত ৫-১-২৩-০, মিরাজ ১০-২-৩৬-০, আবু জায়েদ ২-০-১৩-০)।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক