ইসিবির নতুন মডেলের চুক্তিতে মালান-লিচ-রবিনসন

লাল ও সাদা বলের পৃথক কেন্দ্রীয় চুক্তির ধারা থেকে সরে এসেছে ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি)। নতুন মডেলের চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন দাভিদ মালান, জ্যাক লিচ ও অলিভার রবিনসন। বোর্ডের কেন্দ্রীয় চুক্তিতে ফিরেছেন মইন আলি।

স্পোর্টস ডেস্কবিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকম
Published : 8 Oct 2021, 03:44 PM
Updated : 8 Oct 2021, 03:44 PM

ইসিবি শুক্রবার ২০২১-২২ মৌসুমের জন্য কেন্দ্রীয় চুক্তির তালিকা ঘোষণা করে। সংস্করণভেদে চুক্তির পদ্ধতি থেকে বেরিয়ে এসে তারা সব সংস্করণের ২০ জন ক্রিকেটারকে এই চুক্তিতে রেখেছে।

ইংলিশদের লাল ও সাদা বলের আলাদা চুক্তি দেওয়া শুরু হয় ২০১৬ সাল থেকে। কিন্তু গত ১২ মাসে পূর্বের এই কেন্দ্রীয় চুক্তি নিয়ে বেশ সমালোচিত হতে হয় ইসিবিকে।

২০২০-২১ মৌসুমের জন্য দেওয়া লাল বলের চুক্তিতে ছিলেন না কোনো স্পিনার। অথচ গত শীতে এশিয়ায় ছয়টি টেস্ট খেলেছিল ইংল্যান্ড। আবার কেবল সাদা বলের চুক্তিতে রাখা হয়েছিল মার্ক উডকে। আগামী অ্যাশেজ সিরিজের প্রস্তুতিতে তিনিই আবার টেস্ট দলের মূল ক্রিকেটারদের একজন।

ক্রিকেটার, টিম ইংল্যান্ড প্লেয়ার পার্টনারশিপ (টিইপিপি) ও প্রফেশনাল ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের সঙ্গে আলোচনার পর নতুন এই মডেলটি তৈরি করেছে ইসিবি। বোর্ডের পরিচালক অ্যাশলে জাইলস মনে করছেন, এবার ক্রিকেটারদের চুক্তি প্রদানের পদ্ধতিটি ঠিক হয়েছে।

“নতুন এই পদ্ধতি তৈরির প্রক্রিয়ায় গঠনমূলক ভূমিকা রাখার জন্য টিইপিপি ও খেলোয়াড়দের ধন্যবাদ জানাতে চাই। আমার বিশ্বাস, সব সংস্করণের ক্রিকেটারদের পুরস্কৃত করার সবচেয়ে সুন্দর এবং স্বচ্ছ উপায় এটি।”

চুক্তিতে ক্রিকেটারদের রাখার মানদণ্ড ছিল, আগামী ১২ মাসে সংস্করণভেদে অংশগ্রহণের সম্ভাবনা ও গত বছরের পারফরম্যান্স। ফলে টেস্ট ক্রিকেট থেকে অবসর নিলেও ২০১৯-২০ মৌসুমের লাল বলের কেন্দ্রীয় চুক্তি হারানো মইন আছেন এবারের চুক্তিতে। এই স্পিনিং অলরাউন্ডার আছেন ইংল্যান্ডের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ দলে। খেলছেন ওয়ানডে ক্রিকেটও। তাকে সাদা বলের ক্রিকেটের গুরুত্বপূর্ণ একজন হিসেবেই দেখছে ইসিবি।

প্রথমবারের মতো ইসিবির কেন্দ্রীয় চুক্তিতে জায়গা পেয়েছেন মালান, লিচ ও রবিনসন। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর ব্যাটসম্যান মালান। গত মার্চে তিনি এই সংস্করণে দ্রুততম এক হাজার রানের রেকর্ড গড়েছেন। ভারত সিরিজ দিয়ে ২০১৮ সালের পর ফিরেছেন টেস্ট দলেও।

অভিষেকের পর ইংল্যান্ড টেস্ট দলের নিয়মিত সদস্য হয়ে উঠেছেন রবিনসন। এখন পর্যন্ত পাঁচ টেস্ট খেলে ১৯.৬০ গড়ে নিয়েছেন তিনি ২৮ উইকেট। লিচ সবশেষ টেস্ট খেলছেন গত মার্চে, ভারতের মাটিতে। ২০২১ এর গ্রীষ্মে ভারত ও নিউ জিল্যান্ডের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে না খেললেও তাকে চুক্তিতে রাখা হয়েছে।

টেস্ট দল থেকে বাদ পড়লেও জ্যাক ক্রলিকে চুক্তিতে রেখেছে ইংলিশ বোর্ড। তবে জায়গা হয়নি ডম সিবলি ও হাসিব হামিদের, যিনি লম্বা সময় পর দলে ফিরেছিলেন ক্রলির জায়গায়। প্রত্যাশিতভাবে জফ্রা আর্চার ও বেন স্টোকসকেও রাখা হয়েছে ২০ জনের চুক্তিতে।

ডম বেস, ক্রিস জর্ডান, টম কারান ও লিয়াম লিভিংস্টোনকে ইনক্রিমেন্ট কন্ট্রাক্টে রেখেছে ইসিবি। আর পেস বোলিং চুক্তিতে আগের মতোই আছেন অলি স্টোন, ক্রেইগ ওভারটন ও সাকিব মাহমুদ।

ইনক্রিমেন্ট চুক্তিতে তাদেরই রাখা হয়, যারা মূল চুক্তিতে জায়গা না পেলেও দলে মোটামুটি নিয়মিত। তাদের সামনে সুযোগ থাকে, নিয়মিত একাদশে জায়গা পেয়ে একটা নিদিষ্ট সংখ্যক পয়েন্ট অর্জন করে মূল চুক্তিতে ঢোকার। তাদের ওপর বোর্ডের পূর্ণ কর্তৃত্ব থাকে না, তবে কিছুটা অধিকার থাকে।

কেন্দ্রীয় চুক্তির ক্রিকেটার: মইন আলি, জেমস অ্যান্ডারসন, জফ্রা আর্চার, জনি বেয়ারস্টো, স্টুয়ার্ট ব্রড, ররি বার্নস, জস বাটলার, জ্যাক ক্রলি, স্যাম কারান, জ্যাক লিচ, দাভিদ মালান, ওয়েন মর্গ্যান, অলি পোপ, আদিল রশিদ, অলিভার রবিনসন, জো রুট, জেসন রয়, বেন স্টোকস, ক্রিস ওকস, মার্ক উড।

ইনক্রিমেন্ট কন্ট্রাক্ট ক্রিকেটার: ডম বেস, টম কারান, ক্রিস জর্ডান, লিয়াম লিভিংস্টোন।

পেস বোলিং ডেভেলপমেন্ট চুক্তির ক্রিকেটার: সাকিব মাহমুদ, ক্রেইগ ওভারটন, অলি স্টোন।

তৌফিক ইমরোজ খালিদী
প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক