সাইফ কেন টি-টোয়েন্টি দলে

সাইফ হাসান নিজেও কি চমকে গেছেন? তার মনের কথা হয়তো জানা যাবে না। তবে বাংলাদেশ ক্রিকেটের জন্য চমক জাগানিয়া অবশ্যই। বিশ্বকাপের পর বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি দলে পরিবর্তন বেশ কিছুই হলো। সেখানে সবচেয়ে বড় বিস্ময় নিঃসন্দেহে সাইফ হাসানকে দলে নেওয়া। প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল আবেদীনের ব্যাখ্যায় বিস্ময় ও প্রশ্নের পালা বাড়ল আরও।

ক্রীড়া প্রতিবেদকবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 16 Nov 2021, 02:31 PM
Updated : 16 Nov 2021, 02:31 PM

বয়সভিত্তিক ক্রিকেট থেকেই সাইফকে মনে করা হয় বড় দৈর্ঘ্যের ক্রিকেটের উপযোগী ব্যাটসম্যান। তিনি নিজেও সেভাবেই গড়েছেন নিজেকে। ৫টি টেস্টও এর মধ্যে খেলে ফেলেছেন তিনি বাংলাদেশের হয়ে। সেখানে তার টেকনিক, পায়ের কাজ ও টেম্পারামেন্ট, ঘাটতি ফুটে উঠেছে সব জায়গায়। যেখানে তার টেস্ট সামর্থ্য নিয়েই প্রশ্ন উঠছে, সেখানে হুট করে নেওয়া হলো নতুন চ্যালেঞ্জে।

ঘরোয়া ক্রিকেটে বা নানা সময় ইমার্জিং দল ও ‘এ’ দলে বড় বড় ছক্কা তাকে মারতে দেখা গেছে বটে। তবে আগ্রাসী ব্যাটসম্যান নন তিনি কখনোই। টি-টোয়েন্টির জন্য যথেষ্ট উপযুক্ত কিনা, তার ব্যাটিং নিয়ে এই প্রশ্ন ওঠে এমনকি ঘরোয়া ক্রিকেটেও।

গত জুনে ঢাকা প্রিমিয়ার লিগ টি-টোয়েন্টিতে ১৪ ইনিংসে ২৮.০৭ গড়ে ৩৬৫ রান করেন সাইফ। স্ট্রাইক রেট ছিল মোটে ১১৩।

দল ঘোষণার সংবাদ সম্মেলনে সাইফকে দলে নেওয়ার প্রসঙ্গে কোনো প্রশ্নই হয়নি। তবে বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের সঙ্গে আলাপচারিতায় পরে প্রধান নির্বাচক বললেন সাইফকে নেওয়ার কারণ।

“ওকে টি-টোয়েন্টিতে রেখেছি কারণ হলো, পাকিস্তানের জোরে বোলার আছে (গতিময় পেসার)। স্টেবল একজন ব্যাটসম্যান আমাদের দরকার। বিশ্বকাপে ওপেনাররা প্রতি ম্যাচেই দ্রুত আউট হয়েছে। এটা নিয়ে আমাদের দুর্ভাবনা আছে। সাইফকে তাই ভেবেছি।”

লিটন দাস ও সৌম্য সরকার বাদ পড়ার পর এখন টি-টোয়েন্টি দলের এক নম্বর ওপেনার যিনি, সেই মোহাম্মদ নাঈম শেখও অনেকটা সাইফের ঘরানারই ব্যাটসম্যান। ‘স্টেবল’ করার কাজটা তার পারারই কথা! তাহলে একইরকম আরেকজন কেন দরকার, সেই প্রশ্নে মিনহাজুল বললেন বাংলাদেশ ক্রিকেটের পুরনো আরেক যুক্তির কথা।

“নাঈম শেখ আছে বটে, কিন্তু আমাদের ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশন ভাবতে হয়েছে। আমরা (নির্বাচক কমিটি) শুধু নই, কোচ, টিম ডিরেক্টর, সবাই মিলেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”

প্রধান নির্বাচকের এই কথায় ইঙ্গিত, এই সিদ্ধান্ত পুরোপুরি তাদের কমিটির নাও হতে পারে। টিম ম্যানেজমেন্টের একটি সূত্র থেকে নিশ্চিতও হওয়া গেছে, কোচ রাসেল ডমিঙ্গো ডানহাতি-বাঁহাতি কম্বিনেশনের পক্ষে প্রবল জোর দেওয়াতেই মূলত সাইফকে নেওয়া হয়েছে। নাঈম-সাইফ ছাড়া দলে ওপেন করার মতো আছেন নাজমুল ইসলাম শান্ত। নাঈম আর শান্ত বাঁহাতি হওয়ায় মূলত ডানহাতি বিকল্প বেছে নিয়েছে দল।

‘টিম ডিরেক্টর’ খালেদ মাহমুদের তত্ত্বাবধানে গত কিছুদিন ধরে যে কজন ক্রিকেটার অনুশীলন করছিলেন, সেই গ্রুপে ছিলেন সাইফ। ছিলেন তরুণ ওপেনার পারভেজ হোসেন ইমনও। টি-টোয়েন্টির জন্য পারভেজের ব্যটিং অনেক বেশি উপযোগী। স্বীকৃত টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশের দ্রুততম সেঞ্চুরিয়ান তিনি, হাতে জোর অনেক, ব্যাটিং তার ভয়ডরহীন। কিন্তু ‘বাঁহাতি’ হওয়াটাই বিপক্ষে গেছে তার এখানে।

প্রধান নির্বাচক মিনহাজুল অবশ্য পারভেজকে না নেওয়ার আরেকটি কারণের কথাও বললেন।

“ইমনকে নিয়ে অনেক আলোচনা হয়েছে। তবে ওর ফিটনেসে একটু ঘাটতি মনে হয়েছে এই কদিনে। অনেক দিন ধরে প্রক্রিয়ার মধ্যে ছিল না। সামনে ওর সুযোগ আসবে অবশ্যই।”

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক